মাসুদ আজহারের দুই সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়া ও ফলাহ-ই-ইনসানিয়তের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে টানা অভিযান চলেছে বলে দাবি সেদেশের সেনার। বুধবার তারা দাবি করেছে, সে দেশের মাটিতে জইশের কোনও অস্তিত্বই নেই।তবে সব কিছু ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন জইশ ই মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহার। প্রকাশ করলেন হুমকি অডিয়ো। পাকিস্তানের উদারপন্থীদের দিলেন হুমকিও।

জইশ ই মহম্মদের চ্যাট প্ল্যাটফর্মে অডিয়ো বার্তা প্রকাশ করেছেন মাসুদ সম্প্রতি, বলছে সংবাদ সংস্থা । সেখানে পুলওয়ামা হামলা, ভারত, পাকিস্তান সবকিছু নিয়ে কথা বলেছেন মাসুদ।আজহার তাঁর বক্তৃতা শুরু করেন তাঁর মৃত্যু নিয়ে যে সমস্ত খবর প্রচার কছে মিডিয়া, তার সবটাই ভুয়ো বলে।

বক্তৃতার পরবর্তী অংশে মাসুদ কথা বলেছেন, মালালা ইউসুফজাইয়ের মতো উদারপন্থী শিক্ষিত পাকিস্তানি নাগরিকদের নিয়ে। তাঁর দাবি, ‘‘এ জাতীয় লোকজন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের পক্ষে ক্ষতিকারক।’’ মাসুদের মত, এ জাতীয় উদারপন্থীরা জিয়া উল হকের নেতৃত্বে পাকিস্তানের যে ইসলামিকরণ শুরু হয়েছিল তা পছন্দ করেন না। শরিয়তিকরণে দিকেই এগোচ্ছিলেন হক। উনিই পাকিস্তানকে ‘ইসলাম রাজনীতি’-র গ্লোবাল সেন্টারে পরিণত করার জন্য প্রতি়জ্ঞাবদ্ধ ছিলেন।

আরও পড়ুন: ভারতে সন্ত্রাসবাদ হামলা কবে, কোথায়

মাসুদের দাবি, পাক রাজনীতিকরা ভারতের রাজনীতি বুঝতেই পারছেন না। ভারত পাকিস্তানকে সব দিক থেকে কোণঠাসা করতে চাইছে, এমনটাও বলেছেন তিনি অডিয়োবার্তায়।

আরও পড়ুন: জম্মু বাসস্ট্যান্ডে গ্রেনেড বিস্ফোরণ, গুরুতর জখম ২৮

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মহম্মদ কুরেশিকে এক হাত নিয়ে মাসুদ বলেন, চাপের মুখে পড়েই কুরেশি বলতে বাধ্য হয়েছেন পাকিস্তানের মাটিতে জইশের অস্তিত্ব নেই।

আরও পড়ুন: ‘অপরাধ’ কাশ্মীরি, যোগী রাজ্যে রক্তাক্ত দুই ফল বিক্রেতার ভিডিয়ো পোস্ট করলেন অভিযুক্তই!

এরই মধ্যে পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি বলেছেন, নয়াদিল্লিতে পাক হাই কমিশনারকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তাঁর দাবি,  শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতেই এই পদক্ষেপ। দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস ভারত ও পাকিস্তানের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

পুলওয়ামায় হামলার দায় জইশের স্বীকার করে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে সেনা মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর দাবি করেন, পাকিস্তান থেকে এমন কোনও কথা বলা হয়নি। এ ছাড়া, মাসুদের সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযানও কারও চাপে করা হয়নি। পাক সেনা মুখপাত্র বলেন, ‘‘গোটা বিশ্বের উচিত জঙ্গি মোকাবিলায় পাকিস্তানকে সাহায্য করা।’’