ঐতিহাসিক করতারপুর করিডর ধরে সীমান্তের ওপার থেকে ফের শান্তির বার্তা পাঠালেন ইমরান খান। বললেন, ‘‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুই প্রতিপক্ষ ফ্রান্স-জার্মানি পারলে ভারত-পাকিস্তান কেন পারবে না শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে।’’ যদিও ভারত স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছে, করতারপুর করিডরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কোনও সম্পর্ক নেই। সন্ত্রাস বন্ধ না হলে আলোচনা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়, সে কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিদেমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। আর সেই সন্ত্রাসের প্রশ্নে নীরবই রইলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। আর ‘কাপ্তান’ ইমরানের ক্রিকেট-বন্ধু নভজ্যোৎ সিংহ সিধু শের-শায়েরিতে বলে এলেন, ‘ইয়ার দিলদার ইমরান খান’।

ঐতিহাসিক ধরে সীমান্তের ওপার থেকে ফের শান্তির বার্তা পাঠালেন । বললেন, ‘‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুই প্রতিপক্ষ ফ্রান্স-জার্মানি পারলে ভারত-পাকিস্তান কেন পারবে না শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে।’’ যদিও সন্ত্রাস নিয়ে নীরবই রইলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। আর ‘কাপ্তান’ ইমরানের ক্রিকেট-বন্ধু নভজ্যোৎ সিংহ সিধু শের-শায়েরিতে বলে এলেন, ‘ইয়ার দিলদার ইমরান খান’।

শপথ গ্রহণের পরই বলেছিলেন, ‘‘ভারত এক পা এগোলে তিনি দু’কদম বাড়াবেন।’’ এ বার উপলক্ষ করতারপুর করিডর। ভারত-পাক সম্পর্কের শীতলতায় কিছুটা হলেও উষ্ণতা নিয়ে এসেছে। আর সেই সূচনার মঞ্চেই ইমরান খান বোঝাতে চাইলেন, পাক সরকার বা তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ (পিটিআই) শুধু নয়, সীমান্তের ওপারের সব পক্ষই শান্তি চায়। বলেন, যখনই আমি ভারতে গেছি, সেখানকার মানুষ বলেছেন, পাক সেনা শান্তিতে আগ্রহী নয়। কিন্তু আমি বলছি, প্রধানমন্ত্রী আমি, আমাদের দল, অন্য রাজনৈতিক দল, আমাদের সেনা —আমাদের সবার অবস্থান এক। আমরা সবাই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই।’’

ইমরান যখন একথা বলছেন, তখনও সামনের সারিতেই বসে পাক সেনাপ্রধান কামার বাওয়েজা। সরকারের উপর সেনার ছড়ি ঘোরানোর অভিযোগ পাকিস্তানে বরাবরই চলে আসছে। জন সাধারণ বা সরকারি অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান কেন থাকবেন, সে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও কামার বাওয়েজা স্বমহিমাতেই এদিনও মঞ্চ আলো করে ছিলেন।

আবার ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসে পাক সেনার মদতের প্রসঙ্গ বেআব্রু হয়ে পড়েছে এদিনের মঞ্চেই। অনুষ্ঠানে হাজির খালিস্তানপন্থী শিখ জঙ্গি গোপাল সিংহ চাওলা। তাঁকে আবার বাওয়েজার সঙ্গে হাত মেলাতেও দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি অমৃতসরে নিরঙ্করী ভবনে জঙ্গি হানায় তিন জনের মৃত্যুর ঘটনায় নাম জড়িয়েছে এই চাওলার। লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গেও তার যোগ রয়েছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

আরও পড়ুন: করতারপুর করিডর মানেই আলোচনা নয়, সার্কের আমন্ত্রণ ফিরিয়ে কড়া বার্তা সুষমার

ইমরান এদিন আরও বলেন, ‘‘৭০ বছর ধরে আমরা শুধুই একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছি। ভারত আমাদের দিকে আঙুল তোলে, আমরা এলওসির ওপারের দিকে। দু’পক্ষেরই ভুল ভ্রান্তি আছে। কিন্তু আর কত দিন এভাবে আঙুল তোলার খেলায় মেতে থাকব। যখনই আমরা এক পা এগোই, দু’পা পিছলে যাই।’’

শুধুমাত্র মানবিকতার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই এই কাশ্মীর সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মত ইমরানের। আমাদের দু’জনেরই একটি উদ্দেশ্য রয়েছে, সেটা হল কাশ্মীর সমস্যার সমাধান। মানুষ হিসাবে আমরা কি সেই সমস্যার সমাধান করতে পারি না? আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এটা সম্ভব। আমাদের শুধু ইচ্ছা এবং স্বপ্ন থাকতে হবে। শান্তির জন্য সমস্ত মতপার্থক্য কবর দিয়ে সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিতে হবে।’’ ফ্রান্স-জার্মানির উদাহরণ তুলে ধরেও শান্তির বার্তা দিয়েছেন ইমরান।

আরও পড়ুন: পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে ভারতের অংশ দেখাল চিনা সংবাদমাধ্যম

বুধবারই সার্ক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ইসলামাবাদের আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়েছে ভারত। বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সন্ত্রাস বন্ধ না হলে আলোচনা নয়। করতারপুর আর দ্বিপাক্ষিক আলোচনা যে এক নয়, সেকথাও বুঝিয়ে দিয়েছেন। অথচ ইমরানের বক্তব্যে একবারও সেই সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ আসেনি। একটি শব্দও খরচ করেননি জঙ্গি, সন্ত্রাস নিয়ে।

ভারতের হয়ে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে গিয়েছেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কউর বাদল এবং হরদীপ সিং পুরী। আর নিজের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন পঞ্জাবের মন্ত্রী নভজ্যোৎ সিং সিধু। তাঁর আসন ছিল সামনের সারিতেই। যদিও প্রোটোকলের কারণে কিছুটা পিছনের দিকে ছিলেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে সিধু বলেন, করতারপুর করিডরের হাত ধরেই দু’দেশের হৃদয় উন্মুক্ত হবে।

(আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক চুক্তি, আন্তর্জাতিক বিরোধ, আন্তর্জাতিক সংঘর্ষ- সব গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের আন্তর্জাতিক বিভাগে।)