পৃথিবীর সব থেকে ‘দামি’ ছবি। এক বছর আগেই ৪৫ কোটি ডলারে এক নিলাম হয়েছে। এ বার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দাবি করছেন, ছবিটি জাল!

লিয়োনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা ‘সালভাতোর মুন্দি’ বা ‘পৃথিবীর পরিত্রাতা’। যিশুর এই প্রতিকৃতিটি ‘শেষ লিয়োনার্দো’ বলেই পরিচিত শিল্পমহলে। শিল্প গবেষকেরা বলেন, লিয়োনার্দোর এটাই শেষ বড় কাজ। কিন্তু ছবিটি আদৌ তাঁর আঁকা কি না, সেই বিতর্ক প্রবল হওয়ায় তার প্রদর্শনী অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত রাখল ল্যুভ্‌রের আবু ধাবি শাখা।

ইতিহাস বলে, ফরাসি সম্রাট দ্বাদশ লুইয়ের জন্য ১৫০০ সালে ছবিটি আঁকা শুরু করেন লিয়োনার্দো। তাঁর আঁকা অন্যান্য ছবির মতোই এই ছবিরও প্রচুর খসড়া করেছিলেন শিল্পী। সেই সব খসড়া পাওয়া গেলেও ১৮ শতকের মাঝামাঝি থেকে বেপাত্তা হয়ে যায় মূল ছবিটি। ফের সেটির সন্ধান মেলে ২০০৫ সালে। দশ হাজার ডলারে নিউ অর্লিয়্যান্সের একটি নিলাম সংস্থা থেকে সেটি কিনে নেন এক দল শিল্প সংগ্রাহক। রেনেসাঁস আমলের ছবি মনে হলেও তখন কারও ধারণাই ছিল না যে, এটি দা ভিঞ্চির আঁকা। না-বোঝার প্রধান কারণ, তত দিনে মূল ছবির ওপরে বেশ কয়েক প্রলেপ রং চাপানো হয়ে গিয়েছে। ধীরে ধীরে সেই রঙের আস্তরণ সরিয়ে বেরিয়ে আসে দা ভিঞ্চির আঁকা ছবি। তার পর থেকে বেশ কয়েক বার নিলামে উঠেছে ছবিটি। গত বছর ১৫ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্কের ক্রিস্টিজ়ে ছবিটি রেকর্ড দামে বিক্রি হয়। ৪৫ কোটি ডলারে (৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি)  সেটি কিনে নেন সৌদি আরবের এক রাজকুমার। ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা ছবির মধ্যে এটিই সব থেকে দামি ছবি। সৌদির সেই রাজকুমার আবু ধাবি ল্যুভ্‌রে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন। 

ছবিটি লিয়োনার্দোর আঁকা নয় বলে যাঁরা দাবি করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প গবেষক ম্যাথু ল্যান্ড্রাস। ২০০৬ সালে লিয়োনার্দোর শিল্পকর্ম নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন তিনি। আগামী মাসে বেরোবে সেই বইয়ের সংশোধিত সংস্করণ। সেখানেই ‘সালভাতোর মুন্দি’ নিয়ে তাঁর এই তত্ত্ব সবিস্তার ব্যাখ্যা করবেন ম্যাথু।

কী বলেছেন গবেষক?

ম্যাথুর কথায়, ‘‘এটা ‘লিয়োনার্দোর ছবি’ বটে, কিন্তু তাঁর সহকারীদের আঁকা। বিশেষত বার্নার্দিনো লুইনির অবদান চোখে পড়ার মতো। যদি জিজ্ঞাসা করেন কার আঁকা ছবি, আমার উত্তর হবে— লিয়োনার্দো ও তাঁর স্টুডিয়ো!’’

কে এই বার্নার্দিনো লুইনি? ১৪৮০ সালে জন্মেছিলেন উত্তর ইটালির এই রেনেসাঁস শিল্পী। লিয়োনার্দোর সঙ্গে কাজ করেছিলেন বহু বছর। তাঁর আঁকা ‘দ্য ম্যাডোনা অ্যান্ড দ্য চাইল্ড’ সম্প্রতি লন্ডনে ১ লক্ষ ৭৩ হাজার পাউন্ডে (১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা) নিলাম হয়েছে। 

তবে ম্যাথু মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘একটা ছবির পিছনে অনেক শিল্পী কাজ করছেন, ষোড়শ শতকে এটা হামেশাই হত। তাই এই ছবিটির শিল্পী কে, এই প্রশ্নের উত্তর সাদা-কালোয় দেওয়া যাবে না। মাঝের ধূসর অংশটাকেও মর্যাদা দিতে হবে।’’ 

বিতর্ক চলবেই। আপাতত শিল্প অনুরাগীদের আশা, আবু ধাবির সংগ্রহশালায় যদি এক বার দেখা যায় ‘লিয়োনার্দোর’ যিশুকে।