সঙ্গীতেই খুঁজে পেয়েছি আমার গল্পটা, সাহায্য করেছে গান— লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্র্যামির মঞ্চে রবিবার রাতে ভেসে এল তাঁর কণ্ঠ। সবাইকে চমকে দিয়ে হঠাৎই হাজির প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা! কালো ঝলমলে পোশাকে তাঁকে দেখেই হাততালির ঝড়। 

মঞ্চে তখন মহিলারা ঘিরে মিশেলকে। লেডি গাগা, জাডা পিঙ্কেট স্মিথ, জেনিফার লোপেজ় আর সঙ্গে উপস্থাপিকা অ্যালিসিয়া কিজ়। কথা শুরু করেও হাততালির ঝড়ে থেমে যেতে হচ্ছিল মিশেলকে। পরে তিনি বলেন, ‘‘সঙ্গীতই আমার গল্পটা বলতে সাহায্য করেছে সব সময়ে। আর আমি জানি, এখানে উপস্থিত সবার ক্ষেত্রেই সেটা সত্যি। লোকগান, র‌্যাপ বা রক— সব ধরনের গানই আমাদের সত্তাকে ছুঁয়ে যায়। আত্মমর্যাদা, দুঃখ, আশা আর আনন্দ ভাগ করে নিতে সাহায্য করে। সঙ্গীতের জন্যই আমরা একে অপরের কথা শুনি। অপরকে কাছে ডাকি।’’ এর পরে মঞ্চে মহিলাদের দিকে তাকিয়ে মিশেলের মন্তব্য, ‘‘প্রতিটি স্বরের প্রতিটি গল্প, প্রতিটি গানের প্রতিটি সুর— সব কিছু নিয়েই সঙ্গীত। তাই তো বন্ধুরা?’’ ফের হাততালিতে থেমে যায় কথা!

অনুষ্ঠান শেষে মিশেলের টুইটার পোস্টেও বান্ধবীদের কথা। লেডি গাগা, জাডা পিঙ্কেট স্মিথ, জেনিফার লোপেজ় এবং অ্যালিসিয়া কিজ়ের সঙ্গে নিজের ছবি দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘‘তোমাদের বন্ধুত্বের জন্য—আমি ওখানে গিয়েছিলাম বিশেষত অ্যালিসিয়ার জন্য। যে সব খাঁটি এবং চিন্তাশীল মানুষকে আমি চিনি, ও তাঁদের মধ্যে অন্যতম।’’

গ্র্যামি পুরস্কারের তালিকায় এ বার আলাদা করে শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছেন লেডি গাগা। গ্র্যামি তিনি আগেও বহু জিতেছেন। এ বারই একসঙ্গে তিনটি। তবে শুধু ‘মিউজ়িক্যাল রোম্যান্টিক’ ছবি ‘আ স্টার ইজ় বর্ন’-এ ‘শ্যালো’-র জন্য দু’টি গ্র্যামি জয় বা নিজের অ্যালবাম ‘জোয়্যান’-এর (হোয়্যার ডু ইউ থিঙ্ক ইউ আর গোয়িং) জন্য আর একটি গ্র্যামি ছিনিয়ে নিয়ে নয়। বরং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে দ্বিধাহীন ভাবে কথা বলে অনেক বেশি করে আলোচনায় রইলেন ৩২-এর সঙ্গীতশিল্পী এবং অভিনেত্রী লেডি গাগা। ট্রফি হাতে আবেগতাড়িত শোনাচ্ছিল তাঁর গলা, ‘‘আর যদি এটা বলার সুযোগ না পাই...। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হয়েছে, এমন একটা ছবির অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক শিল্পীকেই এই নিয়ে লড়াই করতে হয়। আমাদের প্রত্যেককেই অন্যের যত্ন নিতে হবে। কাউকে আঘাত পেতে দেখে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না। আর নিজে যদি কষ্ট পান, তা হলে সাহস দেখিয়ে কারও সঙ্গে তা ভাগ করে নিন। জানি এটা খুব কঠিন, তবু সেটা মাথায় রাখুন।’’ এর আগেও নানা জায়গায় মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মুখ খুলেছেন লেডি গাগা। 

এ বার প্রথম গ্র্যামি জিতে চর্চায় পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্ডেও। সেরা পপ অ্যালবাম হয়েছে আরিয়ানার ‘সুইটনার’। ছ’বার মনোনয়ন পাওয়ার পরে এ বার আরিয়ানার জয়। কিন্তু এ বার গ্র্যামি মঞ্চে হাজির হননি পপ তারকা। গত কয়েক দিনে প্রযোজকদের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ২৩-এর এই সঙ্গীতশিল্পী। টুইটে আরিয়ানার অভিযোগ, গ্র্যামি মঞ্চে তাঁর অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে মিথ্যে রটাচ্ছেন প্রযোজকরা।   

 গ্র্যামি মঞ্চে আর এক চমক প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। ৯৪ বছর বয়সে দ্বিতীয় বার গ্র্যামি পেলেন তিনি, অডিয়োবুক ‘ফেথ: আ জার্নি ফর অল’-এর জন্য। ‘বেস্ট স্পোকেন ওয়ার্ড অ্যালবাম’ ক্যাটেগরিতে। ভাল ও খারাপ সময়ে কী ভাবে মনের বিশ্বাস তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে, তার কথা অডিয়োবুকে বলেছেন তিনি। এর আগে প্রাক্তন আরও দুই মার্কিন প্রেসিডেন্টের গ্র্যামি জেতার রেকর্ড রয়েছে। বিল ক্লিন্টন এবং বারাক ওবামা। দু’জনেই পেয়েছিলেন দু’টি করে গ্র্যামি। অডিয়োবুকের জন্যই।