দেশের মাটিতে অবাধে বিচরণকারী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিক পাকিস্তান। সেই সঙ্গে মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী হাফিজ সইদ-সহ ধৃত চার শীর্ষ লস্কর জঙ্গির বিরুদ্ধেও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হোক। এফএটিএফ বৈঠকের আগে ইমরান খান সরকারের উপর চাপ বাড়িয়ে এমনটাই জানাল আমেরিকা

সন্ত্রাসে আর্থিক মদত বন্ধ করা নিয়ে নজরদারি সংস্থা ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)-এর বৈঠক হবে চলতি মাসেই। ওই বৈঠকেই স্থির হবে, সন্ত্রাসে আর্থিক মদতের অভিযোগে পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে, না ফের ধূসর তালিকাতেই রেখে দেওয়া হবে, নাকি ক্নিনচিট মিলবে। ওই বৈঠকের আগে আমেরিকার এই মনোভাবে পাকিস্তানের উপরে যথেষ্টই চাপ বাড়ল বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

গত বৃহস্পতিবার লস্কর-ই-তইবার চার শীর্ষ জঙ্গি জাফর ইকবাল, ইয়াহা আজিজ, মহম্মদ আসরফ ও আব্দুল সালামকে সন্ত্রাসে আর্থিক মদতের অভিযোগের গ্রেফতার করেছে পাকিস্তান। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে আমেরিকা। পাশাপাশি, ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের বক্তব্য, নিজের ভবিষ্যতের জন্যই পাকিস্তানের মাটিতে বেড়ে ওঠা জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপে রাশ টানা উচিত ইমরান খান সরকারের। আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট-এর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া ব্যুরো-র প্রধান অ্যালিস ওয়েসল টুইটারে লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যেমনটা বলেছেন, পাকিস্তানের ভবিষ্যতের খাতিরেই স্বদেশের মাটিতে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির কাজকর্ম বন্ধ করা উচিত। অ্যালিস আরও লিখেছেন, ‘চার শীর্ষ লস্কর জঙ্গিকে গ্রেফতারির খবরকে স্বাগত জানাই। সইদ হাফিজ-সহ এই ব্যক্তিদের বিচার এখনই শুরু হোক, এটাই চান লস্করের ভয়াবহ হামলায় নির্যাতিতরা।’

আরও পড়ুন: বাঙালির ফের নোবেল জয়, অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়

আরও পড়ুন: বাবা কারাবন্দি, কাঁধে একশো কেজি গম নিয়ে পাকদণ্ডি বেয়ে ওঠা সেই ছেলেই আজ রাষ্ট্রপ্রধান

আরও পড়ুন: সিরিয়ায় ঘর হারাতে পারেন চার লক্ষ, দাবি রাষ্ট্রপুঞ্জের

গত বছরের জুনে পাকিস্তানকে ধূসর তালিকাভুক্ত করে প্যারিসের নজরদারি সংস্থা এফএটিএফ। চলতি মাসের মধ্যে সন্ত্রাসে আর্থিক মদত বন্ধ করতে বলে তাদের তরফে পাকিস্তানকে ৪০টি সুপারিশও করা হয়। তবে চলতি মাসে ওই নজরদারি সংস্থার সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, গত দেড় বছরে সে সমস্ত সুপারিশের মধ্যে মাত্র একটিই মেনেছে পাকিস্তান। এফএটিএফ-এর আসন্ন বৈঠকেই জানা যাবে, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো পাকিস্তানকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হবে কি না।