• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘ইমরানের সরকার নতুন মোড়কে পুরনো পাকিস্তান’, ‘সন্ত্রাস’-গোলা নয়াদিল্লির

Eenam Gambhir
পাকিস্তানকে কড়া জবাব ইনম গম্ভীবের। ছবি: এএনআই-এর টুইটার হ্যান্ডল থেকে

সন্ত্রাসবাদের আঁতুর ঘর পাকিস্তান। জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষক। রাষ্ট্রনেতাদের বিবৃতি আর বাস্তবে বিস্তর ফারাক। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় সন্ত্রাস ইস্যুতে এভাবেই কড়া ভাষায় পাকিস্তানের দিকে একের পর গোলাবারুদ ছুড়ল ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ইনম গম্ভীরের তোপ, ইমরান খানের সরকারও ‘নুতন মোড়কে পুরনো পাকিস্তান’।

রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের প্রতিনিধি ছিলেন ইমরান খান মন্ত্রিসভার নয়া বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। নিউইয়র্কে সাধারণ সভার ফাঁকেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল তাঁর। কাশ্মীরে তিন সেনা জওয়ানের হত্যার পর সেই বৈঠক বাতিল করে নয়াদিল্লি। তা নিয়ে দু’দেশের কূটনৈতিক বাতাবরণ তপ্তই ছিল। তার মধ্যেই কুরেশি সরাসরি অভিযোগ করে বসেন, ২০১৪ সালে পেশওয়ারের সেনা স্কুলে জঙ্গি হামলায় ভারতের মদত ছিল।

কুরেশির এই মন্তব্য বারুদে অগ্নি সংযোগ করে। নিউইয়র্কে কার্যত ঠান্ডা যুদ্ধের বাতাবরণ তৈরি হয়। জবাব দিতে বসে একের পর এক বোমা ফাটাতে শুরু করেন ইনম গম্ভীর। বলেন, ‘‘পাকিস্তানের নতুন সরকার হয়তো জানে না, পেশওয়ারের স্কুলে জঙ্গি হানার পর ভারতের সব স্কুলে কচিকাঁচারা দু’মিনিট নীরবতা পালন করেছিল। ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুদের হত্যায় চোখের জল ফেলেছিল গোটা দেশ। ভারতের সংসদও পাশে দাঁড়িয়েছিল। তারপরও কুরেশির এই মন্তব্য, হাস্যকর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পূর্বপরিকল্পিত।’’

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপুঞ্জে এখনই বদল চেয়ে সওয়াল সুষমার

ইনমের যুক্তি, ‘‘প্রতিবেশী ভারতের স্থিতাবস্থা নষ্ট করতে পাকিস্তানই সন্ত্রাস সৃষ্টি করে, মদত দেয় এবং লালন-পালন করে। তার থেকে বিশ্বের নজর ঘোরাতেই ভারতের উপর দোষ চাপায়। নিজেদের তৈরি সন্ত্রাস দৈত্যই এখন গিলে খাচ্ছে পাকিস্তানকে।’’

কুরেশির দাবি ছিল, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে পাকিস্তান। জবাবে ইনমের পাল্টা প্রশ্ন, ইসলামাবাদ কি অস্বীকার করতে পারবে যে, রাষ্ট্রপুঞ্জের ঘোষিত ১৩২ জন সন্ত্রাসবাদীর পৃষ্ঠপোষক তারা? সে দেশে অবাধে  সর্বত্র ঘুরে বেড়ায় এই সন্ত্রাসীরা। ২২টি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর অধিকাংশেরই উৎসস্থলবা মূল ঘাঁটি পাকিস্তান?

আরও পড়ুন: ১৪৪,০০,০০,০০০ টাকা জরিমানা! টেসলা-র চেয়ারম্যান এলন মাস্কের ইস্তফা

যথারীতি উঠে এসেছে ২৬/১১-র মুম্বই জঙ্গি হানার প্রসঙ্গও। ওই হামলার মাস্টার মাইন্ড হাফিজ সইদ পাকিস্তানে অবাধে ঘুরে বেড়ায়। কৌশলী যুক্তিতে বিঁধে ভারতীয় মহিলা কূটনীতিকের তোপ, পাকিস্তানের বিবৃতি আর কাজের মধ্যে বরাবরই বিস্তর ফারা।তাঁর প্রশ্ন, প্রতারণার চিরাচরিত রাস্তা থেকে কি ইসলামাবাদ সরে এসেছে? সেটা আগে ইমরান সরকারের প্রতিনিধিদের বিশ্বের কাছে প্রমাণ করতে হবে।

কুরেশি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ভারত হাস্যকর যুক্তিতে দুই বিদেশমন্ত্রীর বৈঠক বাতিল করেছে। তার জবাবে এদিন ইনম গম্ভীর বলেন, ‘‘জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে তিন সেনা জওয়ানকে প্রতিবেশী দেশের সেনা হত্যা করল। ইসলামাবাদের কাছে এটা হাস্যকর হতে পারে। ভারতের কাছে প্রতিটি মৃত্যুই গম্ভীরবিষয় এবং বেদনাদায়ক।’’ ‘সন্ত্রাস এবং আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না’—নয়াদিল্লির এই কঠোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করে দেন ইনম। পরে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী সদস্য সৈয়দ আকবরউদ্দিন টুইট করে ‘তরুণী কূটনীতিক’-এর প্রশংসা করেন।

 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন