পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার বোমাবর্ষণে জইশ দলের কারও কোনও ক্ষতি হয়নি, সবাই জীবিত এবং সম্পূর্ণ সুস্থ—সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের মুখপত্র আল-কালাম- এ এই দাবিই করল জইশ প্রধান এবং পুলওয়ামা কাণ্ডের মূল চক্রী মাসুদ আজহার। শুধু তাই নয়, নিজের লেখায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তিরন্দাজি অথবা শুটিং-এর প্রতিযোগিতায় নামার চ্যালেঞ্জও ছুড়েছে ভারতের এই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি।

জইশ-ই-মহম্মদের মুখপত্র হিসেবে আল-কালামকেই চেনে সারা দুনিয়া। সেখানেই ‘সাদি’ নামে লেখে খোদ জইশ প্রধান মাসুদ আজহার।জানা গিয়েছে, এই মুখপত্রের সাম্প্রতিক সংখ্যায় পুলওয়ামা কাণ্ড এবং তার পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে লিখেছে এই কুখ্যাত জঙ্গি।

বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান হামলায় যে আদৌ কোনও ক্ষতি হয়নি এবং ভারত যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মিথ্যা ছড়াচ্ছে, এমনটাও দাবি করেছে মাসুদ। তার কথায়, ‘আমরা সবাই বেঁচে আছি এবং ভাল আছি। আমার কিডনি এবং লিভারও খুব ভাল অবস্থায় আছে এখন।’

আরও পড়ুন: দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

আল-কালাম নামের এই সাপ্তাহিক পত্রিকায় সাদি নামেই লেখে মাসুদ। কিন্তু এই সংখ্যায় মাসুদ নিজে লিখেছে নাকি অন্য কেউ তার হয়ে লিখে দিয়েছে, তা নিয়ে অবশ্য সংশয় আছে বিভিন্ন মহলে। যদিও আল-কালামই যে জইশের প্রধান মুখপত্র, তা নিয়ে কারও কোনও সন্দেহ নেই।

আরও পড়ুন: বাজেয়াপ্ত করা হবে মাসুদ আজহারের সম্পত্তি, ঘোষণা ফ্রান্সের

লেখাটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করেছে মাসুদ। সে বলেছে,‘আমি নরেন্দ্র মোদীর মতো নই। আমি এক জন সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ। আমি নরেন্দ্র মোদীকে তিরন্দাজি অথবা শুটিং প্রতিযোগিতায় নামার আহ্বান জানাচ্ছি। তা হলেই বোঝা যাবে কে বেশি ফিট।’

পাশাপাশি মাসুদের দাবি, পৃথিবী জুড়ে তার স্বাস্থ্য নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে তা আসলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার। তার কথায়, ‘গত ১৭ বছর ধরে অসুস্থতার জন্য জইশের কেউ হাসপাতালে যায়নি। কখনও কোনও চিকিৎসকেরও প্রয়োজন পড়েনি।’ নিজের ভাল স্বাস্থ্যের জন্য ‘কোরান’ নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাকেই কারণ হিসেবে দেখিয়েছে সে। তার দাবি, এই কারণে মানসিক উত্তেজনা বা ডায়াবিটিস থেকেও সে সম্পূর্ণ মুক্ত।

আরও পড়ুন: দিল্লির ভিভিআইপি এলাকায় রাত কাটিয়েছিল জইশ প্রধান মাসুদ!

সাপ্তাহিক পত্রিকাটিতে পুলওয়ামা কাণ্ড নিয়েও নিজের পুরনো অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে জইশ-ই-মহম্মদ। পুলওয়ামার ভয়াবহ নাশকতার নিন্দায় যখন মুখর সারা বিশ্ব, তখন জইশ প্রধান মাসুদের দাবি, ‘এই নাশকতা আসলে স্বাধীনতার যুদ্ধ। কাশ্মীরিদের হৃদয়ে আগুন জ্বেলে দিয়েছে পুলওয়ামার আত্মঘাতী যুবক আলি আহমদ দার। এই আগুন সহজে নিভবে না। তা ছড়িয়ে পড়বে সারা কাশ্মীরে।’