কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদের জেরে ভারত ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সমর্থকরা অবমাননাকর স্লোগান দেওয়ায় রাস্তায় নেমে সরাসরি প্রতিবাদ করলেন বিজেপি নেত্রী শাজিয়া ইলমি। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সোলে পতাকা, ফেস্টুন নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দিতে দেখা যায় পাক সমর্থকদের।

ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে শাজিয়া বলেছেন, ‘‘এক জন ভারতীয় হিসেবে অপমানিত হলে শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করতে হবে।’’ সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিনি দিল্লিতে বলেন, ‘‘আমি এবং আরও দু’জন নেতা সোলে গিয়েছিলাম গ্লোবাল সিটিজেন ফোরামের প্রতিনিধি হিসেবে ইউনাইটেড পিস ফেডারেশন কনফারেন্সে যোগ দিতে। সমাবেশের শেষে আমরা ভারতীয় দূতাবাসে যাই আমাদের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করতে।’’ সেখান থেকে ফেরার পথেই ওই বিক্ষোভের মুখে পড়েন শাজিয়া।

শাজিয়া বলেছেন, ‘‘হোটেলে ফেরার পথে আমরা দেখতে পাই, পাকিস্তানের পতাকা হাতে একদল লোক রাস্তায় জমায়েত হয়ে ভারত ও আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। অনেক মানুষ ভিড় করে তাদের দেখছেন। মনে হয়েছিল, এটা আমাদের কর্তব্য, ওঁদের গিয়ে এটা বলা যে, ওঁরা যেন আমাদের দেশ বা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অপমান না করেন। ৩৭০ ধারা বাতিল করা নিয়ে তোমাদের সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু এটা একেবারেই আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আর তোমাদের এটা নিয়ে কিছুই করার নেই।’’

আরও পড়ুন- স্তব্ধ উপত্যকার খবর আনছে চিঠি

আরও পড়ুন- কাশ্মীর ‘আজাদ’ করতে বাংলাতেও লড়াইয়ের ডাক আল কায়দার​

সংবাদ সংস্থা এএনআই যে ভিডিও প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, একদল মানুষ সোলে ভারত ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন।

৩ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, শাজিয়া ও কয়েক জন একটি ট্যাক্সি থেকে নেমে ওই জমায়েতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার পর ওই স্লোগানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হতে দেখা যায় বিজেপি ও আরএসএস নেতাদের দলটিকে।

প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশে শাজিয়া বলেন, ‘‘আমরা যেখানেই থাকি না কেন, আমাদের প্রতিবাদ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি জানি কোনও কোনও দেশে কথা বলা খুব সহজ নয়। এক জন ভারতীয় হিসেবে নিজের ক্ষোভকে শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রকাশ করাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যে কোনও সময় যে কেউ আপনার দেশ, আপনাদের প্রধা‌নমন্ত্রী সম্পর্কে কিছু বললে আপনার উচিত মুখ খোলা। তাতে ভয় পাওয়ারও কিছু নেই। যেহেতু আপনি সেটা শান্তিপূর্ণ ভাবেই করছেন।’’

প্রতিবাদীরা এরপর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে স্থানীয় পুলিশ এসে শাজিয়া ও তাঁর সঙ্গীদের উদ্ধার করে নিয়ে যান।