পাক নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যেই বালোচিস্তানে পাল্টা হামলা চালাল স্বাধীনতাপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। শুক্রবার গভীর রাতে তাদের হামলায় অন্তত ১০ পাক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। আহত বেশ কয়েক জন।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে দুই বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী, বিএলএ এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে পাক ফৌজ। তাদের সঙ্গী সশস্ত্র পুলিশ, বিশেষ সন্ত্রাসদমন বাহিনী ‘কাউন্টার-টেররিজ়ম ডিপার্টমেন্ট’ (সিটিডি) এবং দুই আধাসেনা— ফ্রন্টিয়ার কোর ও রেঞ্জার্সের যৌথবাহিনী। খাইবার পাখতুনখোয়া, বালোচিস্তান এবং পঞ্জাব প্রদেশ জুড়ে শুরু হওয়া ওই অভিযানে ৫০ জনেরও বেশি বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন বলে পাক সেনার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর (আইএসপিআর)-এর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সংবাদসংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, শুক্রবার রাত থেকে বালোচিস্তানের রাজধানী কোয়েটা-সহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় বিদ্রোহীরা। টহলদার নিরাপত্তা বাহিনীর উপর আত্মঘাতী হামলাও হয়। পাক সেনার তরফে শনিবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’ (স্বাধীনতাপন্থী বালোচ বিদ্রোহীদের এই নামেই চিহ্নিত করে ইসলামবাদ)-এর বিভিন্ন অবস্থান চিহ্নিত করে অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ বালোচিস্তান প্রাকৃতিক ভাবে সবচেয়ে সম্পদশালী। কিন্তু ধীরে ধীরে তা বেহাত হয়ে যাচ্ছে বালোচ নাগরিকদের। ‘চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর’ (সিপিইসি) তৈরির পরে গত কয়েক বছরে সেই লুট আরও বেড়েছে। তারই বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে ‘বালোচ ন্যাশনালিস্ট আর্মি’ (বিএনএ)-র মতো বালোচ গোষ্ঠীগুলি।