গরুর রচনা লেখার সময় বর্ণনা কি তাহলে বদলে যেতে চলেছে এ বার? গরুর দুটি চোখ, দুটি কানের মতন দুটি শিং, সেটা হয়তো নাও লেখা যেতে পারে আর! গরুর শিং থাকবে কি থাকবে না, সেই নিয়ে মতবিরোধই জাতীয় বিতর্কের রূপ নিয়েছে সুইৎজ়ারল্যান্ডে।

সুইৎজ়ারল্যান্ডে বেশির ভাগ গরুর মাথাতেই শিং দেখা যায় না। সুরক্ষাজনিত কারণে সুইস সরকার রীতিমত আইন করে গরুর মাথায় শিং থাকলে গরুর মালিকদের মোটা টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে। মাথায় শিং থাকলে গরু প্রতি বছরে ১৯০ সুইস ফ্রাংক জমা দিতে হয় সেই গরুর মালিককে, ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার টাকা। তাই সুইৎজ়ারল্যান্ডে বেশির ভাগ গরুকেই দেখা যায় শিংহীন অবস্থায়। শিশু অবস্থায় গরুর শিং গজানোর সময়েই বিশেষ উপায়ে সেটি পুড়িয়ে বা কেটে ফেলা হয়, যাতে তা আর বাড়তে না পারে।

কিন্তু উত্তর-পশ্চিম সুইৎজ়ারল্যান্ডের বাসিন্দা আরমিন কাপল এই নিয়ম না মেনে বিদ্রোহ করে বসেছেন। তাঁর মতে শিং দিয়েই গরুরা তাদের মনের ভাব বোঝায়। তা ছাড়া এ ভাবে শিং কেটে দিলে তাদের শারীরবৃত্তীয় কাজেও প্রভাব ফেলে বলে তাঁর মত।

আরও পড়ুন: দার্জিলিং কাঁপছে, কলকাতাতেও ২ ডিগ্রি নামল পারদ, তবে শীত আসতে এখনও দেরি

আরমিনের বক্তব্যের সাথে সহমত যাঁরা, তাঁরা কেউই প্রকৃতিগত ভাবে প্রাপ্ত গরুর রূপ বদলে ফেলার পক্ষে নয়। এই ঘটনা গরুদের মানসিক ভাবেও বিপর্যস্ত করে তোলে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এই অবস্থায় গরুর শিং থাকবে কি না— সেই বিতর্কের অবসান ঘটাতে আগামী রবিবার একটি গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে সে দেশ জুড়ে। গরুর শিং কাটার বিপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে বেশ কয়েক লক্ষ গরুপ্রেমীর স্বাক্ষর জোগাড় করে ফেলেছেন আরমিন ও তাঁর দলবল। এ দিকে জোট বাঁধছে গরুর শিং কেটে ফেলার সমর্থকেরাও।

আরও পড়ুন: ঘর গোছাতে গিয়ে উদ্ধার পাঁচ মাস পুরনো লটারির টিকিট, নিমেষে কোটিপতি!

কী হবে রবিবারের ভোটে? ওপিনিয়ন পোল বলছে, লড়াই কঠিন! যদিও এই নির্বাচনে কোনও সরকারি সিলমোহর পড়েনি, তবুও গরুপ্রেমীরা যদি জয়লাভ করে তবে সরকারের উপরেও যে চাপ তৈরি হবে, তা বলাই বাহুল্য। অভিনব এই ভোটযুদ্ধে কে জেতে, সেটাই এখন দেখার।