সিরিয়া এবং আফগানিস্তান থেকে সেনা সরানো নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পদত্যাগ করলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জেমস ম্যাটিস। বরাবরের মতো এই বারও প্রথমে টুইট করে ম্যাটিসের পদত্যাগের কথা জানান ট্রাম্পই। এর পরই নিজের পদত্যাগের চিঠি হোয়াইট হাউসে পাঠিয়ে দেন জেমস ম্যাটিস।

মতের অমিল দীর্ঘ দিন ধরে চললেও তা চরমে ওঠে গত বুধবার। সবাইকে অন্ধকারে রেখে হঠাৎ করেই সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, আইসিস-এর সঙ্গে যুদ্ধে জয় হয়েছে বলেও জানান তিনি। যদিও মার্কিন বিদেশ মন্ত্রক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পর্যবেক্ষণ ছিল, যুদ্ধ এখনও বাকি আছে। সিরিয়ার বিভিন্ন অংশে এখনও সক্রিয় বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী।

ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু নিজের প্রতিরক্ষা বা বিদেশ মন্ত্রকের পরামর্শ অগ্রাহ্য করেছেন, এমনটা নয়।  যে সব মিত্র দেশ সিরিয়া এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনার সঙ্গে যৌথ ভাবে লড়াই চালাচ্ছে তাদেরকেও কিছু জানানো হয়নি বলে জানা যাচ্ছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে।

আরও পড়ুন: চিন-পাকিস্তান গোপন আঁতাঁত! রাস্তা বানানোর আড়ালে লুকিয়ে যুদ্ধবিমানের কারখানা?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ভাবে কাজ করার পদ্ধতিতে আপত্তি ছিল প্রতিরক্ষা সচিব জেমস ম্যাটিসের। নিজের পদত্যাগ পত্রে তিনি লিখেছেন, ‘‘আমাদের দেশের নিরাপত্তার জন্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সবরকম চেষ্টা চালানো উচিত। সেই কাজের জন্য  মিত্রশক্তিদের সঙ্গে সঠিক বোঝাপড়া থাকা প্রয়োজন।’’

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, সিরিয়া থেকে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে জানার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টকে পুরো বিষয়টি বোঝাতে গিয়েছিলেন ম্যাটিস। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। এর পরই নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত জানান  ম্যাটিস।

আরও পড়ুন: আমেরিকা পশ্চিম এশিয়ার পুলিশ নাকি!

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মত, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে আসলে উপকৃত হবে বিভিন্ন মার্কিন বিরোধী শক্তি। সিরিয়া এবং আফগানিস্তানে বাড়বে রাশিয়া, চিন এবং ইরানের প্রভাব। শুধু তাই নয়, ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইসিসও।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক চুক্তি, আন্তর্জাতিক বিরোধ, আন্তর্জাতিক সংঘর্ষ- সব গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের আন্তর্জাতিক বিভাগে।