মহিলার পোশাক নাকি যথাযত নয়, তাই তাঁকে শরীর ঢেকে বসতে বললেন এক বিমানকর্মী। বিমানকর্মীর চাপে গায়ে কম্বল চাপিয়ে বিমানে ওঠতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই মহিলা। পরে নিজের পোশাকের ছবি পোস্ট করেন তিনি। এরপরই সমালোচনার মুখে পড়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয় আমেরিকান এয়ার নামে মার্কিন ওইবিমান সংস্থা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বাসিন্দা চিকিত্সক টিসা রো তাঁর ৮ বছরের ছেলেকে নিয়ে জামাইকা থেকে ছুটি কাটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি যাচ্ছিলেন। ৩০ জুন জামাইকার কিংস্টোন থেকে বিমান ধরতে যান। সেখানে এক বিমানকর্মী তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য বিমান থেকে নেমে আসতে বলেন।অভিযোগ, রো-কে বলা হয়,তাঁকে পোশাক যথাযত নেই, তাই শরীর ঠিকমতো ঢেকে বসতে হবে।শরীর না ঢেকে বসলে বিমানে চড়তে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়।

রো প্রথমে ফেসবুকে লেখেন, ‘আমেরিকান এয়ার আমাকে বলল, আমাকে একটি জ্যাকেট পরে শরীর ঢেকে বিমানে উঠতে হবে। আমার পোশাক ঠিকই ছিল,কিন্তু তা নাকি বিমানে ওঠার ক্ষেত্রে যথাযত নয়।’

 

পরে রো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দু’টি ছবি তুলে টুইটারে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘দেখুন আমি কী পরে ছিলাম।এই পোশাকের জন্য আমেরিকান এয়ার আমায় বিমানে উঠতে দদেয়নি। আমাকে শরীর ঢেকে বসতেবলা হয়। আমি যখন আমার পোশাকের পক্ষে সওয়াল করি, তখনকোমরে কম্বল না জড়ালে বিমানে আমাকে বিমানে না চড়তে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।’

 

আরও পড়ুন : বলিদান দিতে হবে, বলছে দিল্লি মেট্রো!

আরও পড়ুন : সশব্দ বাতকর্ম ধরিয়ে দিল লুকিয়ে থাকা অভিযুক্তকে!

শেষ পর্যন্ত রো-কে কোমরে কম্বল জড়িয়েই বিমানে উঠতে হয়। কিন্তু পরে তাঁর পোশাকের ছবি যখন প্রকাশ্যে আসেতখন তাঁরপাশেই দাঁড়ান নেটিজেনরা। নিন্দার ঝড় ওঠে আমেরিকান এয়ারের বিরুদ্ধে।

চাপে পড়ে ক্ষমা চায় আমেরিকান এয়ার। এক বিবৃতিতে তারা জানায়,সে দিন কী ঘটেছিল তাখতিয়ে দেখতে কিংস্টোন বিমানবন্দরেআধিকারিকদের পাঠানো হচ্ছে। রো-র কাছে ক্ষমা চেয়ে, তাঁর ও তাঁর ছেলের টিকিটের টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে সংস্থা।

তবে এটাই প্রথম নয়, ইউরোপ-সহ বিভিন্ন জায়গায় এমন ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েক বার। চলতি বছর জানুয়ারিতে তল্লাশির নামে এক ভারতীয় মহিলাকে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে। ব্যাগে ব্রেস্টপাম্প অথচ সঙ্গে শিশু নেই— কর্তৃপক্ষের সন্দেহ মেটাতে পোশাক খুলে ‘পরীক্ষা’ দিতে হয়েছিল ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিঙ্গাপুরের বাসিন্দা গায়ত্রী বসুকে (৩৩)। সেই ফ্রাঙ্কফুর্টেই গত ২৯ মার্চ আবার পোশাক খুলে নিরাপত্তাকর্মীদের সামনে দাঁড়াতে বলা হয় বছর তিরিশের শ্রুতি বসাপ্পাকে। বেঙ্গালুরু থেকে আইসল্যান্ডে স্বামীর কাছে যাচ্ছিলেন পেশায় স্থপতি শ্রুতি। সেবার চরম হেনস্থার হাত থেকে তাঁকে বাঁচান তাঁর স্বামী। শ্রুতির অভিযোগ ছিল, স্বামী আইসল্যান্ডের শ্বেতাঙ্গ বলেই সে দিন হেনস্থার হাত থেকে বাঁচতে পেরেছিলেন।