ভাবুন আপনি একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, একটি প্লেনের মধ্যে একা, চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার, ঠাণ্ডা, বেরনোর কোনও রাস্তা নেই। কী করবেন? ভাবছেন কোনও দুঃস্বপ্নের কথা বলছি?  না এমনই ঘটেছে এক মহিলার সঙ্গে।

এয়ার কানাডার এক বিমানে টরেন্টো যাচ্ছিলেন টিফানি অ্যাডাম। নির্দিষ্ট সময়ে বিমান পৌঁছয় টরেন্টো। একে একে সব যাত্রী, বিমানকর্মীরা বেরিয়ে যান। বিমানে মেন পাওয়ার সুইচ অফ করে দেওয়া হয়। বিপত্তি শুরু হয় এর পরে। বিমান অবতরণের কয়েক ঘণ্টা পর বিমানের মধ্যে জেগে ওঠেন টিফানি অ্যাডম! আসলে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এত কিছু হয়ে গেলেও কিছুই টের পাননি তিনি। তখন বিমান অন্ধকার, সব দরজা বন্ধ, তার উপর ঠাণ্ডা।

এই পরিস্থিতিতে পড়লে যে কোনও মানুষ ভয় পেয়ে যাবেন। টিফানিও তাই পেয়েছিলেন। এর পর তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েযখন দেখেন ফোনে চার্জ নেই। আর বিমানের বিদ্যুত্ বন্ধ থাকার জন্য ফোনে চার্জও দিতে পারবেন না। ফলে কাউকে, এমনকি এমার্জেন্সি নম্বরে ফোন করেও সাহায্য চাইতে পারবেন না।

আরও পড়ুন : বছরের এই দিনে চাইলেই পোষা কুকুর নিয়ে অফিস যেতে পারেন

আরও পড়ুন : একটা ক্ষুদ্র প্রাণী আটকে দিল ১২ হাজার জাপানিকে

ঘুম থেকে উঠে টিফানি প্রথমে ভেবেছিলেন, কোনও খারাপ স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু অচিরেই বুঝতে পারেন, স্বপ্ন নয় এটা বাস্তব। আর তিনি খুব খারাপ ভাবে ফেঁসে গিয়েছেন। এদিক ওদিক খোঁজাখুঁজি শুরু করেন, যদি বেরনোর রাস্তা পাওয়া যায়। কিন্তু সব চেষ্টাই বৃথা যায়। অবশেষে একটি টর্চ খুঁজে পান। সেই টর্চ জ্বালিয়ে মেন ডোর পর্যন্ত পৌঁছন। মেন ডোর লক করা ছিল না। চেষ্টা করতেইসেটি খুলে যায়। দেখেন, তিনি মাটি থেকে প্রায় ৫০ ফুট ওপরে রয়েছেন। লাফিয়ে নামতে চাইলে নিশ্চিত মৃত্যু। এবার কী করবেন?

 

 অপেক্ষা করা ছাড়া কোনও উপায় নেই। পা ঝুলিয়ে বসে, টর্চটি দিয়ে সঙ্কেত পাঠাতে থাকেন। কিন্তু যেখানে রাতভর বিমানগুলিকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়,সেখানেই রাখা ছিল এই বিমানটি। আশপাশে বিশেষ কোনও লোক ছিল না। তাই সঙ্কেত দেখতে পাননি কেউ।

ভাগ্য ভাল টিফানির, একটি মালবাহী গাড়ি সেদিকে আসছিল। সেটি দেখে তাকে সঙ্কেত দেওয়ার চেষ্টা করেন টিফানি। এবার তিনি সফল হন।ওই বিমানকর্মীরা কাছে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।

এই গোটা ঘটনা ফেসবুকে শেয়ার করেছেন টিফানি অ্যাডাম। সেখানে বিস্তারিত লিখেছেন, ওই কয়েক ঘণ্টা তাঁর কী ভাবে কেটেছে। কী কী উপায়ে তিনি বিমান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। এখন তাঁর সেই পোস্ট ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।