Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০২ জুলাই ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

এ ডায়েটে ঘি-মাখন, মাছ-মাংস-ডিম ঠাসা কিন্তু ওজন কমবে হুড়মুড়িয়ে!

এক দিন-দু’দিন নয়, রোজ৷ এবং খাওয়ার পরও দেখবেন দিব্য কমছে ওজন!

সুজাতা মুখোপাধ্যায়
কলকাতা ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৭:৩৬
Save
Something isn't right! Please refresh.
এই ডায়েটে ভরসা করলে সহজেই কমবে ওজন। ছবি: শাটারস্টক।

এই ডায়েটে ভরসা করলে সহজেই কমবে ওজন। ছবি: শাটারস্টক।

Popup Close

সকালে খেলেন ডিম আর বেকন। দুপুরে স্মোকড স্যামন। রাতে মাখনে মাখামাখি চিকেন বা মাটন স্টেক বা চিজে ভরপুর বেকড ফিশ। এক দিন-দু’দিন নয়, রোজ৷ এবং খাওয়ার পরও দেখলেন দিব্য কমছে ওজন!

ব্যাপারটাকে রূপকথা বলে মনে হবে না কি?

কিন্তু না, রূপকথা নয়৷ লো–কার্বোহাইড্রেট ও হাই প্রোটিন ডায়েট, তথা অ্যাটকিন্স ডায়েট খেলে এ রকমই হয়৷ সে কন্টিনেন্টাল না খেয়ে ভারতীয় খাবার খেলেও হয়৷ কারণ, এই ডায়েটের প্রবক্তারা জানিয়েছেন, ওজন বাড়ার প্রায় সব চাবিকাঠিই লুকিয়ে আছে কার্বোহাইড্রেটের মধ্যে৷ তাকে কমিয়ে ফেলতে পারলেই অর্ধেক কাজ সারা হয়ে যায়৷

Advertisement

অনেকে অবশ্য প্রোটিনের সঙ্গে থাকা চিজ, মাখন এগুলো এড়িয়ে চলেন। বরং বাদাম, অল্প অলিভ অয়েল সামান্য তেলে সতে করা প্রোটিন এ সব থেকে পেতে চান দরকারি ফ্যাট। সে সবও এই অ্যাটকিন্স ডায়াটেরি নানা রূপ। মোট কথা, নো কার্বস, লো ফ্যাট আর বরপুর প্রোটিনের এই ডায়াটেই লুকিয়ে ওজন কমার মন্ত্র।

আরও পড়ুন: প্রতি দিন নানা টেনশনে জেরবার? এই সব উপায়ে উদ্বেগ কমান সহজে

খাওয়াদাওয়া নিয়ে এ সব তথ্য আগে জানতেন?



অলিভ অয়েল বা হালকা তেলে সতে করা প্রোটিন জাতীয় খাবার রাখুন এই ডায়েটে

লো–কার্ব ও হাই প্রোটিনের কামাল

কার্বোহাইড্রেট খাওয়া কমালে ওজন কমে দু’ভাবে৷ প্রথমত, কম কার্বোহাইড্রেট মানে শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যাওয়া৷ শরীরের অভ্যন্তরীন কাজ চালানোর জন্য গ্লুকোজই যেহেতু জ্বালানি হিসাবে কাজ করে, এর অভাব হলে হাত পড়ে চর্বির ভাঁড়ারে৷ চর্বি গলে শক্তির জোগান দেয়৷ ফলে খুব বেশি ব্যায়াম না করেও ওজন কমতে শুরু করে৷ এই পদ্ধতির নাম কিটোসিস৷ এর কিছু খারাপ দিক থাকলেও ওজন ও চর্বি কমাতে এর ভূমিকা আছে৷ দ্বিতীয়ত, কার্বোহাইড্রেটের বদলে বেশি প্রোটিন খেলে পেট বেশি ক্ষণ ভরা থাকে বলে ভুলভাল খাওয়ার তাগিদ অনেক কমে যায়৷ তার উপর প্রোটিন পরিপাকে খরচ হয় বেশি ক্যালোরি৷ সবে মিলে ওজন কমে৷

ডায়েট শুরুর আগে

শুরুতে ভাত–রুটি–পাস্তা–নুডুলস জাতীয় স্টার্চি খাবার খাওয়া একটু করে কমান, বাড়ান শাক–সব্জি–ফল ও প্রোটিনের পরিমাণ৷ শরীর প্রস্তুত হওয়ার পর শুরু করুন ডায়েট৷ তার আগে ডাক্তার দেখিয়ে নেবেন৷ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাই কোলেস্টেরল, কিডনির অসুখ থাকলে বা বয়স বেশি হলে তো বিশেষ করে পরামর্শ নিন ডায়েটেশিয়ানের। বুঝেশুনে কাজে নামুন৷ হঠাৎ করে খাবারে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এলে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন৷ তাই প্রথমে একটু একটু করে শুরু করুন। এই ডায়েট শুরু করলে ঘন ঘন রেস্টুরেন্টে খাওয়া বন্ধ করতে হবে৷ বা খেলেও ঘরে যে ধরনের খাবার খাচ্ছেন মোটামুটি সেই নিয়ম মেনে চলতে হবে। সবচেয়ে ভাল হয় বাড়িতে বানানো মাছ-ডিম-মাংসের পদের উপর নির্ভর করেি ওজনে হ্রাস টানুন।

আরও পড়ুন: বিরক্তিকর সহকর্মী? জব্দ করুন এই সব কৌশলে



চিকেন স্টেক বা বেকড চিকেনও অনাসাসা রাখতে পারেন এই ডায়েটে।

কী খাবেন ও কী খাবেন না

অ্যাটকিন্স-২০ ডায়েট প্ল্যানের প্রথম পর্যায়ে মাছ, মাংস, চিকেন, মুসুর ডাল— অর্থাৎ প্রোটিন খাওয়া যায় ইচ্ছা মতো৷ তবে মাংস থেকে চর্বি কেটে বাদ দিতে হয়৷ প্রোটিন হিসেবে বেশি করে দুধ, দই, ছানা, চিজ, ইয়োগার্ট, সয়াবিন, বাদাম ও বীজ খাবেন৷ (থাইরয়েড থাকলে এড়িয়ে চলুন সয়াবিন ও বাদাম) ঘি–মাখনের বদলে উপকারি ফ্যাট, যেমন অলিভ বা ক্যানোলা অয়েল, মাছের তেল ইত্যাদি খেলে ভাল হয়৷ ২০ গ্রামের মতো কার্বোহাইড্রেট হিসাবে অল্প শাক–সব্জি খেতে হয়৷ ভাত–রুটি–পাস্তা–নুডুলস বাদ চলে যায়৷ ময়দার খাবার, চিপ‌্স, কুকিজ, ক্যান্ডি, কেক, পেস্ট্রি, মিষ্টি বন্ধ থাকে৷ এই পর্যায়ে ওজন দ্রুত কমে৷

বেশ কিছুটা ওজন কমার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে বিন, ডাল, বাদাম, ফল ও লাল চালের ভাত, ব্রাউন ব্রেড, আটা নুডুল ইত্যাদি এমন ভাবে দেওয়া হয় যাতে ওজন যে ভাবে কমছে সে ভাবেই কমে৷ টার্গেট ওজনের চেয়ে ১০ পাউন্ড দূরে থাকা পর্যন্ত চলে এই পর্যায়৷

তৃতীয় পর্যায়ে খাবারে ও জীবনযাপনে একটু-আধটু পরিবর্তন আনা যায়৷ পছন্দের খাবার একটু বেশি খেয়ে ব্যায়াম করে ক্যালোরি ঝড়ানোর ব্যবস্থা করা হয় অনেক সময়৷ এই পর্যায় চলে জীবনভর৷ মাঝেমধ্যে অবশ্য একটু এ দিক ও দিক করা যায়৷

অ্যাটকিন্স ৪০

অ্যাটকিন্স ২০–তে নিয়মের কড়াকড়ি বেশি বলে অনেকে মেনে চলতে পারেন না৷ তাঁদের জন্য আছে অ্যাটকিন্স-৪০৷ এতে শুরু থেকেই ৪০ গ্রামের মতো কার্বোহাইড্রেট অর্থাৎ অল্প করে ব্রাউন ব্রেড, ব্রাউন রাইস, বিনস, ডাল, বাদাম, শাক–সব্জি–ফল খাওয়া যায়৷ অনেকে এই অ্যাটকিন্স ২০ ও অ্যাটকিন্স ৪০ মিলিয়ে মিশিয়েও ডায়েট প্ল্যান করেন।

লাভ–ক্ষতি

ওজন কমাতে সিদ্ধহস্ত৷ তবে এত বেশি আমিষ প্রোটিন খেলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা আছে কি না, সে ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা এখনও নিঃসন্দেহ নন৷ সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে অবশ্য জানা গিয়েছে যে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, প্রাণীজ প্রোটিন ও অল্প ও ফ্যাট খেয়ে ওজন কমানো অন্য উপায়ে ওজন কমানোর চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর৷ কারণ তাতে হার্টের জন্য উপযোগী অলিভ অয়েল, ডাল ও সয়াবিন বেশি থাকে৷

(শুরু হয়েছে আমাদের নতুন বিভাগ 'HELLO DOCTOR'। এ বারের বিষয় ‘ব্রণর সমস্যা’। এ বিষয়ে আপনার প্রশ্ন পাঠান query@abpdigital.in এই মেল আইডি তে। উত্তর দেবেন ত্বক বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় ঘোষ।)

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement