খেলা শুরুর ৩৭ মিনিটেই ফুটবল জীবনের দ্বিতীয় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন লিওনেল মেসি। যদিও তাতে চিলের বিরুদ্ধে জিততে অসুবিধা হয়নি আর্জেন্টিনার। ২-১ গোলে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে তৃতীয় স্থান পেলেন আগুয়েরোরা। ১২ মিনিটের মাথাতেই মেসির পাস থেকে গোল করে যান ম্যানচেস্টার সিটির আগুয়েরো। দশ মিনিটের মধ্যেই ব্যাবধান বাড়ান এই দিন প্রথম এগারোতে থাকা দিবালা। মেসি বেরিয়ে যাওয়ার পর আর গোলের ব্যাবধান বাড়াতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যাবধান কমান বার্সেলোনায় মেসির সতীর্থ চিলির ভিদাল।

এ বারের কোপায় সেই ভাবে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ মেসি। কখনও দোষ দিয়েছেন ব্রাজিলের মাঠকে, আবার কখনও রেফারিকে। এ দিনের উত্তেজক খেলায় লাল কার্ড দেখেন দুই দলেরই একজন করে ফুটবলার। দিবালার বাড়ানো একটা থ্রু বল ধরতে যান মেসি। কিন্তু বল মাঠের বাইরে বেড়িয়ে যায়। বল ধরতে এসেছিলেন চিলের মেডেলও। মেসি পেছন থেকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ঠেলে দেন তাঁকে। এর পরেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মেডেল তেড়ে এসে মাথা দিয়ে আঘাত করতে যান মেসিকে। রেফারি লাল কার্ড দেখান দু’জনকেই।

এ দিনের খেলায় শুরু থেকেই মেসিকে বার বার যে ভাবে শক্তি প্রয়োগ করে আটকানো হচ্ছিল তা বোধহয় মেসির মতো শান্ত খেলোয়ারকেও উত্তেজিত করে দিয়েছিল। তবে তার মধ্যেও প্রথম গোলের ক্ষেত্রে তাঁর উপস্থিত বুদ্ধির বাহবা দিতেই হবে। মাঝমাঠে মেসিকে ফাউল করলে সঙ্গে সঙ্গে ফ্রি কিক নিয়ে বল ঠেলে দেন আগুয়েরোর দিকে। অরক্ষিত জমি পেয়ে গোল করতে ভুল করেননি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সফল স্ট্রাইকার। দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে অবশ্য কৃতিত্ব দিবালার। লম্বা স্ট্রাইডে বলের কাছে পৌঁছে যান দ্রুত। তারপর গোলকিপারের পাশ দিয়ে হালকা চিপ করে বল পাঠিয়ে দেন গোলে।

এ বারের মতো কোপায় তৃতীয় হয়েই খুশি থাকতে হবে মারাদোনার দেশকে। যদিও পরের বছরেই আবার সুযোগ থাকছে তাদের। ২০২০-তে কোপা হবে আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ায়। প্রথম বারের জন্য একাধিক দেশ আয়োজন করবে কোপা। পরের বছর থেকেই জোর সংখ্যার বছরে কোপা আয়োজন করা হবে। সেই জন্যেই পর পর দুবছর কোপা হতে চলেছে।