যে মাঠে খেলে তিনি বড় হয়ে উঠেছেন, যে মাঠে খেলে তিনি স্বপ্নের সিঁড়িতে পা রেখেছেন, সেখানেই আজ তাঁর নামে নতুন প্যাভিলিয়ন স্ট্যান্ড। যা দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন বিরাট কোহালি। বলে উঠলেন, ‘‘কোনও দিন ভাবিনি এই ভাবে সম্মানিত হব। আমার পরিবার, স্ত্রী, ভাই— সবাই এখানে আছে। কী বলব, বুঝে উঠতে পারছি না।’’

বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে  ফিরোজ শা কোটলা স্টেডিয়ামের নামকরণ হল প্রয়াত অরুণ জেটলির নামে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাতে যে নতুন স্টেডিয়ামের উদ্বোধন হল। একই অনুষ্ঠানে কোহালির নামে নামকরণ হল একটি স্ট্যান্ডের। যা দেখে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কপিল দেব বলেন, ‘‘কোহালির নামে স্ট্যান্ডের নামকরণ হল দেখে খুব ভাল লাগছে।’’ 

তিরাশির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আরও বলেন, ‘‘এখনও অনেক দূর যেতে হবে কোহালিকে। ওর কেরিয়ারের মাঝপথে কোহালি নিয়ে কোনও কথা বলা ঠিক নয়। কিন্তু এটুকু বলব, ওর থেকে যা পেয়েছি তার কোনও তুলনা হয় না। কখনও ভাবিনি সচিন তেন্ডুলকরের কাছাকাছি কেউ আসতে পারে। আমাদের কাছে সচিন ছিল শেষ কথা। কিন্তু কোহালি খেলাটা অন্য পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।’’       

কোহালি আবার ফিরে গিয়েছেন তাঁর ছোটবেলায়। ভারত অধিনায়ক বলছিলেন, ‘‘আঠারো-উনিশ বছর আগের ঘটনা। জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে আমার ছোটবেলার কোচ রাজকুমার শর্মা দুটি টিকিট এনে দিয়েছিলেন। আমার মনে আছে, গ্যালারি থেকে প্রায় ঝুলে পড়েছিলাম জাভাগাল শ্রীনাথের সই পাওয়ার জন্য। আমার ভাইকে বলছিলাম, সেখান থেকে আজ আমরা কোথায় এসে পৌঁছেছি। সেই স্টেডিয়ামের একটা প্যাভিলিয়ন আমার নামে রাখা হচ্ছে দেখাটা কী রকম যেন অপার্থিব অনুভূতি। অত্যন্ত সম্মানেরও।’’

যাঁর নামে স্টেডিয়ামের নামকরণ হল, সেই প্রয়াত জেটলি সম্পর্কে কোহালি বলেন, ‘‘বাবার মৃত্যুর পরে আমার বাড়িতে এসেছিলেন অরুণ জেটলি। আমাকে সাহস দিয়েছিলেন। সত্যিই এই গোটা অনুষ্ঠান একেবারে অন্য রকমের।’’ এ দিনের অনুষ্ঠানে ভারতীয় দলের হেড কোচ রবি শাস্ত্রী-সহ অন্য ক্রিকেটারেরাও ছিলেন। 

অনুষ্ঠান শেষে কোহালি টুইট করেন, ‘‘এই সম্মান দেওয়ার জন্য দিল্লি ক্রিকেট আর ভারতীয় বোর্ডকে ধন্যবাদ। আমাকে ক্রিকেট এবং জীবন যাত্রাটা মনে করিয়ে দেবে এই প্যাভিলিয়ন। তবে আশা করব, প্যাভলিয়ন দেখে তরুণ প্রজন্মের ক্রিকেটারেরা অনুপ্রাণিত হবে।’’         

আশাবাদী গিলক্রিস্ট। ইচ্ছে করলেই ভারতীয় পরিবেশে রোহিত শর্মা টেস্টে ওপেন করতে পারেন বলে মনে করেন প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় উইকেটরক্ষক অ্যাডাম গিলক্রিস্ট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের দুই টেস্টে ওপেনারের ভূমিকায় কে এল রাহুল কিছু করতে না পারায় তাঁকে বাদ দিয়ে রোহিতকে ওপেনারের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গিলক্রিস্ট বলেন, ‘‘ভারতীয় পরিবেশে রোহিত শর্মার টেস্টে ওপেনার হিসেবে সফল না হওয়ার কারণ নেই। ও বিশ্বমানের ক্রিকেটার। যদি চায় টপ অর্ডারে ব্যাট করার চ্যালেঞ্জ নেবে তা হলে ঠিক ভাল খেলে দেবে। নিশ্চিত ভাবে ভারতে ও ওপেনার হিসেবে খেলতে পারে।’’ আরও বলেন, ‘‘আমি রোহিতের সঙ্গে আইপিএলে এক দলে খেলেছি। ওকে দেখে অনেকে ভাবে পরিশ্রমী নয়। ও কিছুটা আরামপ্রিয় বলে হয়তো সেটা অনেকের মনে হয়। কিন্তু রোহিতের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে না।’’