• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা ভোগাল পঞ্জাবকে, ৪৮ রানে জিতল মুম্বই

MI
উচ্ছ্বসিত মুম্বই ক্রিকেটাররা। বৃহস্পতিবার আবু ধাবিতে। ছবি টুইটার থেকে নেওয়া।

জেতার জন্য কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের দরকার ছিল ১৯২ রান। কিন্তু, ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা ভোগাল তাদের। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা আট উইকেট হারিয়ে তুলল ১৪৩। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স জিতল ৪৮ রানে। এবং জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেল রোহিত শর্মার দল।

টস জিতে রান তাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও কখনই স্বস্তিতে দেখাল না পঞ্জাবকে। ওপেনিং জুটিতে ৩৮ ওঠার পর নিয়মিত পড়তে থাকল উইকেট। ময়াঙ্ক আগরওয়াল (১৮ বলে ২৫), করুণ নায়ার (৩ বলে ০), অধিনায়ক লোকেশ রাহুল (১৯ বলে ১৭), নিকোলাস পুরান (২৭ বলে ৪৪), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, (১৮ বলে ১১), জেমস নিশাম (৭ বলে ৭), সরফরাজ খানরা ((৮ বলে ৭) কেউ ভরসা দিতে পারলেন না। কৃষ্ণাপ্পা গৌতম (১৩ বলে অপরাজিত ২২) শেষ দিকে কিছুটা ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেন। মুম্বইয়ের হয়ে নজর কাড়লেন জশপ্রীত বুমরা (২-১৮), রাহুল চাহার (২-২৬), জেমস প্যাটিনসনরা (২-২৮)।

তার আগে প্রথমে ব্যাট করে চার উইকেটে ১৯১ তুলেছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। রোহিত শর্মা ৪৫ বলে করলেন ৭০। কিয়েরন পোলার্ড ২০ বলে অপরাজিত থাকলেন ঝোড়ো ৪৭ রানে। হার্দিক পান্ড্যও তুললেন ঝড়। ১১ বলে অপরাজিত থাকলেন ৩০ রানে।

এদিন ম্যাচের প্রথম ওভারেই ধাক্কা খেয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। বাঁ-হাতি পেসার শেলডন কটরেলের দুরন্ত সুইংয়ে বোল্ড হয়েছিলেন কুইন্টন ডি’কক। বোর্ডে কোনও রান ওঠার আগেই পড়েছিল প্রথম উইকেট। তার আগে টস জিতে রান তাড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। 

আরও পড়ুন: কাঠুরে পরিবার থেকে আইপিএল-এ, সুযোগ না পেয়ে এই বিস্মৃত নায়ক ফিরেছিলেন চাষবাসে?

আরও পড়ুন: বলে থুতু লাগিয়ে বিতর্কে রাজস্থানের উথাপ্পা​

দ্বিতীয় ওভারে মুম্বই অধিনায়ক রোহিত শর্মা বেঁচে গিয়েছিলেন ডিসিশন রিভিউ সিস্টেমের সুবাদে। মহম্মদ শামির বলে তাঁকে এলবিডব্লিউ দেওয়া হয়েছিল। রিভিউতে দেখা গেল বল লেগ স্টাম্পের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। চতুর্থ ওভারে অবশ্য ফের আঘাত হানল পঞ্জাব। দুরন্ত ছন্দে থাকা সূর্যকুমার যাদব (১০) রান আউট হলেন মহম্মদ শামির সরাসরি থ্রোয়ে। ২১ রানে পড়ল দ্বিতীয় উইকেট। সেখান থেকে মুম্বইকে টানলেন রোহিত শর্মা ও ঈশান কিষাণ। দু’জনে ৬২ রান যোগ করলেন তৃতীয় উইকেটে। ৩২ বলে ২৮ করে ঈশান যখন ফিরলেন তখন ১৩.১ ওভারে দলের রান ৮৩। ভাবাই যায়নি সেখান থেকে দুশোর কাছাকাছি স্কোর তুলবে মুম্বই।

ধীরেসুস্থে শুরু করে গতি বাড়ালেন হিটম্যান। রোহিতের পঞ্চাশ এসেছিল ৪০ বলে। চার মেরে অর্ধশতরানে পৌঁছোনোর পর ঝড় তুললেন তিনি। শেষ পর্যন্ত থামলেন ৭০ রানে। মহম্মদ শামিকে ছয় মারতে গিয়ে সীমানায় রিলে ক্যাচে ফিরতে হল তাঁকে। ম্য়াক্সওয়েল বল ধরে তা ছুড়ে দিলেন নিশামের হাতে। তাঁর ৪৫ বলের ইনিংসে ছিল আটটি চার ও তিনটি ছয়। ১৬.১ ওভারে ১২৪ রানে রোহিত ফেরার পর ঝড় তুললেন কিয়েরন পোলার্ড ও হার্দিক পান্ড্য। দু’জনে অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে ২৩ বলে যোগ করলেন ৬৭ রান। পোলার্ডের ইনিংসে ছিল চারটি ছয় ও তিনটি চার। আর হার্দিকের ইনিংসে ছিল দুটো ছয় ও তিনটি চার।

খেলা শুরুর সময় পয়েন্ট তালিকায় দুই দলের মধ্যে কোনও ফারাক ছিল না। নেট রান-রেটে লোকেশ রাহুলের কিংস ইলেভেন ছিল ছয়ে। পিছিয়ে সাতে ছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। সেখান থেকেই জিতে এক নম্বরে উঠে গেল তারা। এই ম্যাচের আগে তিন ম্যাচে দুই দলই জিতেছিল এক বার, পয়েন্ট দাঁড়িয়ে ছিল দুইয়ে। দুই দলই হেরেছিল দুটো করে ম্যাচ। আরও মিল ছিল। মুম্বই ও পঞ্জাব দুই দলেরই শক্তি ব্যাটিংয়ে। কিন্তু ডেথ ওভার বোলিংয়ে দুর্বলতা ছিল উভয় দলেরই। হার্দিক পান্ড্য়র বল করতে না পারা যেমন ভোগাচ্ছিল মুম্বইকে। পাঁচ বিশেষজ্ঞ বোলারের উপর পড়ে যাচ্ছিল চাপ। তবে মুম্বই দলে কোনও পরিবর্তন হয়নি। পঞ্জাব দলে একটিই পরিবর্তন হয়েছিল। কৃষ্ণাপ্পা গৌতম এসেছিলেন মুরুগান অশ্বিনের পরিবর্তে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন