অভিনব কারণে ভারতের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টের দল থেকে ছিটকে গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার আইডেন মার্করাম। 

ভারতের বিরুদ্ধে পুণেয় দ্বিতীয় টেস্টে দু’ইনিংসেই শূন্য করেছিলেন মার্করাম। দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হওয়ার পরে ড্রেসিংরুমে ফিরে হতাশায় শক্ত কিছুর উপরে একটা ঘুসি মেরে বসেন তিনি। যেখানে মেরেছিলেন, সেটার কোনও ক্ষতি হয়নি। কিন্তু মার্করামের ডান কব্জিতে আঘাত লাগে। সে-ই আঘাতের ধাক্কায় শনিবার থেকে শুরু রাঁচী টেস্টে ছিটকে গেলেন মার্করাম। 

দক্ষিণ আফ্রিকা বোর্ডের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘আউট হওয়ার পরে হতাশায় শক্ত কিছুর উপরে ঘুসি মেরে বসেছিল মার্করাম। যে কারণে ওই চোট।’’ দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সঙ্গে থাকা চিকিৎসক বলেছেন, ‘‘সি টি স্ক্যানে দেখা গিয়েছে, মার্করামের কব্জির হাড় ভেঙেছে।’’ একই কারণে দিন কয়েক আগে শেফিল্ড শিল্ডের খেলায় আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে দেওয়ালে ঘুসি মেরে আহত হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ। তিনিও দল থেকে ছিটকে যান। 

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম দুটি টেস্ট জিতে তিন টেস্টের সিরিজ ইতিমধ্যেই ভারতের পকেটে। নজরের কেন্দ্রে ছিলেন চায়নাম্যান বোলার কুলদীপ যাদব। প্রথম দুটি টেস্টে খেলার সুযোগ হয়নি কুলদীপের। তবে ভারতীয় স্পিনার এ দিন নেটে বিশেষ বল করেননি। তিনি নজর দিয়েছিলেন ব্যাটিংয়ে। শোনা যাচ্ছে, তৃতীয় টেস্ট দেখতে মাঠে হাজির থাকবেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। তাঁর শুক্রবারই রাঁচী পৌঁছে যাওয়ার কথা।

এ দিনের প্র্যাক্টিসে দেখা গিয়েছে চেতেশ্বর পূজারা, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, অজিঙ্ক রাহানে, ইশান্ত শর্মাদের। ভারতের হেড কোচ রবি শাস্ত্রী এবং বোলিং কোচ বি অরুণকে দেখা যায় পিচ পরীক্ষা করতে। পিচ যথেষ্ট শুকনো। স্থানীয় ক্রিকেট মহলের ধারণা, বল ঘুরতে পারে। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফ্যাফ ডুপ্লেসি আগের দিন বলেছেন, ‘‘এই উইকেটে বল ঘুরবে। উইকেট দেখে মনে হল, বেশ শুকনো। তাই স্পিন এবং রিভার্স সুইং এই টেস্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।’’ 

দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান ডিন এলগার এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে এসে বলেন, ‘‘ভারত সফরে এসে আমি অনেক কিছু শিখেছি। এই সফরটা আমাদের সামনে বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। এই রকম সফর এক জন ক্রিকেটারের সব কিছু নিংড়ে নেয়।’’ এলগার এও মনে করছেন, এই সফরে তিনি নতুন ভাবে নিজেকেও চিনেছেন।

আগে হলে বলা হত, শেষ টেস্টটা নিছকই নিয়মরক্ষার, কারণ সিরিজের ফয়সালা হয়েই গিয়েছে। কিন্তু বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চালু হওয়ায় ছবিটা বদলে গিয়েছে। এলগার বলছেন, ‘‘শেষ টেস্ট জিতলে আমরা এখনও ৪০ পয়েন্ট পেতে পারি। এই ব্যাপারটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। আগে হলে এই টেস্টকে নিছকই নিয়মরক্ষার বলা হত। কিন্তু বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য এখন সব টেস্টেরই গুরুত্ব আছে।’’