ভারতীয় দলের অনুশীলনে হঠাৎই রাহুল দ্রাবিড়। তৃতীয় টি-টোয়েন্টির আগে ভারতীয় দলের ঐচ্ছিক অনুশীলনে এসে প্রত্যেকের সঙ্গে দেখা করলেন। বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটালেন ঋষভ পন্থের সঙ্গে। তরুণ উইকেটকিপারকে পরামর্শ দিতেও দেখা গেল তাঁকে।

এ বছরই জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির হেড কোচ হয়েছেন দ্রাবিড়। তাই চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে নিয়মিত আসা যাওয়া রয়েছে তাঁর। রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচ। দু’দিন আগে সেখানে অনুশীলন শুরু করেছে ভারতীয় দল।

এ দিন ভারত অধিনায়ক বিরাট ও কোহালি ও হেড কোচ রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন দ্রাবিড়। শাস্ত্রীর সঙ্গে দ্রাবিড়ের একটি ছবি টুইট করে ভারতীয় বোর্ড। ক্যাপশনে লেখা, ‘‘যখন দুই কিংবদন্তির দেখা হয়!’’

দ্রাবিড়কে সামনে পেয়ে ঋষভ নিজেই এগিয়ে আসেন কথা বলতে। মোহালিতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ফের ব্যর্থ হয়েছিলেন পন্থ। পাঁচ বলে চার রান করে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আউট হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। হয়তো ছন্দে ফেরার তাগিদেই জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির হেড কোচের পরামর্শ নিতে এগিয়ে এলেন ঋষভ নিজেই।

ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অনেকেই দ্রাবিড়ের প্রশিক্ষণে খেলেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বা ভারতীয় ‘এ’ দলে খেলার সময় দীপক চাহার, রাহুল চাহার, ক্রুণাল পাণ্ড্য, শ্রেয়স আইয়ার, মণীশ পাণ্ডেরা কোচ হিসেবে দ্রাবিড়কে পেয়েছেন। ঐচ্ছিক অনুশীলন থাকায় তাঁদের মধ্যে অনেকেই অনুশীলনে আসেননি।

এ দিকে, ঋষভ পন্থের ফর্ম নিয়ে চিন্তিত বিরাট কোহালির ছোটবেলার কোচ রাজকুমার শর্মাও। সংবাদসংস্থাকে তিনি বলেছেন, ‘‘ঋষভকে অনেক সতর্ক থাকতে হবে। সবাই জানে টি-টোয়েন্টি ওর প্রিয় ফর্ম্যাট। কিন্তু সেখানেও রান করতে পারছে না ও। ঋষভ কিন্তু ম্যাচউইনার। তবুও হয়তো ঠিক ছন্দে নেই ও।’’ আরও বলেন, ‘‘ঋষভ শট নির্বাচনে ভুল করছে। শেষ ম্যাচেও ওকে ভুল করতে দেখেছি। এই পারফরম্যান্সে ভারতীয় দলের কোচও হয়তো সন্তুষ্ট নন। যে ধরনের মন্তব্য তাঁদের থেকে পাওয়া গিয়েছে তা কিন্তু উদ্বেগে রাখবে ঋষভকে।’’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ কোহালি-গুরু। বলেছেন, ‘‘গত ২০ বছরে এত ধারাবাহিক ভারতীয় দল কখনও দেখিনি। রবি শাস্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে আমিও একমত। এটাই ভারতের সেরা সফরকারী দল।’’  গত ম্যাচে কোহালির ৫২ বলে অপরাজিত ৭২ রানের সৌজন্যে সাত উইকেটে জিতেছিল ভারত। রোহিত শর্মার রেকর্ড ভেঙে টি-টোয়েন্টির রান সংগ্রাহকদের তালিকায় শীর্ষে চলে যান বিরাট। ছাত্রের এই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ কোচ বললেন, ‘‘১০০ বারের মধ্যে ৯৯ বার ও নিজের প্রাপ্তির খবর রাখে না। আমি সব সময় চেষ্টা করি, ওকে নিজের প্রাপ্তির বিষয়ে ওয়াকিবহাল করতে। ও কিন্তু কখনও নিজের জন্য ক্রিকেট খেলে না। কিন্তু বিরাটের রেকর্ডই বুঝিয়ে দেয় ও কত বড় ক্রিকেটার।’’