• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কিশোরী সাঁতারুর যৌন হেনস্থা: ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতে সুরজিৎ, দিল্লি থেকে নিয়ে যাওয়া হল গোয়ায়

Surojit Ganguly
নয়াদিল্লি থেকে গোয়ায় আনা হল সুরজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে। —নিজস্ব ছবি।

কিশোরী সাঁতারুকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগে ধৃত কোচ সুরজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে ছ’দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল গোয়ার আদালত। রবিবার ভোর ৩টে নাগাদ নয়াদিল্লি থেকে বিমানে ট্রানজিট রিমান্ডে গোয়া উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।

রবিবার সুরজিতকে গোয়ার আদালতে পেশ করা হয়। সরকারি আইনজীবী তদন্তের প্রয়োজনে সুরজিতের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করেন। বিচারক ছ’ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেন। এর আগে শনিবার দিল্লিতে গ্রেফতার করার পরে সেখানকার তিস হাজারি আদালতে তোলা হয় সুরজিতকে। আদালত তিন দিনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করে। মাপুসা থানার ইনস্পেকটর কপিল নায়েক এ দিন জানান, ‘‘সুরজিতকে রবিবার ভোরেই গোয়ায় আনা হয়েছে। ছ’দিন পুলিশ হেফাজতে রাখা হচ্ছে তাঁকে।’’

শুক্রবার সন্ধ্যায় দিল্লির কাশ্মীর গেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল সুরজিতকে। রিষড়ার কিশোরী সাঁতারুকে দিনের পর দিন যৌন হেনস্থা করেছেন তার কোচ, এই অভিযোগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই গা ঢাকা দেন সুরজিৎ। গ্রেফতারি এড়ানোর জন্য বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। সুরজিতকে গ্রেফতার করার খবর কিশোরীর পরিবারকে জানায় গোয়া পুলিশ।

আরও পড়ুন: দিনের পর দিন যৌন হেনস্থা, গোয়ায় কোচের দুষ্কর্মের ভিডিয়ো তুলল বাংলার কিশোরী সাঁতারু

আরও পড়ুন: ‘কোনও দিন ভাবিনি স্যর আমার সঙ্গে এ রকম...’

আরও পড়ুন:  যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত সাঁতার কোচের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির ঘোষণা রিজিজুর

 

প্রতিশ্রুতিমান সাঁতারুর বাবা আজ, রবিবার বলছিলেন, ‘‘আমার মেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিডিয়োটা তুলেছিল। সুরজিৎ জানতে পারলে বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারত আমার মেয়ের। এই ধরনের ঘটনা অন্য কোনও মেয়ের সঙ্গে হলে তারা যেন প্রতিবাদ করে।”

প্রাক্তন সাঁতারু বুলা চৌধুরী বলছিলেন, ‘‘মেয়েটার সাহস রয়েছে। এই সাহসিকতার জন্যই ওকে হ্যাটস অফ। ও একটা দৃষ্টান্ত তৈরি করল। এ বার থেকে কোনও কোচ যদি এমন অশালীন কাজ করে, তা হলে মেয়েরা প্রতিবাদ জানাতে পিছপা হবে না। ওর ভবিষ্যৎ রয়েছে। ভাল সাঁতারও কাটছে। বেঙ্গালুরুতে ভাল কোচ রয়েছে। রাজ্য সংস্থাকে বলছি, সাঁতার শেখার জন্য ওকে ভাল জায়গায় পাঠানো হোক।’’

এ দিন রাজ্য সংস্থার সচিব স্বপন আদক কিশোরী সাঁতারুর রিষড়ার বাড়িতে  গিয়েছিলেন। তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘ ক্ষণ কথা বলেন রাজ্য সংস্থার সচিব। তিনি বলছিলেন, ‘‘আজ ওদের (কিশোরী সাঁতারু) বাড়ি গিয়েছিলাম। ওদের বুঝিয়েছি নতুন করে শুরু করতে।’’

কিশোরী সাঁতারুকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করছেন সবাই।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন