Advertisement
E-Paper

ক্রিকেট ছেড়ে পুলিশে! আহত এনগিডিকে গ্রিন করিডর করে মাত্র ১১ মিনিটে হাসপাতালে নিয়ে যান গম্ভীর-কোহলির সেই সতীর্থ

মাঠে গুরুতর আহত লুঙ্গি এনগিডিকে গ্রিন করিডর করে হাসপাতালে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। এই পুরো বিষয়টির দায়িত্বে ছিলেন গৌতম গম্ভীর, বিরাট কোহলির প্রাক্তন সতীর্থ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:১০
cricket

আহত এনগিডিকে এই অ্যাম্বুল্যান্সে তুলেই নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। ছবি: পিটিআই।

রাজ্য দলের হয়ে ক্রিকেট খেলতেন। কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারেননি। একটা সময় ক্রিকেট ছেড়ে পুলিশে চাকরি নিয়েছিলেন সঞ্জয় সিংহ। এখন দিল্লি পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার তিনি। দিল্লি ক্যাপিটালস বনাম পঞ্জাব কিংসের ম্যাচে ক্যাচ ধরতে গিয়ে গুরুতর চোট পাওয়া লুঙ্গি এনগিডিকে গ্রিন করিডর করে মাত্র ১১ মিনিটে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে এই সঞ্জয়।

একসময় গৌতম গম্ভীর ও বিরাট কোহলির সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন সঞ্জয়। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এনগিডিকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতে না পারলে বিপদ হতে পারে। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, গ্রিন করিডর করতে হবে।

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই কাহিনি শুনিয়েছেন সঞ্জয়। এনগিডি আহত হওয়ার পর সন্ধ্যা ৬.১৬ মিনিট নাগাদ তাঁকে নিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেয়। ৬.২৭ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছে যান এনগিডি। অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম থেকে রাজেন্দ্র নগরের ম্যাক্স হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। সন্ধ্যায় এই পথ পাড়ি দিতে অন্তত ৪০-৪৫ মিনিট লাগে। সেই পথই অ্যাম্বুল্যান্স পার হয় ১১ মিনিটে।

পঞ্জাব-দিল্লি ম্যাচে মাঠের দায়িত্বে ছিলেন সঞ্জয়। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে অন্য কোনও বিকল্প ছিল না। এনগিডি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। খুব খারাপ ধরনের চোট পেয়েছিলেন। যখন আমরা জানতে পারি ওঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, তখন শুধু ভাবছিলাম, কী ভাবে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারব।”

নিজের ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি জানতেন, এই ধরনের চোট গুরুতর হতে পারে। সঞ্জয় বলেন, “আমি ক্রিকেট খেলেছি। এনগিডির মাথায় চোট লেগেছিল। আমি জানতাম, এই ধরনের চোটে খুব তাড়াতাড়ি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যেতে পারে। তাই আমার মন বলেছিল, দ্রুত ওঁকে নিয়ে মাঠে যেতে হবে।”

মাঠ থেকে সাধারণত যে পথে হাসপাতালে যাওয়া যায়, সেই পথে নিয়ে যাওয়া হয়নি হাসপাতালে। বিকল্প পথ নিয়েছিলেন সঞ্জয়রা। তিনি বলেন, “আমরা বড় রাস্তা ধরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কারণ, অন্য রাস্তায় দূরত্ব কম হলেও যানজট বেশি থাকে। অ্যাম্বুল্যান্স চালককে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন পথে যাবে। ও বলল, গুগল ম্যাপ দেখে যাবে। তখনই ঠিক করলাম, আমাকেও সঙ্গে যেতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে হেড কোয়ার্টারে কথা বললাম। গ্রিন করিডরের ব্যবস্থা হয়ে গেল।”

সাধারণত, অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা কোনও জরুরি অবস্থায় গ্রিন করিডর করা হয়। কিন্তু তা আগে থেকে ঠিক থাকে। ফলে প্রস্তুতি নেওয়া যায়। কিন্তু এনগিডির ঘটনা হঠাৎ করে হয়েছিল। তাই বেশি সময় ছিল না সঞ্জয়দের হাতে। সঞ্জয় বলেন, “দিল্লি পুলিশে আমি দু’দশক আছি। এত দিন এই ঘটনা দেখিনি। এই প্রথম বার হয়তো এত তাড়াতাড়ি গ্রিন করিডর তৈরি করা হল।”

দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের ডেপুটি কমিশনার নিশান্ত গুপ্ত জানিয়েছেন, গ্রিন করিডর করে এনগিডিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য ৬০ জন পুলিশকর্মী তৈরি ছিলেন। নিশান্ত বলেন, “আমরা সাধারণত এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকি। কিন্তু শনিবারের মতো ঘটনা আগে হয়নি। যখন শুনলাম সঞ্জয়রা স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দল কাজে লেগে পড়ল। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ৬০ জন পুলিশকর্মী ছিল। সকলে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছিল। মাত্র ১১ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছোয় অ্যাম্বুল্যান্স।”

হাসপাতালে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি বিভাগে ভর্তি করানো হয় এনগিডিকে। চিকিৎসকেরা জরুরি পরীক্ষা করে দেখেন। তবে বিপদের কোনও শঙ্কা ছিল না। রাতে ছেড়ে দেওয়া হয় দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারকে। পুলিশ যে ভাবে দ্রুত এনগিডিকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন, তার প্রশংসা করেছে দিল্লি ক্যাপিটালস। তবে সঞ্জয় সে সব ভাবছেন না। তিনি বললেন, “আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। ওই সময়ে যা করতে হত, সেটাই করেছি। এটাই তো আমার কাজ।”

সংক্ষেপে
  • ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
  • এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
  • আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার। গত বছর প্রথম বার ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু।
Lungi Ngidi Delhi Capitals
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy