Advertisement
E-Paper

৩ অধিনায়ক: আইপিএলে দল জঘন্য খেলায় নেতৃত্ব যেতে পারে যাঁদের

আইপিএলে জঘন্য খেলেছে তাঁদের দল। অধিনায়ক হিসাবে ব্যর্থ তাঁরা। তাই চলতি মরসুমের পরেই অধিনায়কত্ব হারাতে পারেন তিন অধিনায়ক।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ১৫:৪৩
cricket

আইপিএল ট্রফি। —ফাইল চিত্র।

পর পর দু’বছর নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু দু’বারই ব্যর্থ হয়েছে তাঁদের দল। পর পর দু’বার ব্যর্থতার খেসারত দিতে হতে পারে তিন অধিনায়ককে। চলতি মরসুমের পরেই অধিনায়কত্ব হারাতে পারেন তাঁরা। তালিকায় রয়েছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে, লখনউ সুপার জায়ান্টসের অধিনায়ক ঋষভ পন্থ ও দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক অক্ষর পটেল।

প্রথম দল হিসাবে প্লে-অফের দৌড় থেকে বাদ পড়েছে লখনউ। কেকেআর ও দিল্লি খাতায়-কলমে দৌড়ে থাকলেও তাদের প্লে-অফে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় নেই। এই পরিস্থিতিতে চাপে তিন অধিনায়ক। সংবাদসংস্থা পিটিআই একটি রিপোর্টে বলেছে, “তিন অধিনায়কের উপর খাঁড়া ঝুলছে। তাঁদের দল খুব খারাপ খেলেছে। ফলে এ বারের আইপিএল শেষ হলেই তাঁদের অধিনায়কত্ব যেতে পারে। দলগুলো থেকে তেমনটাই খবর পাওয়া যাচ্ছে। অজিঙ্ক রাহানে, অক্ষর পটেল ও ঋষভ পন্থ দুই মরসুমে অধিনায়কত্ব করেছেন। দু’বারই তাঁরা ব্যর্থ। ফলে এ বার তাঁদের যাওয়ার সময় হয়েছে।”

মূল্য চোকাতে ব্যর্থ পন্থ

আইপিএলের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার তিনি। ২৭ কোটি টাকায় তাঁকে কিনেছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। কিন্তু মূল্য চোকাতে পারেননি তিনি। পন্থের শরীরী ভাষা নেতিবাচক লেগেছে। ১১ ম্যাচে ২৫১ রান করেছেন তিনি। গত বছরের মতো এ বারও ব্যাটে রান নেই তাঁর। পর পর দু’বার প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ লখনউ।

সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, “পন্থের ক্ষেত্রে এটা স্পষ্ট যে, অধিনায়কত্ব তিনি ঠিক পারেন না। দিল্লির পর লখনউয়েও ব্যর্থ তিনি। রানে ফেরার জন্য বিভিন্ন ব্যাটিং অর্ডারে নেমেছেন। কিন্তু রান পাননি। তাঁকে দেখে বোঝা যাচ্ছে, অর্থের চাপ সামলাতে পারছেন না। যে দলে তিনি রয়েছেন, সেখানে ব্যর্থতার কোনও জায়গা নেই। ফলে আগের বার বেঁচে গেলেও এ বার আর পারবেন না পন্থ।” লখনউয়ে মিচেল মার্শ, এডেন মার্করাম ও নিকোলাস পুরানের মতো জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়া তিন অধিনায়ক রয়েছেন। তাঁদের কারও হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হতে পারে।

পরিকল্পনার অভাব অক্ষরের

অক্ষরের প্রধান সমস্যা পরিকল্পনার অভাব। সেই কারণেই টান টান ম্যাচ জিততে সমস্যা হয়েছে দিল্লির। ভাল জায়গা থেকেও হারতে হয়েছে। গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে দু’বলে দু’রান করতে পারেননি ডেভিড মিলার। করুণ নায়ারের জোড়া ক্যাচ মিস্‌ পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে দিল্লিকে হারিয়েছে। বিশেষ করে অক্ষর নিজে অনেক ম্যাচে বল করতে ভয় পেয়েছেন। অধিনায়কই যদি ভয় পান, তা হলে দল কী ভাবে জিতবে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, “১২ ম্যাচে অক্ষর মাত্র ৩৬ ওভার বল করেছেন। নিয়েছেন ১০ উইকেট। অধিনায়কের এই ভয় দলের মধ্যেও ছড়িয়েছে।” দল নির্বাচনেও ব্যর্থ অক্ষর। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “অভিষেক পোড়েলকে গোটা মরসুম খেলানো হয়নি। সুযোগ পাননি মাধব তিওয়ারিও। বদলে সাহিল পরখ, করুণ নায়ারদের বেশি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে প্রতি দু’বছর অন্তর জেএসডব্লিউ ও জেএমআর গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়। জেএমআর গোষ্ঠী অক্ষরকে অধিনায়ক করেছিল। পরের বার দায়িত্ব পার্থ জিন্দলের জেএসডব্লিউ গোষ্ঠীর হাতে ফিরবে। ফলে অক্ষরের বিদায় পাকা।” দলের লোকেশ রাহুলের মতো ক্রিকেটার রয়েছে। পরের বছর তাঁকে অধিনায়কত্ব দেওয়া হতে পারে।

আত্মবিশ্বাসের অভাবে ডুবলেন রাহানে

রাহানেকে অধিনায়ক করার কথা শুরুতে ভাবেনি কেকেআর। নিলামে শেষ মুহূর্তে কেনা হয়েছিল তাঁকে। ৩৭ বছরের এই ক্রিকেটার বহু বছর টি-টোয়েন্টির বাইরে। ২০২৪ সালে কেকেআরকে চ্যাম্পিয়ন করা অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারকে ছেড়ে রাহানেকে অধিনায়ক করে কেকেআর যে ভুল করেছে, তার খেসারত দিতে হচ্ছে। মাঠে রাহানেকে দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে তাঁর। একটাই পরিকল্পনা নিয়ে নামেন। সেটা কাজ না দিলে কোনও বিকল্প নেই।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, “রাহানেকে অধিনায়কত্ব করার সিদ্ধান্ত বুঝিয়ে দিয়েছিল, কেকেআরের হাতে কোনও বিকল্প নেই। বন্ধু অভিষেক নায়ার প্রধান কোচ হওয়ায় সুবিধা হয়েছে রাহানের। কিন্তু রাহানে ও অভিষেকের জুটি ব্যর্থ। ফলে এ বার রাহানেকে সরানোর সময় এসেছে।” টানা ছ’টি ম্যাচে জয় অধরা থাকার সময় ইডেনে কেকেআর-পঞ্জাব ম্যাচ চলাকালীন দলের মালিক শাহরুখ খানের সঙ্গে সিইও বেঙ্কি মাইসোরের কথোপকথন থেকে ইঙ্গিত, রাহানের ভবিষ্যৎ ভাল নয়। তবে কেকেআরের সমস্যা বিকল্প অধিনায়ক নেই। সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিংহকে পাকাপাকি ভাবে অধিনায়ক করতে পারে তারা। ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেকেআর।

সংক্ষেপে
  • ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
  • এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
  • আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার। গত বছর প্রথম বার ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু।
Ajinkya Rahane Rishabh Pant Axar Patel
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy