প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার আয়োজন ঘিরে শনিবারও সরগরম থাকল দুর্গাপুর। ওই দিন বিজেপি-র অন্যতম রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু সভার আয়োজনে পুলিশ ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন। ওই দিনই দুর্গাপুরের একটি হোটেলে সাত জেলার নেতা, কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন সায়ন্তনবাবু। সেখানে ওই জেলাগুলিতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-সহ বেশ কয়েক জন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সভা করার কথা জানানো হয়।

বিজেপি সূত্রে জানা যায়, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য প্রাথমিক ভাবে রাজীব গাঁধী ময়দানকে বেছে নেওয়া হয়।  এখানেই ২০১৬-য় সভা করেছিলেন স্মৃতি ইরানি। মাঠটিতে যোগাযোগের সুবিধা রয়েছে। কিন্তু ৩ ফেব্রুয়ারি ওই মাঠে একটি ধর্মীয় সংগঠনের সমাবেশ রয়েছে। তারা মণ্ডপও তৈরি করছে। শুক্রবার বিজেপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এসপিজি ও পুলিশ মাঠ পরিদর্শন করে। পরে জানানো হয়, এই মাঠে প্রধানমন্ত্রীর সভা করা যাবে না। কারণ, হাজার হাজার লোকের রান্নাবান্না-সহ অন্যান্য কাজের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি থেকেই ওই ধর্মীয় সংগঠনের লোকজন আসতে শুরু করবেন মাঠে। ওই দিনই এসপিজি ও পুলিশ নেহরু স্টেডিয়ামও পরিদর্শন করে। ঠিক হয়, সেখানে সভা হলে হেলিকপ্টার নামবে বি-জোন মাল্টিপারপাস স্কুলের মাঠে। সেখান থেকে সড়কপথে স্টেডিয়ামে পৌঁছবে প্রধানমন্ত্রীর কনভয়।

শনিবার অবশ্য এই সভা-স্থল বদলের বিষয়ে সায়ন্তনবাবু বলেন, ‘‘সভার জন্য আসা সবার জায়গা হবে না নেহরু স্টেডিয়ামে। রাজীব গাঁধী ময়দানে হলে সুবিধা হত। কিন্তু তৃণমূল ও পুলিশের বাধায় তা হল না। সভার জন্য নেহরু স্টেডিয়াম বেছে নেওয়া হয়েছে।’’ বিজেপি-র অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর সভা থাকলে পুলিশ রাজীব গাঁধী ময়দানে ধর্মীয় সংগঠনের সভা সরিয়ে নিতে বলত। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সভা বিকেল ৩টের আগে শেষ হয়ে যাবে। প্রয়োজনে দলীয় কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সভার পরে ওই ধর্মীয় সংগঠনের কাজে সহযোগিতাও করতেন, দাবি বিজেপি-র।

রবিবার বিজেপি দাবি করে, রাজীব গাঁধী ময়দানে তিন লক্ষ লোকের সমাবেশ হয়। কিন্তু নেহরু স্টেডিয়ামে অত মানুষের জায়গা হবে না।  শনিবার সায়ন্তনবাবু বলেন, ‘‘সমাবেশে ব্যাপক ভিড় হবে। সবার জায়গা হবে না স্টেডিয়ামে। বাইরে বড় স্ক্রিন লাগানোর কথা ভাবা হচ্ছে।’’ 

রবিবার তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সভার বিষয়ে নিরাপত্তা-সহ নানা দিক খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত হয়। লোক হবে কি না, সংশয় থেকেই বাধা দেওয়ার মতো ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে বিজেপি।’’ এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মীনারায়ণ মিনা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে কমিশনারেটের একাধিক কর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার কথা ভেবে এসপিজি-ই রাজীব গাঁধী ময়দানে সভার প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। তা ছাড়া সভার জন্য পুলিশের কাছে বিজেপি-র তরফে কোনও আবেদন করা হয়নি। সায়ন্তনবাবু বলেন, ‘‘স্টেডিয়ামের অনুমোদনের কাগজপত্র পেলেই পুলিশের কাছে আবেদন জানানো হবে।’’