বিরোধিতা ভোটের সময়। তার পরে পারস্পরিক সহযোগিতায় গঠনমূলক ভূমিকা। এ ভাবেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দিঘায় একটি সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘রাজনৈতিক বিরোধিতা হোক ভোটের সময়। আমি আমার সংসদীয় দলকে বলে দিয়েছি, গঠনমূলক ভূমিকা নিতে। যে যেখানে ক্ষমতায় এসেছেন, কাজ করুন। আমরা আমাদের কাজ করছি।’’

দিল্লি ও কলকাতার দুই শাসকের রাজনৈতিক বৈরিতার ছাপ ক্রমশ গভীর হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা না করার কথা শোনা গিয়েছে স্বয়ং মমতার মুখেও। সেই মমতাই এ দিন কার্যত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কেন্দ্র-রাজ্য পারস্পরিক সহায়তার উপর জোর দিতে চাইলেন। তাঁর বার্তা, ‘‘প্রতিযোগিতা হোক কাজের। দাঙ্গার নয়। প্রতিযোগিতা হোক শান্তির। ধ্বংসের নয়, নির্মাণের।’’

রাজ্যের কর্মসংস্কৃতি ফিরেছে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘আমি বিজেপির বিরোধী হলেও রাজ্যে কেন্দ্র-বিরোধী বন্‌ধ করতে দিই না।’’ তারপরই তিনি বলেন, ‘‘আগে ৪০ লক্ষ শ্রমদিবস নষ্ট হয়েছে। আমাদের সময় সেই সংখ্যাটা শূন্য।’’ সরকার পরিচালনায় এই অবস্থান নিলেও মতাদর্শের প্রশ্নে এদিনও বিজেপিকে এক হাত নিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘মাথায় ফেট্টি বেঁধে, হাতে ডান্ডা নিয়ে হিংসার পথে যাবেন না। তাতে সবারই মুখ পুড়বে।’’

পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপি সদস্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে বলে এ দিন সন্ধ্যায় দলীয় বৈঠকে দুই বিধায়ক মমতাকে জানান। ঘাসফুলের করণীয় কী, সে প্রশ্নে মমতা প্রত্যেককে নিজের নিজের এলাকায় সভা-সমাবেশ করার পরামর্শ দেন বলে দলীয় সূত্রের খবর। একই সঙ্গে জনসংযোগেও যাতে কোনও রকম খামতি না হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখতে মমতা নির্দেশ দেন। সরকারি প্রকল্পের প্রচারেও বিধায়কদের নজর দিতে বলেছেন মমতা।