এ বার লোকসভায় পৌঁছে গেল ‘কাটমানি’ বিতর্ক। মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ মঙ্গলবার কাটমানি প্রসঙ্গ টেনে তীব্র কটাক্ষে বিঁধলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কাটমানি ফেরত দেওয়ার জন্য আলাদা আইন করার কথা ঘোষণা করতে হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীকে, বুঝে নিন কেমন সরকার চলেছে গত আট বছরে— কটাক্ষ রাজ্য বিজেপি সভাপতির। আর গোটা দেশ থেকে আসা জনপ্রতিনিধিদের সামনে তৃণমূল তথা মমতাকে বিজেপির এই তীব্র আক্রমণ সত্ত্বেও দিলীপের ভাষণের সময়ে প্রায় নীরবই রইল তৃণমূল।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপরে মঙ্গলবার লোকসভায় ধন্যবাদ জ্ঞাপক ভাষণ দেন দিলীপ। সেই ভাষণেই তিনি তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন। দিলীপ বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী একটা নতুন শব্দের জন্ম দিয়েছেন— কাটমানি।’’ এই কাটমানি আসলে কী, সংসদে এ দিন তার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাও দেন দিলীপ। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নাগরিকের কাছে তখনই পৌঁছয়, যখন তাঁরা তৃণমূল নেতাদের টাকা দেন আর সেই টাকাকেই কাটমানি নামে ডাকা হচ্ছে— ব্যাখ্যা দিলীপের।

এর পরে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। তিনি বলেন, ‘‘আট বছর ধরে যাঁরা কাটমানি খেয়েছেন, আজ মানুষ তাঁদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন যে, কাটমানি ফেরানোর জন্য আমরা আলাদা আইন বানাব। এই হল ওখানকার জনপ্রিয় সরকার!’’

কাটমানি প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতেই দিলীপ ঘোষ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক হিংসা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থার হাল নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলে দেন। তৃণমূল এত দিন ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন ঘটাচ্ছিল, এ বার ভাষার ভিত্তিতে বিভাজন ঘটাচ্ছে, বাঙালি আর বিহারির মধ্যে বিরোধ তৈরির চেষ্টা করছে— এমন গুরুতর অভিযোগও দিলীপ ঘোষ করেন।

আরও পড়ুন: ‘মানিব্যাক’! বীরভূমে সওয়া দু’লাখেরও বেশি ‘কাটমানি’ ফেরত দিলেন তৃণমূল নেতা

আরও পড়ুন: গত পাঁচ বছর ধরে দেশে সুপার ইমার্জেন্সি চলছে, মোদীকে ফের আক্রমণ মমতার

বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য বিজেপি। ভাটপাড়ায় একটানা অশান্তির প্রেক্ষিতে বিজেপি কেন্দ্রীয় দলও পাঠিয়েছে। মঙ্গলবার আরও এক ধাপ এগিয়ে লোকসভায় উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে দিলীপ ঘোষের আহ্বান— বাংলায় গিয়ে দেখে আসুন সেখানকার পরিস্থিতি। রাজ্য বিজেপির সভাপতির কথায়, ‘‘তৃণমূলের সরকার আট বছর ধরে চলছে, পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তা সত্ত্বেও ওঁদের সাংসদ-বিধায়ক-কাউন্সিলররা পালিয়ে পালিয়ে আমাদের কাছে আসছেন।’’

দিলীপ ঘোষের ভাষণ এ দিন খুব সংক্ষিপ্ত ছিল না। আর সে ভাষণের সিংহ ভাগ জুড়েই ছিল তৃণমূলের প্রতি তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কটাক্ষ। গত লোকসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি এই রকম কোনও আক্রমণ হলেই রে-রে করে উঠতে দেখা যেত তৃণমূল সাংসদদের। এ দিন দিলীপ ঘোষ কিন্তু কোনও বাধা পাননি। মমতাকে তীব্র কটাক্ষে বিঁধেও প্রায় নির্বিঘ্নে নিজের ভাষণ শেষ করেছেন তিনি।