• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নজরে ২০২১, চার দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

mamata
উত্তরবঙ্গ দিয়েই শুরু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম জেলা সফর। ফাইল চিত্র।

মাস ছয়েক পর আবার জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২১ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে তাঁর সফর। গত লোকসভা ভোটে যে অঞ্চলে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে তৃণমূল, বিধানসভা ভোটের আগে সেই উত্তরবঙ্গ দিয়েই শুরু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম জেলা সফর। চার দিনের সফরে পাঁচ জেলার প্রশাসনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বৈঠক করবেন। বৈঠকে ডাক পেতে পারেন দলের বিধায়করাও। মমতার উত্তরবঙ্গ সফরে কোনও ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচি এখনও পর্যন্ত নেই। কিন্তু বিধানসভা ভোটের আগে জেলায় জেলায় যে শেষ দফার প্রশাসনিক সফর মুখ্যমন্ত্রী শুরু করতে চলেছেন, তার ‘রাজনৈতিক তাৎপর্য’ অনেকটাই বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।

২১ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা থেকে আকাশপথে পৌঁছবেন বাগডোগরা। সেখান থেকে সোজা উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সচিবালয় উত্তরকন্যায়। চার দিনের সফরের পুরোটাই মুখ্যমন্ত্রী সেখানে থাকবেন বলে নবান্ন সূত্রের খবর। ২২ এবং ২৩ তারিখ সেখানেই প্রশাসনিক কর্তা ও বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করবেন। ২২ তারিখ বৈঠক জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে। ২৩ তারিখ দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারের সঙ্গে। ২৪ তারিখ বাগডোগরা হয়ে কলকাতায় ফেরার কথা মুখ্যমন্ত্রীর।

যে জেলাগুলি নিয়ে এই দফায় বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী, সেই পাঁচটি-সহ উত্তরবঙ্গের আটটি জেলাতেই লোকসভা ভোটে ধরাশায়ী হতে হয়েছে তৃণমূলকে। উত্তরবঙ্গের একটি আসনেও জিততে পারেনি তারা। সাতটি আসন গিয়েছে বিজেপি-র ঝুলিতে। একটি পেয়েছে কংগ্রেস। ফলে বিধানসভা ভোটে এখন উত্তরবঙ্গে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া তৃণমূলের জন্য জরুরি। টানা চার দিন শিলিগুড়িতে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক শাসকদলকেও চাঙ্গা করবে বলে তৃণমূলের একাংশের অভিমত।

তবে লোকসভা ভোটের পরে এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গ সফর করছেন না। এর আগে কোচবিহারে রাসমেলার উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন তিনি। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি সে সফরে কিছু রাজনৈতিক কর্মসূচিও ছিল। জেলার তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিয়ে সভা করে সংগঠন চাঙ্গা করার নানা দাওয়াইও সে বার মুখ্যমন্ত্রী বাতলে দিয়ে এসেছিলেন। তবে সম্প্রতি গোটা রাজ্যে তৃণমূলের ব্যাপক সাংগঠনিক রদবদলের পর এটাই দলের সর্বময় নেত্রীর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে তৃণমূল এখন থেকেই ঘর গোছাতে নামছে। সেই লক্ষ্যেই রাজ্য থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত ঢেলে সাজানো হয়েছে সংগঠন। ঢেলে সাজানো হয়েছে যুব সংগঠনও। কিছুটা পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে মমতার চার দিনের সফর উত্তরবঙ্গে তৃণমূলকে কতটা চাঙ্গা করতে পারে, সে দিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক শিবিরের।

আরও পড়ুন: মুকুল রায়ের প্রতি তৃণমূলের মনোভাব ‘নরম’, জল্পনা বিজেপিতে

বিধানসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী যাবতীয় প্রশাসনিক কাজ এবং পরিকল্পনাও গুছিয়ে নিতে চাইছেন। যে সব উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ চলছে বা যেগুলি ঘোষিত হয়েছে, সেগুলি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করে ফেলতে হবে- সব জেলাকে মুখ্যমন্ত্রী এমন নির্দেশ দিয়েছেন বলেই নবান্ন সূত্রের খবর। এই সফরে পাঁচ জেলার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে সেই সব কাজের গতিপ্রকৃতি খতিয়ে দেখবেন তিনি। পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেবেন। উত্তরবঙ্গ পুনরুদ্ধারের যে লক্ষ্য তৃণমূলের সামনে বেঁধে দিয়েছেন মমতা, তা পূরণের পথে প্রশাসনিক গাফিলতি যাতে কোনও রকম বাধা হয়ে না দাঁড়াতে পারে, মুখ্যমন্ত্রী তা নিশ্চিত করে আসতে চান বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন: পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে স্কুল কলেজ খোলা হবে না: পার্থ

করোনা সংক্রমণ এবং তার জেরে লকডাউনের ফলে মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফর প্রায় ছ’মাস বন্ধ ছিল। শুধু ঘূর্ণিঝড় আমপানের পর বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনের জন্য দুই ২৪ পরগনার কয়েকটি এলাকায় মমতা গিয়েছিলেন। সংক্রমণ থেমে গিয়েছে, এমন নয়। কিন্তু দেশের সরকার ধীরে ধীরে লকডাউন তুলে দিচ্ছে। ক্রমশ সরকারি অফিস, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং গণপরিবহণ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। তাই জেলা সফরও আর বন্ধ রাখতে চাইছেন না মুখ্যমন্ত্রী।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন