জঙ্গলমহলে ফের মাওবাদী সংগঠন তৈরি করা হচ্ছে। আর সেই সংগঠন ছড়াতে কলকাতা থেকে কয়েক জন গিয়েছেন।মাকলি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জঙ্গল লাগোয়া একটি ফুটবল মাঠে জড়ো হয়েছেন তাঁরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই মঙ্গলবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে জঙ্গল লাগোয়াওই মাঠ থেকেই চার জনকে গ্রেফতার করে তারা।

ধৃতেরা হলেন সব্যসাচী গোস্বামী, সঞ্জীব মজুমদার, অর্কদীপ গোস্বামী ও টিপু সুলতান ওরফে স্বপন। সব্যসাচী ও সঞ্জীব সোদপুরের বাসিন্দা। অর্কদীপ ওরফে বিজয়ের বাড়ির কলকাতার পর্ণশ্রী এলকায়। টিপু সুলতানের বাড়ি বীরভূমে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু লিফলেট ও প্রচার পুস্তিকা উদ্ধার হয়েছে। তাতে মাওবাদী রাজ্য কমিটির সম্পাদক আকাশের নাম রয়েছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গলমহলের আদিবাসীদের সশস্ত্র লড়াইয়ের ডাক দেওয়ার কথা লেখা রয়েছে ওই প্রচার পুস্তিকা ও লিফলেটগুলিতে।ধৃতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৯, ১২০, ১২১, ১২২, ১২৩, ১২৪এ-সহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এ দিন ধৃতদের গড়বেতা আদালতে তোলা হবে।

ধৃতদের সঙ্গে মাওবাদী যোগের কথা অস্বীকার করেছে এপিডিআর। সংগঠনের পক্ষ থেকে রঞ্জিত শূর বলেন, “আমরা ওঁদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেছি। আদিবাসীদের উন্নয়ন ও কয়েকটি সমীক্ষার কাজে গতকালই জঙ্গলমহলে গিয়েছিলেন সব্যসাচী-অর্কদীপরা। পুলিশ ওঁদের গ্রেফতার করেছে।” অবিলম্বে ধৃতদের মুক্তির দাবিও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: মৃত্যুর হাহাকার নেই, জীবিত শবরপল্লির চিন্তা শুধু দু’মুঠো ভাত

আরও পড়ুন: কতটা ফাঁপা উন্নয়ন, বোঝা যাচ্ছে মৃত শবরদের গ্রামে পা রাখলেই

সব্যসাচীর নাম এর আগেও কয়েক বার প্রকাশ্যে এসেছে। শীর্ষ মাওবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত। অর্কদীপ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পড়েছেন। অন্য দিকে, বিশ্বভারতীতে স্নাতকোত্তর শেষ করে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হয়েছেন টিপু ওরফে স্বপন।