তাঁর কাজকর্ম নিয়ে সংসদে শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই মুখ খুলেছেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। রাজ্যপালকে দিয়ে এ রাজ্যে রাজনীতি করানো হচ্ছে, এমন অভিযোগ সোমবার করে তৃণমূল। সেই আবহেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় জানিয়ে দিলেন, তাঁর কাজ তিনি করে যাবেন। সংবিধান তাঁকে সেই অধিকার দিয়েছে।

এ দিন শিলিগুড়িতে অষ্টম সর্বভারতীয় পুলিশ আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। পরে সেখানে তিনি জানান, যখন যেখানে প্রয়োজন পড়বে সেখানেই যাবেন তিনি। এ ব্যাপারে কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক এখনও থামেনি। তার মধ্যেই এমন মন্তব্য করে রাজ্যপাল শাসকদলের সঙ্গে সংঘাত জিইয়ে রাখলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।  

সম্প্রতি সিঙ্গুর থেকে ঘুরে এসেছেন রাজ্যপাল। আগামী দিনে নন্দীগ্রামও যেতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর সেই মন্তব্য নিয়ে এখনও কাটাছেঁড়া চলছে। সাংবিধানিক পদে থেকেও তিনি রাজনীতি করছেন, বিজেপির এজেন্টের মতো আচরণ করছেন— এমন অভিযোগও তুলেছে তৃণমূল। কিন্তু রাজ্যপাল এ দিন বলেন, ‘‘রাজ্যবাসীর সেবা করতে সব জায়গায় যেতে হবে। যেখানে দরকার পড়বে সেখানেই যাব। কারও অনুমতির দরকার নেই। দেশের সংবিধান আমাকে অধিকার দিয়েছে। রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে যেতে পারি আমি। হেলিকপ্টার না পেলেও যাব।’’

আরও পড়ুন: ফারুখ আবদুল্লা কোথায়? শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তাল সংসদ​

শিলিগুড়িতে রাজ্যপালের বৈঠক চলাকালীনই তাঁর কাজকর্ম নিয়ে সংসদে অভিযোগ করেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যপাল বাংলায় যা করছেন, তা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। ওঁকে দিয়ে রাজনীতি করাচ্ছেন কেন? রাজনীতি যদি করতেই হয়, তাহলে রাজভবন ছেড়ে দিয়ে করুন।’’ সুখেন্দুর সেই মন্তব্য গুরুত্ব না দিয়ে ধনখড় বলেন, ‘‘সংসদে অভিযোগ করতেই পারেন সাংসদ। সংবিধানের অধিকারে নির্ভীক ভাবে কাজ করে যাব আমি।’’

রাজ্যপাল বিজেপির মুখপাত্রের মতো আচরণ করছেন, এ রাজ্যে সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর চেষ্টা করছেন বলে কয়েক দিন আগেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে প্রসঙ্গে এ দিন ধনখড় বলেন, ‘‘এই অভিযোগ মানছি না আমি। বিমানবন্দর থেকে সর্বত্র মুখ্যমন্ত্রীর কাটআউট লাগানো রয়েছে। কোথাও আমার কাটআউট রয়েছে কি? জেলাশাসকরা পর্যন্ত চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, রাজ্যের অনুমতি ছাড়া কাউকে ডাকা যাবে না। ৫০ দিন হয়ে গেলেও আমার ডাকে সাড়া দেওয়ার সময় পেলেন না মুখ্যসচিব। তা হলে কী করে সমান্তরাল প্রশাসন চালাচ্ছি আমি?’’

মুখ্যমন্ত্রী যেমন তাঁকে তাঁর ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তেমনই মুখ্যমন্ত্রীও তাঁর কর্তব্য পালন করেননি বলেও অভিযোগ করেন ধনখড়। তাঁর বক্তব্য, ‘‘রাজ্যপাল কেন্দ্রের এজেন্ট, তাঁকে কিন্তু সংবিধানই অধিকার দিয়েছে। অনেকে বলছেন আমি নাকি পর্যটক, কেউ তা ভেবে থাকলে ভুল করছেন। রাজ্যে কী ঘটছে না ঘটছে, সে সম্পর্কে আমাকে অবগত করা কর্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর। বুলবুল নিয়ে রাজ্যপালকে রিপোর্ট করা উচিত ছিল মুখ্যমন্ত্রীর।’’

আরও পড়ুন: এ বার নাম পরিবর্তন আগরার? তোড়জোড় শুরু করল যোগী সরকার​

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যপালের এ সব মন্তব্য রাজ্যের সঙ্গে তাঁর সংঘাতের আবহকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।