নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে অসমে এনআরসি-র প্রথম ‘পরীক্ষা’। তাতে বাদ গিয়েছে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম। তা নিয়ে ক্ষোভ জমছে অসমেও। দেশ জুড়েও জারি রয়েছে শাসক-বিরোধী তরজা। সেই আবহে এই ইস্যু নিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতার পথে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পদযাত্রা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারিও দিলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী এ দিন বলেন, ‘‘অসমে যে ১৯ লক্ষ মানুষ এনআরসিতে বাদ পড়েছেন তার মধ্যে ১২ লক্ষ হিন্দু রয়েছেন। ১৯ লক্ষ মানুষের মধ্যে রয়েছেন বৌদ্ধ, মুসলিম ও গোর্খারাও।’’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘অনেকে জন্মের শংসাপত্র দিয়েও এনআরসিতে ঠাঁই পাননি।’’

লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশ জুড়ে এনআরসি করার ‘প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছিল বিজেপি। মোদী সরকার দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি প্রকাশিত হয়। দুইয়ে দুইয়ে চার করেই অসমের উদাহরণকে এ বার দেশের বিভিন্ন জায়গায় তুলে ধরতে শুরু করেছেন বিজেপি নেতারা। এ রাজ্যেও এনআরসি করার ‘হুঁশিয়ারি’ দিচ্ছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের নেতারা। তা নিয়ে এ দিন কেন্দ্রকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: হাজরায় মমতার উপর হামলা, ২৯ বছর পর ‘প্রমাণের অভাবে’ বেকসুর খালাস লালু আলম​

এনআরসি-র সঙ্গে ব্রিটিশ আমলে, ভাইসরয় লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের তুলনা করেছেন তিনি। সম্প্রতি রাজ্যে এনআরসি করে দু’কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার কথা বলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তা নিয়ে  এ দিন চ্যালেঞ্জের সুরে মমতা বলেন, ‘‘আর একটা বঙ্গভঙ্গের চেষ্টা করলে চলবে না, আগুন নিয়ে খেলবেন না। ক্ষমতা থাকলে বাংলার গায়ে হাত দিয়ে দেখান। দু’কোটি কেন, দু’জনের গায়ে হাত দিয়ে দেখান।’’

কয়েক দিন আগে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এনআরসি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে এনআরসি যে তিনি মানবেন না তা সাফ জানিয়ে দেন তিনি। তার পরেই এনআরসি নিয়ে পথে নেমে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন তৃণমূল নেত্রীর। এ দিন সিঁথি থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত পদযাত্রা করেন তিনি।

আরও পড়ুন: নিশানা শুধুমাত্র মমতা, অনৈক্য সামলান: বঙ্গ বিজেপিকে হুঁশিয়ারি শাহের​