• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নরেন্দ্রপুরে যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুন

Murder
খাল থেকে উদ্ধার শুভঙ্কর দে-র দেহ। নিজস্ব চিত্র।
ঘরের দরজা ভেঙে এক যুবককে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। অপহরণের তিন দিন পর উদ্ধার হল ওই যুবকের নলিকাটা দেহ উদ্ধার হল স্থানীয় একটি খালে। অভিযোগ, অপহরণের পর খুন করা হয়েছে ওই যুবককে। ঘটনাটি ঘটেছে নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার ৫২ পল্লিতে। এখনও এই ঘটনায় কোনও অভিযুক্ত গ্রেফতার হননি। তবে প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীদের অনুমান, পুরনো শত্রুতার জেরেই এই ঘটনা।
 
নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার ৫২ পল্লির বাসিন্দা ছিলেন শুভঙ্কর দে (৩০)। তিনি মায়ের সঙ্গেই থাকতেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত ২০ এপ্রিল মধ্যরাতে ১০-১২ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। তারা দরজা ভেঙে শুভঙ্করকে অস্ত্র দেখিয়ে তুলে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পাড়ার বাসিন্দারা শুভঙ্করের খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু রাস্তায় কয়েক জায়গায় রক্তের ছোপ ছাড়া শুভঙ্করের কোনও হদিশ তাঁরা পাননি। রাতেই খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। এর পর বৃহস্পতিবার সোনাপোতা-ছাতিমতলা খালে শুভঙ্করের দেহ পাওয়া যায়।  পুলিশ সূত্রে খবর, দেহটিতে পচন ধরে গিয়েছে। ফলে ময়নাতদন্তের আগে বলা সম্ভব নয় কী ভাবে খুন করা হয়েছে। তবে দেহটি উদ্ধার করার সময় দেখা যায়, মৃতের পা বাঁধা এহং হাতও পিছমোড়া করে বাঁধা। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের ধারণা গলার নলি কেটে খুন করা হয়েছে ওই যুবককে।
 
ইন্দ্রনীল দাস ৫২ পল্লিরই বাসিন্দা। এ দিন শুভঙ্করের ওই বন্ধু বলেন, ‘‘পরের দিন পুলিশ কুকুর নিয়ে তল্লাশি শুরু হয়। কিন্তু কয়েক জায়গায় শুকনো রক্তের দাগ এবং শুভঙ্করের পরনের লুঙ্গি ছাড়া কোনও কিছুর হদিশ পেতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। আজ খালের ধারে শুভঙ্করের দেহ পাওয়া যায়।” ইন্দ্রনীল এলাকার সক্রিয় তৃণমূল নেতা এবং গড়িয়া-গঙ্গাজোয়ারা অটো রুটের সহকারি সচিব। তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রায় ৬ মাস আগে একটি রাস্তা অবরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদর্শনগরের যুবকদের সঙ্গে ওর গন্ডগোল হয়েছিল।” অভিযোগ, আদর্শনগরের বাসিন্দারা পিচ রাস্তার দাবিতে পথ অবরোধ করেছিল ৫২ পল্লির সামনে। জায়গাটি সোনারপুর-রাজপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। সেই অবরোধ ঘিরে ৫২ পল্লির যুবকদের সঙ্গে আদর্শনগরের অবরোধকারীদের সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ, এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে আদর্শনগরের কিছু যুবক হামলা চালায় ৫২ পল্লির যুবকদের উপর। ইন্দ্রনীলের দাবি, ‘‘তিনটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। কিন্তু কেউ গ্রেফতার হননি।”
 
 
শুভঙ্করের খুড়তুতো ভাই সুজয় দে পুলিশকে জানিয়েছেন, ৫২ পল্লির পাশের এলাকা আদর্শনগরের কয়েক জন দুষ্কৃতী এই খুনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি ঘটনার পিছনে পুরনো শত্রুতাকেই কারণ হিসাবে জানিয়েছেন পুলিশকে। অভিযোগ, হামলাকারীদের মধ্যে বিশ্বজিৎ সাহা, সঞ্জয় সরকারের মতো কুখ্যাত দুষ্কৃতীরাও আছে। গোটা ঘটনা স্থানীয় বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম এবং তাঁর স্বামী নজরুল ইসলামকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর বিভাস মুখোপাধ্যায়কেও গোটা ঘটনা জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দ্রনীল।
 
বারুইপুর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক বলেন, ‘‘আমরা এফআইআরে উল্লেখ থাকা অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছি। ঘটনার পিছনে পুরনো শত্রুতা আছে বলে মনে হচ্ছে।”

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন