লোকসভা এবং বিধানসভা উপ নির্বাচনে হারের পর পাহাড়ের রাজনীতিতে খানিকটা পিছিয়ে পড়েছিলেন বিনয় তামাং। তবে হারের পরও তিনি বারবার বলেছেন পাহাড়ের মানুষের দাবি আদায়ে পাশে থাকবেন এবং নির্বাচনের সময় দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি পালন করবেন। চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাসের দাবিতে তাঁর অনশন আজ চতুর্থ দিনে পড়ল। দলীয় সভাপতির অনশনকে হাতিয়ার করে পাহাড়ে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে নতুন করে পরিকল্পনা করছে বিনয়পন্থী মোর্চা। 

বিনয়ের অনশনকে ইতিমধ্যেই সমর্থন জানিয়েছে সাত দলের চা শ্রমিক সংগঠনগুলির যৌথ কমিটি। সেই কমিটিতে বিজেপি ও তাদের জোটসঙ্গী বিমলপন্থী মোর্চা ও জিএনএলএফ ছাড়া পাহাড়ের মূল সব দলগুলিই আছে। বিমলপন্থী মোর্চা ও জিএনএলএফ আবার শ্রমিকদের বোনাস আন্দোলনকে সমর্থন করেছে। ফলে চা শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের পথ প্রসস্ত হচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

মঙ্গলবার থেকে বিনয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। প্রতিদিন চার-পাঁচবার করে দার্জিলিং জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিনয়ের শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখছেন। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চার বার চিকিৎসকরা অনশন মঞ্চে এসে বিনয়ের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন। চিকিৎসকরা বিনয়কে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলেই জানিয়েছেন তাঁর দলের নেতারা। যদিও বিনয় সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিনয়ের রক্তচাপ অনেকটাই কমেছে। হৃদ স্পন্দনও স্বাভাবিকের থেকে কম হচ্ছে। শরীরে দ্রুত জলের প্রয়োজন। অন্যদিকে স্বামীর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিনয়ের স্ত্রী সমঝনা থাপা তামাং। তিনি বলেন, ‘‘মহৎ দাবিতে কষ্ট স্বীকার করছেন। চার দিন ধরে অনশনে আমাদের কিন্তু চিন্তা বাড়ছে। বাড়িতে আমাদেরও খাওয়া দাওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরুন সেটাই চাই।’’  

বিনয়পন্থী মোর্চার সাধারণ সম্পাদক অনীত থাপা বলেন, ‘‘যে আন্দোলন করা উচিত ছিল বিজেপি ও তাদের জোটসঙ্গীদের সেই আন্দোলন করছেন বিনয় তামাং। যারা ভোটে জিতেছেন তারা ঠান্ডা ঘরে বসে আছেন। আর আমরা ভোটে হেরে গিয়েও শ্রমিকদের পাশে আছি। এটাই বিজেপির সঙ্গে আমাদের তফাৎ। এই কথাগুলিই আমরা সাধারণ মানুষকে বোঝাচ্ছি।’’ বিজেপির পাহাড় কমিটির সভাপতি মনোজ দেওয়ান বলেন, ‘‘বিনয়পন্থী মোর্চা নেতারা গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন।’’