রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের নিরাপত্তার ভার সিআরপিএফের হাতে তুলে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গোটা দেশে জ়েড ক্যাটাগরির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাবেন তিনি। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সপ্তাহ থেকেই রাজ্য পুলিশের বদলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা রাজ্যপালের নিরপত্তায় বহাল হবেন। নবান্ন সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে। 

রাজ্যপালের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ‘নজিরবিহীন’ বলেই মনে করছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের কর্তারা। এখন উত্তর-পূর্বের জঙ্গি অধ্যুষিত দুই রাজ্যের রাজ্যপালকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গে অতীতে কখনও কোনও রাজ্যপালের জন্য এমন ব্যবস্থা হয়নি বলে জানাচ্ছেন ভিআইপি-নিরাপত্তা বিভাগের কর্তারা। 

নবান্নের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উপদেষ্টা (ভিআইপি নিরাপত্তা) আর চতুর্বেদী গত মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্রকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, রাজ্যপালের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সির রিপোর্ট পেয়ে আলোচনার পরেই সিআরপি মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের হাতে ঘেরাও হওয়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে মুক্ত করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যপাল। তাঁর গাড়িও আটকে পড়ে। এর পর গত ২ অক্টোবর রাজ্যপালের সচিব সতীশ তিওয়ারি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি লিখে রাজ্যপালের নিরাপত্তা জ়েড-প্লাস স্তরে উন্নীত করার অনুরোধ করেন। সে ব্যাপারে রাজ্য এখনও কোনও পদক্ষেপ করেনি। এর মাঝেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। ধনখড়কে যে কেন্দ্রীয় জ়েড ক্যাটাগরি নিরাপত্তা দেওয়া হবে তা রাজ্য পুলিশের জ়েড-প্লাস নিরাপত্তার সমতুল। এখন রাজ্য পুলিশের তরফে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জ়েড-প্লাস নিরাপত্তা পান। 

নবান্নের কর্তারা জানাচ্ছেন, ভিআইপি নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি রয়েছে। সেই কমিটিতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির প্রতিনিধিও থাকেন। সেখানেই ‘ঝুঁকি বিচার’ করে কে কোন স্তরের নিরাপত্তা পাবেন, তা ঠিক করা হয়। রাজ্যপালের ক্ষেত্রে রাজ্যের সঙ্গে সেই আলোচনার কোনও সুযোগ রাখাই হয়নি বলে স্বরাষ্ট্র কর্তারা জানাচ্ছেন। 

সিআরপি-র তরফে বুধবার রাজ্যের ডিজি-কে জানানো হয়েছে, নয়ডার ২৩৫ ভিএস ব্যাটালিয়ান ধনখড়ের নিরাপত্তার ভার নেবে। যৌথ নিরাপত্তা পর্যালোচনার জন্য সিআরপি-র এক পদস্থ অফিসার কলকাতায় যাচ্ছেন। রাজ্যপালের নিরাপত্তার ভার হাতে নেওয়ার আগে তিনি রাজ্যের সঙ্গে কথা বলতে চান। এ দিন রাজ্যের ভিআইপি নিরাপত্তা অধিকর্তা বিনীত গয়ালকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলব।’’ ফলে সিআরপি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাজ্যের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে নবান্নের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে সিআরপি-র কর্তারা ইতিমধ্যেই রাজভবন ঘুরে নিরাপত্তার খুঁটিনাটি দেখে এসেছেন।