• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নয়া বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করল ক্যাবিনেট, মিলবে না বকেয়া

Government Workers
বর্ধিত বেতন কর্মীরা হাতে পাবেন ২০২০-র ১ জানুয়ারি থেকে।—ফাইল চিত্র।

সরকারি কর্মীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করল রাজ্য মন্ত্রিসভা। বেতন কমিশন যে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি প্রয়োগ করে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে, সে কথা দিন দশেক আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ক্যাবিনেট বৈঠকে সে সুপারিশ কার্যকর করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হল। কিন্তু বর্ধিত কাঠামো অনুযায়ী গত চার বছরের বকেয়া বেতন যে কর্মীরা পাচ্ছেন না, তা-ও স্পষ্ট করে দিল সরকার। গ্র্যাচুয়িটি, মেডিক্যাল অ্যালাওয়েন্স-সহ কয়েকটি ক্ষেত্রে অবশ্য কমিশনের সুপারিশের চেয়ে বেশিই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

ক্যাবিনেট বৈঠক শেষ হওয়ার পরে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র এ দিন নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করেন। একটি প্রেস নোটও প্রকাশ করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের সরকারি কর্মী সংগঠনের সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মীদের মূল বেতনে ব্যান্ড পে-গ্রেড পে ভাগাভাগি আর থাকছে না, অবিভক্ত মূল বেতন কাঠামো চালু হচ্ছে। এ দিনের প্রেস নোটেও সে কথাই জানানো হয়েছে। বেতন কমিশনের সুপারিশ মতো বর্তমান মূল বেতনকে ২.৫৭ দিয়ে গুণ করে নতুন মূল বেতন ধার্য করা হচ্ছে। সেই অঙ্ক কিন্তু বর্তমানের মূল বেতন ও মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) যোগফলের চেয়ে বেশি। তাই ধরে নেওয়া হচ্ছে যে, এত দিন যে ১২৫ শতাংশ ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মীরা পাচ্ছিলেন, তা মূল বেতনে মিশে গেল।

রাজ্য সরকার এ দিন জানিয়েছে যে, নতুন বেতন কাঠামোকে কার্যকর হিসেবে ধরা হবে ২০১৬-র ১ জানুয়ারি থেকে। কিন্তু বর্ধিত বেতন কর্মীরা হাতে পাবেন ২০২০-র ১ জানুয়ারি থেকে। অর্থাৎ ২০১৬-র ১ জানুয়ারি থেকে যদি একজন কর্মী এই নতুন হারে বেতন পান, তা হলে যে হারে তাঁর বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি হত এবং তার জেরে তাঁর বেতন ২০২০ সালের ১ জানুয়ারিতে যা দাঁড়াত, সেই বেতনই কর্মীরা পাবেন। কিন্তু নতুন কাঠামো অনুযায়ী গত চার বছরে যে অতিরিক্ত টাকা কর্মীদের প্রাপ্য হয়, সেই বকেয়া টাকা আর দেওয়া হবে না। সরকারের তরফ থেকে প্রকাশ করা প্রেস নোটে লেখা হয়েছে— ২০১৬-র ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন কাঠামোর ‘নোশনাল এফেক্ট’ ধরা হবে। এই ‘নোশনাল এফেক্ট’-এর অর্থ হল— খাতায়-কলমে নতুন বেতন কাঠামো ২০১৬-র শুরু থেকেই কার্যকর। কিন্তু বাস্তবে ২০১৬-র ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯-এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে ৪৮ মাস কেটে যাচ্ছে, সেই ৪৮ মাসের জন্য প্রাপ্য অতিরিক্ত অর্থ কর্মীরা হাতে পাবেন না। বকেয়া অর্থের বিষয়ে একটি শব্দও খরচ করা হয়নি সরকারি প্রেস নোটে।

আরও পড়ুন: এ বার ব্যাঙ্কেও সিবিআই, রাজীবের খোঁজে চরকিপাক খাচ্ছেন গোয়েন্দারা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিন দশেক আগে যখন নতুন বেতন কাঠামোর আভাস দিয়েছিলেন, তখন এই বকেয়া নিয়েই সবচেয়ে বেশি ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। বকেয়া টাকা কি মিলবে? মিললে চার বছরেরটাই? নাকি কম? এমন নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল কর্মী মহলে। এ দিন ক্যাবিনেট বৈঠক শেষ হওয়ার পরে সে ধন্দ কেটে গিয়েছে। কর্মীরা বুঝে গিয়েছেন, বকেয়া টাকা একেবারেই মিলবে না।

আরও পড়ুন: এবিভিপি-র‘যাদবপুর অভিযান’আটকাল পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআইয়ের জমায়েত

সরকারের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে কর্মী মহলে। বিরোধী শিবিরে থাকা কর্মী সংগঠনগুলি তোপ দাগতে শুরু করেছে। কর্মী সংগঠনগুলি তোপ দাগছে ডিএ এবং এইচআরএ (হাউজ রেন্ট অ্যালাওয়েন্স) নিয়েও। বিজেপির সংগঠন সরকারি কর্মচারী পরিষদের রাজ্য আহ্বায়ক দেবাশিস শীলের কথায়, ‘‘প্রথমত, সরকার স্পষ্ট করে দিল যে, বর্ধিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী যে টাকা কর্মীদের প্রাপ্য হয় গত চার বছরের বকেয়া হিসেবে, তার পুরোটাই গায়েব। সরকার একটা টাকাও দেবে না। দ্বিতীয়ত, স্যাট রায় দিয়েছিল যে, আগে আমাদের বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে, তার পরে বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করতে হবে। কিন্তু স্যাটের রায়ও রাজ্য সরকার মানল না। আদালতের নির্দেশকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে কোনও সরকার, এমনটা আমরা কখনও দেখিনি।’’

আগে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ টাকা এইচআরএ হিসেবে পেতেন কর্মীরা। বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী তা কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হয়েছে। কমিশন বলেছিল, এইচআরএ-র সর্বোচ্চ সীমা ১০ হাজার ৫০০ টাকা হওয়া উচিত। ক্যাবিনেট সেই ঊর্ধ্বসীমাটাকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তৃণমূলের কর্মচারী সংগঠন ফেডারেশনের তরফে মনোজ চক্রবর্তী এ দিন বলেন, ‘‘কর্মীরা ২০১৬ সাল থেকেই যদি বর্ধিত বেতন হাতে পেতেন তা হলে ভাল হত। তবে সরকারকে অনুরোধ করব, পেনশনভোগীরা যাতে এই বেতন বৃদ্ধির সুফল পূর্ণমাত্রায় পান, সেটা নিশ্চিত করতে।’’

আইএনটিইউসি-র তরফে সুবীর সাহা বলেন, ‘‘ডিএ-র বিষয়ে কোনও ঘোষণা নেই। এইচআরএ আগে পেতাম ১৫ শতাংশ, করে দেওয়া হল ১২ শতাংশ। এই রকম কোথাও কোনও দিন ঘটেছে! সব কর্মী সংগঠন একসঙ্গে আন্দোলনে না নামলে কোনও উপায় নেই। তা না হলে এই বঞ্চনা চলতেই থাকবে।’’

গ্র্যাচুয়িটি এবং মেডিক্যাল অ্যালাওয়েন্সের ক্ষেত্রে অবশ্য কমিশনের সুপারিশের চেয়ে বেশি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কমিশনের সুপারিশ ছিল, গ্র্যাচুয়িটির ঊর্ধ্বসীমা ৬ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকা করা হোক। ক্যাবিনেট সোমবার সেটা ১২ লক্ষ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশন সুপারিশ করেছিল, মেডিক্যাল অ্যালাওয়েন্স মাসে ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ টাকা করা হোক। ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই খাতে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন