দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছিলেন বিদ্যুৎকর্মীরা। বিধাননগরের সদ্য পদত্যাগী মেয়র সব্যসাচী দত্তও তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে কিছু দিন আগে নিজের দলের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। অবশেষে সরকারি বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের প্রায় ২০ হাজার কর্মীকে তাঁদের বকেয়ার ১০ শতাংশ ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ভবনে তৃণমূল সমর্থিত কর্মচারীদের ইউনিয়নের এক সভায় ওই ডিএ দেওয়ার কথা জানান আইএনটিটিইউসি-র সভানেত্রী দোলা সেন। মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতি পেয়েই রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা কর্তৃপক্ষ এই মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ঘোষণা করেন তিনি। বণ্টন সংস্থা সূত্রের খবর, চলতি মাস থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে চলেছে।

বকেয়া মহার্ঘ ভাতা-সহ কর্মীদের অন্যান্য দাবিতে রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন সব্যসাচী। তাঁর সমালোচনার মুখে পড়েন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সরকারি বিদ্যুৎকর্তারাও। তৃণমূলের সেই একই সংগঠনের ডাকে এ দিন ‘বিদ্যুৎ ভবন চলো’ কর্মসূচিতে হাজির হয়েছিলেন আইনটিটিইউসি-র সভানেত্রী দোলা। সংগঠনের নেতাদের নিয়ে তিনি বিদ্যুৎ আধিকারিকদের কাছে গিয়ে কর্মীদের দাবিদাওয়া সম্পর্কে আলোচনাও করেন। তার পরেই সভামঞ্চে ফিরে এসে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের স্থায়ী কর্মচারীদের জন্য সংস্থা-কর্তৃপক্ষের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান দোলা।

বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেববাবু এ দিন জানান, তাঁর দফতরের অধীনে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বণ্টন ও সংবহন নামে যে-তিনটি সংস্থা রয়েছে, সেগুলোর কর্মীদের ১ জুলাই থেকেই ১০ শতাংশ বকেয়া ডিএ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদ্যুৎকর্মীদের এই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী অনুমতি দেওয়ায় তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।

কর্মচারী ইউনিয়নগুলির দাবি, ১ জুলাই, ২০১৬ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বিদ্যুৎকর্মীদের মোট ২৯ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বকেয়া রয়েছে। তার মধ্যে এ দিন ১০ শতাংশ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হল। ২০০৯ সাল থেকে রাজ্যের বিদ্যুৎকর্মীরা কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা পেয়ে এসেছেন। এই প্রথম এই বিপুল পরিমাণ ডিএ বকেয়া পড়েছে। আজ, বুধবার বিদ্যুৎ ভবনে বিজেপির সভা রয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের খবর। 

এ দিনের সমাবেশে সংগঠনের সভানেত্রী দোলা জানান, বিদ্যুৎকর্মীরা রাজ্যের মানুষকে জরুরি পরিষেবা দেন। অনেক দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হয় তাঁদের। সরকারি কর্মচারীদের বেতনকাঠামোর সঙ্গে বিদ্যুৎ সংস্থার কর্মচারীদের বেতনকাঠামোর কোনও মিল বা সম্পর্ক নেই। মুখ্যমন্ত্রী সব সময়েই বিদ্যুৎকর্মীদের দাবিদাওয়া পূরণ করেছেন। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হয়েছে। তবে একটি মামলার জেরে তিন বছর তা দেওয়া যায়নি। তৃণমূল সমর্থিত এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অরিজিৎ দত্ত জানান, কর্মচারীদের দাবির কথা মুখ্যমন্ত্রী ভেবেছেন এবং অনুমোদন দিয়েছেন। কর্মীরা এতে খুশি। 

ঘটনাচক্রে বিদ্যুৎ ভবনে কর্মীদের সেই সমাবেশের পর থেকে সব্যসাচীকে নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছিল। ডিএ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সব্যসাচী এ দিন বলেন, ‘‘আমার আন্দোলনে যদি বোধোদয় হয়ে থাকে, তার চেয়ে বড় কৃতিত্ব আর কী হতে পারে!’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।