দৃশ্যটা একেবারে সিনেমার মতো। মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বাঘিনীর খাঁচার ভিতরে একটা ছোট লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন এক ব্যক্তি। বৃষ্টির কারণে খাঁচার জায়গায় জায়গায় জমেছে জল। শাবকসমেত বেঞ্চের নীচে আশ্রয় নেওয়া বাঘিনীর পাশ থেকে ঝুঁকে বাঘিনীর ছোট্ট এক শাবককে তুলে নেন তিনি। ধীরে ধীরে এগিয়ে যান খাঁচার ভিতরে থাকা বাঘিনীর ঘরের দিকে। বাঘিনী তার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে থাকে। কোনও গর্জন নেই, প্রতিরোধ নেই, আক্রমণও নেই! এই হাড়হিম করা দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি হয়ে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল হওয়া এই ভিডিয়োটি দেখে মনে হচ্ছে এটি কোনও চিড়িয়াখানার ঘটনা। তবে ভিডিয়োটি কবে বা কোন চিড়িয়াখানায় ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে খাঁচার ভিতরে বৃষ্টির জল জমে আছে। দুই শাবকসমেত বাঘিনী জমা জলেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। শাবকগুলি বৃষ্টির জলে আধডোবা হয়ে রয়েছে। নির্ভীক তরুণ কেবল একটি লাঠি সম্বল করে বাঘের খাঁচার ভিতর ঢুকে পড়েন। শাবকগুলিকে জল থেকে তুলে বাঘের ঘরের দিকে নিয়ে এগিয়ে যান। বাঘিনীটি চুপচাপ তাঁকে অনুসরণ করে। একটি সুরক্ষিত খাঁচায় তাদের পুরে দেন তরুণ। শাবকদের রাখার পর বাঘিনীটিও চার দেওয়ালের আস্তানার ভিতরে ঢুকে পড়ে। এর পর তরুণ ঘরের দরজাটি টেনে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। সব কিছু এতটাই স্বাভাবিক ছিল যে মনে হচ্ছিল যেন পোষা কোনও প্রাণীকে কেউ ঘরে তুলে দিচ্ছেন।
এক্স হ্যান্ডলের ‘নেচার অ্যান্ড মিউজ়িক’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে প্রায় ১০ লক্ষ বার দেখা হয়েছে। তরুণের সাহসের প্রশংসায় মন্তব্য বিভাগ উপচে পড়েছে। এক নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘‘পশুদের বিশ্বাস অর্জন করা কোনও সহজ কাজ নয়, ভাই!’’