Advertisement
E-Paper

এক নজরে: করোনা রুখতে নতুন যা যা ব্যবস্থা নেওয়া হল রাজ্যে

করোনা পরিস্থিতিতে একাধিক আপৎকালীন ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২০ ১৯:৫৯
করোনা আতঙ্কে শুনশান কলকাতা। ছবি: এএফপি।

করোনা আতঙ্কে শুনশান কলকাতা। ছবি: এএফপি।

দেশজুড়ে করোনা আতঙ্ক। কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তিনশোর দিকে এগোচ্ছে। এ রাজ্যে বিদেশফেরত তিন জন ছাড়াও আরও এক জনের শরীরে এই মারণ ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। ফলে এ রাজ্যে শনিবার রাত পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্য প্রশাসন করোনা মোকাবিলায় সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয় ২৪ ঘন্টা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তদারকি করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সের সময়ে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক বিমান রাজ্যে নামতে না দেওয়ার পাশাপাশি ভিন্‌রাজ্য থেকে আসা ট্রেনযাত্রীদের স্বাস্থ্যের বিষয়েও তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানিয়েছেন। রাজ্য প্রশাসন এ রকম পরিস্থিতিতে একাধিক আপৎকালীন ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছে।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক—

Advertisement

• এ রাজ্যের প্রায় ৮ কোটি মানুষ যারা দু'টাকা কিলো দরে চাল সহ রেশন দোকানে খাদ্যশস্য পেতেন, আগামী ছয় মাস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাঁদের খাদ্যশস্য দেওয়া হবে।

• ভিন দেশের পাশাপাশি ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিক ছাত্র-সহ রাজ্যের বাসিন্দাদের ১৪ দিন গৃহ পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

• পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া আন্তর্জাতিক সীমানা কার্যত সিল করে দেওয়া হয়েছে।

• সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মী এবং জরুরী পরিষেবার কর্মীদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার।

• করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গড়ে তুলেছে রাজ্য।

• সমস্ত সরকারি দফতরের প্রতিটি কর্মচারীর জন্য প্রতি সপ্তাহে বিকল্প রোস্টারের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি এই প্রথম সরকারি কর্মচারীদের জন্য বাড়ি থেকে কাজের সুবিধা দেওয়া হল।

• ট্রেনের পর, এ বার ভিন্ন রাজ্য থেকে বাস আসাযাওয়া বন্ধ হল। আজ মধ্যরাত থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্তএই ব্যবস্থা কার্যকরী থাকবে।

সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হলেও রাজ্যে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলছিল। শনিবার সেই পরীক্ষা বন্ধের কথা জানাল রাজ্য।

আগামিকাল সকাল ৬টা থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত নাইটক্লাব, পানশালা, রেস্তরাঁ, মাসাজ পার্লর, বিনোদন পার্ক, মিউজিয়াম এবং চিড়িয়াখানা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা। —নিজস্ব চিত্র।

একইসঙ্গে সমস্ত রকমের সামাজিক জমায়েত এড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, একান্তই যদি কোনও জমায়েত করতে হয়, তা একেবারে কম লোকজনকে নিয়ে করতে হবে। এবং অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় বাজার বন্ধ থাকার গুজব রটেছে। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ এবং পুলিশ-প্রশাসন গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানিয়েছে নবান্ন। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বাজার-দোকান, রাস্তাঘাটে মানুষের আনাগোনা প্রায় নেই। ছবি: পিটিআই।

আরও পড়ুন: ‘জনতা কার্ফু’, কাল ট্রেন-বাস-মেট্রো পরিষেবা কেমন থাকবে? দেখে নিন​

আগামী সোমবার নবান্নে একটি সর্বদলীয় বৈঠক হবে। সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে করোনা-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

• করোনা পরিস্থিতির উপর নজর রেখে ২২ মার্চ অর্থাৎ রবিবার মধ্যরাত থেকে এ রাজ্যের ভিতর দিয়ে ভিনরাজ্যের ট্রেন না চালানোর জন্য, রেল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছে রাজ্য সরকার।

শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কলকাতা এবং বাগডোগরা বিমানবন্দরে ৮০ হাজার যাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা হয়েছে।

নেপাল ও বাংলাদেশ লাগোয়া সাতটি চেক পোস্টে এখনও পর্যন্ত ৫ লাখেরও বেশি মানুষের পরীক্ষা হয়েছে।

রাজ্যের অনেকেই বিদেশে বসবাস করেন অথবা কর্মসূত্রে বিভিন্ন জায়গায় রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের বাবা-মা অথবা বয়স্ক পরিজনরা কলকাতায় থাকলে পুলিশ তাঁদের দেখভাল করবে বলে এ দিন জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা। এই বিষয়ে ৯৮৩০০৮৮৮৮৪ নম্বরে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়েছে।

রাজারহাট কোয়রান্টিন সেন্টারে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাহায্যের জন্য চার পুলিশ কর্মীকে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা কনস্টেবলও রয়েছেন। টুইট করে এ কথা জানিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা।

‘কোভিড১৯’-এর মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসচিব বিবেক কুমারের নেতৃত্বে একটি টাস্ক ফোর্স গড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের তরফে প্রতিদিন বিকেলে পরিস্থিতি সংক্রান্ত বুলেটিন প্রকাশ করা হচ্ছে।

রাজ্যের সব হাসপাতালে মোট ৪২৮টি আইসোলেশন বেড তৈরি রাখা হয়েছে।

বেসরকারি হাসাপাতালেও যথেষ্ট পরিমাণে আইসোলেশন বেড তৈরি রাখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভেন্টিলেটর, ইকমো (এক্সট্রা কর্পোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজিনেশন), পিপিই কিট, পোর্টেবল এক্স-রে, ডায়ালিসিস এবং ইউএসজি-র সরঞ্জাম কেনার উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যের সব হাসপাতালগুলোয় আইসোলেশন শয্যা বাড়ানো হচ্ছে।

কেন্দ্রের কাছ থেকে যথেষ্ট সংখ্যক কিট পাওয়া যাচ্ছে না বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বেসরকারি ল্যাবরেটরি এবং হাসপাতালগুলিকে করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় কাজে লাগানোর কথাও মমতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে।

নবান্নে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। ফোন নম্বর:১০৭০, ০৩৩ ২২১৪ ৩৫২৬

স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুম নম্বর: ১৮০০৩১৩ ৪৪৪ ২২২, ০৩৩ ২৩৪১ ২৬০০

পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৈরি থাকতে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। ছবি: পিটিআই।

আরও পড়ুন: ‘জনতা কার্ফু’, কাল ট্রেন-বাস-মেট্রো পরিষেবা কেমন থাকবে? দেখে নিন​

সংক্রমণের বিষয়ে আগামী এক-দু’সপ্তাহ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীদের তৈরি থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মমতা।

সামাজিক জমায়েত এড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। ছবি: পিটিআই।

স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত গৃহ-পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ২০ হাজার ৭৪৫ জন।

রাজ্যে করোনা আক্রান্ত ৪ জন, ৪০ জন হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি, ৭ জনের পরীক্ষার রিপোর্টের উপর নজরে রয়েছে।

রাজারহাটের কোয়রান্টিন সেন্টার তৈরি হয়েছে। সেখানে ৫০০ শয্যা তৈরি করা হয়েছে।

Coronavirus Mamata Banerjee Health COVID-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy