চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে দুই ছেলের নাম বাদ পড়ায় চিন্তায় মৃত্যু হয়েছে বাবারয় ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের হৃদ্রোগে মারা যাওয়ার পরে এমনই দাবি করল কোচবিহারের একটি পরিবার। রাজ্যে আরও এক মৃত্যুর নেপথ্যে এসআইআর-কে দায়ী করল শাসকদল তৃণমূল। এ নিয়ে রবিবার শোরগোল কোচবিহার-২ ব্লকের চকাচকা গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার রাতে মারা যান সুভাষচন্দ্র রায়। শনিবার চকচকা গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৮১ নম্বর বুথের বাসিন্দা তিনি। রবিবার বৃদ্ধের মৃত্যুর কারণ হিসাবে নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছে শাসকদল। ভোটপ্রচারে বেরিয়েই মৃতের বাড়িতে যান কোচবিহার উত্তর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায়। তাঁর অভিযোগ, অতিরিক্ত তালিকা থেকে সুভাষচন্দ্র এবং তাঁর দুই পুত্রের নাম বাদ পড়ার পরে চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বৃদ্ধ। তৃণমূল প্রার্থী বলেন, ‘‘এসআইআরের প্রথম খসড়া তালিকা থেকে সুভাষবাবুর নাম বাদ পড়েছিল। ওঁর দুই ছেলের নাম বিবেচনাধীন ছিল। তার পর যে সাপ্লিমেন্টরি লিস্ট বেরিয়েছে, সেখান থেকে ওঁর দুই ছেলের নাম বাদ হয়ে গিয়েছে। পরিবারের তিন সদস্যের নাম বাদ পড়ায় স্বাভাবিক ভাবে সকলে চিন্তায়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তপসিলি পরিবার। অনেক দিন ধরে এখানে বসবাস করছেন। ভোট দিয়ে আসছেন। হঠাৎ তাঁদের নাম বাদ! নির্বাচন কমিশনের কাজের নমুনা এবং ফল এই মৃত্যু।’’
শাসকদলের তরফে দাবি, শুনানির সময় যাবতীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে সুভাষচন্দ্রের বাড়ির তিন জনের নাম। পরিবারের একজন বৈধ ভোটার অথচ বাকিরা অবৈধ। এটা কী ভাবে হতে পারে! পার্থ জানান, এখন দুই ছেলে ট্রাইবুনালে আবেদন করতে যাবেন না বাবার শ্রাদ্ধশান্তি করবেন, সেটাই ব্যাপার। এমনই পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে রাজ্যে।
আরও পড়ুন:
যদিও তৃণমূলের দাবি এবং অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছে বিজেপি। কোচবিহার উত্তরের বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক সুকুমার রায় বলেন, ‘‘যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। কিন্তু মৃত্যুর জন্য শাসকদলই দায়ী। কারণ, এরাই প্রথম থেকেই মানুষের মনে ভয় এবং আতঙ্ক তৈরি করে এসেছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘মানলাম, নাম বাদ পড়েছে। তার জন্য তো প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে গেলে অবশ্যই সুরাহা হত। আমরাও চাই যেন প্রকৃত ভোটারদের কারও নাম বাদ না যায়। কিন্তু এ অকারণ রাজনীতিও সমীচীন নয়।’’