মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেবেছিলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার ইরান যুদ্ধের শুরুতেই নিঃশর্ত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন। কিন্তু স্টার্মার তাঁর আশা পূরণ করেননি। এ বার ট্রাম্পের হরমুজ় প্রণালী অবরোধের সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করল লন্ডন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল থেকে হরমুজ় অবরোধের যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিয়েছেন, তাতে তাঁর সায় নেই। পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন ব্রিটিশ বাহিনী ইরানের বন্দর অবরোধের অভিযানে শামিল হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
স্টার্মার সোমবার দুপুরে বলেন, ‘‘আমাদের মাইন সুইপার (মাইন চিহ্নিতকারী যান) এবং ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা ওই অঞ্চলে কার্যকলাপ চালিয়ে যাবে, কিন্তু ব্রিটিশ নৌসেনার জাহাজ ও বাহিনীকে ইরানের বন্দর অবরোধে ব্যবহার করা হবে না।’’ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের চারটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে পশ্চিম এশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টিকম)। সেই চারটি জায়গা হল— খার্গ দ্বীপ, জাস্ক টার্মিনাল, বন্দর আব্বাস এবং বন্দর খুমেইনি। প্রসঙ্গত, সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান তাঁদের এই ‘লাইফলাইন’কেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দিয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটনের এমন অবরোধ-পদক্ষেপে ব্রিটেনের সায় নেই জানিয়ে স্টার্মারের মন্তব্য, ‘‘আমরা চাই জ্বালানির দাম যত দ্রুত সম্ভব কমানোর জন্য হরমুজ় প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আবার পুরোপুরি খুলে দেওয়া হোক।’’
সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরে বেশ কিছু জাহাজকে ছেড়ে দিয়েছে ইরান। তবে এটাও ঘোষণা করে, হরমুজ়কে ব্যবহার করতে হলে প্রত্যেক জাহাজকে তাদের কর দিতে হবে। কোনও কোনও তেলবাহী জাহাজকে ২০ লক্ষ ডলার কর দিয়ে হরমুজ় পার করতে হয়েছে বলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি। বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে এটাও দাবি করা হয়েছে যে, হরমুজ় দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ওমান তাদের অশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছোতে পারছে না। কিন্তু সামরিক সংঘাত চলাকালীন ইরান কিন্তু নিজেদের তেলবাহী জাহাজগুলির যাতায়াত জারি রেখেছিল। আমেরিকা এ বার সেই জায়গাতেই আঘাত করে ইরানের অর্থনীতি ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। সেন্টিকমের তরফে সোমবার জানানো হয়েছে, যে সমস্ত জাহাজ ইরানের কোনও বন্দরে প্রবেশ করার চেষ্টা করবে বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করবে, সেগুলিকেই আটকানো হবে। আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের ইরানি বন্দরগুলির ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে। তবে ইরানের বন্দরের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না-রেখে যে জাহাজগুলি হরমুজ় দিয়ে যাতায়াত করবে, তাদের বাধা দেবে না মার্কিন সেনা। তাদের জলপথে যাতায়াতের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
হরমুজ় প্রণালীতে চলল গুলি! ইরান-আমেরিকার মধ্যে বাড়ল উত্তেজনা, সংঘর্ষবিরতিতে কি ইতি? কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
-
আমেরিকার হৃৎস্পন্দন বন্ধের হুঙ্কার, হরমুজ়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ধ্বংসে ‘আত্মঘাতী তিমি’দের নামাচ্ছে ইরান!
-
ইরানের বন্দরে একের পর এক জাহাজে আগুন! লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা ইজ়রায়েলের, পশ্চিম এশিয়ায় আবার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে
-
‘আমেরিকার সামনে দুই বিকল্প, বলও ওদের কোর্টে’! যুদ্ধ নিয়ে প্রস্তাব ফেরাতেই ট্রাম্পকে বার্তা ইরানের, কোন দিকে ইঙ্গিত
-
‘আমরা জলদস্যুই’! হরমুজ়ে ইরানি জাহাজের ‘দখল’ প্রসঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশংসা করলেন ট্রাম্প