ইসলামাবাদে শান্তিবৈঠক শুরু হওয়ার আগে আবার তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, ‘‘চুক্তি না কি হামলা, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।’’
ওই সাক্ষাৎকারে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির কথাও সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি। আমরা জাহাজগুলিতে সবচেয়ে শক্তিশালী গোলাবারুদ, এখনও পর্যন্ত তৈরি হওয়া সেরা অস্ত্র বসাচ্ছি। এমনকি আগের বার যা করেছিলাম, তার চেয়েও ভাল। যদি চুক্তি না হয়, এ বার আমরা তাদের ধ্বংস করে দেব।’’ শনিবার নিজের সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘ইরান কোনও সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। তারা শুধু আন্তর্জাতিক জলপথের মাধ্যমে বিশ্বে তোলাবাজি করতে পারে। কেন তা হবে? তারা আজও বেঁচে আছে শুধুমাত্র আলোচনার জন্য!’’
যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসাবে ইরান প্রাথমিক ভাবে পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগর (আরব সাগরের অংশ) সংযোগরক্ষাকারী হরমুজ় প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজের অবাধ যাতায়াতে সম্মতি দিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার তেহরান জানায়, হরমুজ় প্রণালীর উপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি পর্বে দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ ওই জলপথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। এবং তার জন্য দিতে হবে শুল্ক। যাকে ট্রাম্প সরাসরি ‘তোলাবাজি’ বলে চিহ্নিত করেছেন। সেই সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মনে করিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে দিনে ১০০টিরও বেশি জাহাজ চলাচল করত। পরিস্থিতির বদল না হলে হামলা অনিবার্য বলেই মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আরও পড়ুন:
১৯৭৯ সালের ইরানে ইসলামিক বিপ্লবের পরে এই প্রথম বার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি বৈঠক হচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তাঁর সঙ্গে থাকবেন পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা তথা প্রাক্তন উপদেষ্টা জারেড কুশনার। অন্য দিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলে থাকবেন পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। গালিবাফ ইরান সেনার ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রাক্তন আধিকারিক। বৈঠকের প্রথম পর্বে যোগ দেবেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারও। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যার বাস পাকিস্তানে। এই পরিস্থিতিতে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে শাহবাজ় যদি ‘জট’ কাটাতে পারেন, তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইসলামাবাদের গুরুত্ব অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।