Advertisement
E-Paper

‘ইরান থাকুক না-থাকুক তেল পরিবহণ চলবে’, পাকিস্তানে শান্তিবৈঠকের আগেই হরমুজ়ে শুল্কের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরান জানিয়েছে, দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি পর্বে দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ ওই জলপথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। এবং তার জন্য দিতে হবে শুল্ক। হরমুজ় প্রণালীতে তেহরানের শর্ত আরোপের বিরোধিতা করেছেন ট্রাম্প।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৩
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পাকিস্তানে শান্তিবৈঠক শুরুর আগে হরমুজ় প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের উপর ইরানের শুল্ক আরোপ নিয়ে সরব হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ইরানের অস্তিত্ব থাকুক বা না থাকুক, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ অব্যাহত থাকবে।

যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসাবে ইরান প্রাথমিক ভাবে পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগর (আরব সাগরের অংশ) সংযোগরক্ষাকারী হরমুজ় প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজের অবাধ যাতায়াতে সম্মতি দিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার তেহরান জানায়, হরমুজ় প্রণালীর উপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি পর্বে দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ ওই জলপথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। এবং তার জন্য দিতে হবে শুল্ক। এর পরেই ট্রাম্প সুর চড়িয়েছেন। তথ্য বলছে, সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১০টি জাহাজ এই পথে পার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন যাতে তারা অর্থনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের উপর শুল্ক আরোপ না করে।

সমাজমাধ্যমে করা এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে ইরান হরমুজ় পরিচালনায় ‘খুব খারাপ কাজ’ করছে। যে জলপথের মাধ্যমে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়, সেখান থেকে জাহাজ চলাচল খুব শিগগিরই স্বাভাবিক হবে বলে দাবি করে ট্রাম্পের মন্তব্য, ‘ইরান থাকুক বা না থাকুক, তেল পরিবহণ চলবেই’। এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘এটা আমাদের সঙ্গে করা চুক্তি নয়। খবর আছে যে, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর অর্থ নিচ্ছে—তাদের এমনটা করা উচিত নয়, আর যদি করে থাকে, তবে এখনই বন্ধ করা উচিত!”

Advertisement

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সংঘর্ষবিরতির শর্ত খুঁজতে ইরান এবং আমেরিকা মুখোমুখি বসতে চলেছে। বৈঠক হবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। সেখানে মার্কিন প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তাঁর সঙ্গে থাকবেন পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা তথা প্রাক্তন উপদেষ্টা জারেড কুশনার। অন্য দিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলে থাকবেন পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। গালিবাফ ইরান সেনার ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রাক্তন আধিকারিক। বৈঠকের প্রথম পর্বে যোগ দেবেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারও। শান্তিবৈঠক উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই কার্যত নিশ্ছিদ্র দুর্গে পরিণত করা হয়েছে ইসলামাবাদকে। শহর ঘিরে ব্যারিকেড তৈরি করেছে পাক সেনা ও রেঞ্জার্স বাহিনী।

পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ন্যাটালি বেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং শান্তিবৈঠকের আলোচ্যসূচি নিয়ে আলোচনা করেন বলে পাক সংবাদমাধ্যমের একাংশ জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে ওয়াশিংটন আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাইস প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন।’’ আমেরিকা চায় ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুদ সমর্পণ করুক। যদিও ইরান তাতে রাজি হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্য দিকে, ইরানের তরফে পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির (তেহরানের নেতৃত্বাধীন জোট ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’-এর শরিক) উপর হামলা বন্ধ করার দাবি জানালেও আমেরিকার মিত্র ইজ়রায়েল ইতিমধ্যেই তা খারিজ করেছে।

ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যার বাস পাকিস্তানে। এই পরিস্থিতিতে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে শাহবাজ় যদি ‘জট’ কাটাতে পারেন, তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইসলামাবাদের গুরুত্ব অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে (ভারতীয় সময়ে) ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়েছে। তবে সেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। লেবাননে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লার উপর একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল। তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, ওই হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কিন্তু আমেরিকার প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে লেবানন সমস্যা পৃথক ভাবে সমাধানের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

US Israel vs Iran US-Iran Conflict Strait of Hormuz Donald Trump
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy