পাকিস্তানে শান্তিবৈঠক শুরুর আগে হরমুজ় প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের উপর ইরানের শুল্ক আরোপ নিয়ে সরব হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ইরানের অস্তিত্ব থাকুক বা না থাকুক, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ অব্যাহত থাকবে।
যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসাবে ইরান প্রাথমিক ভাবে পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগর (আরব সাগরের অংশ) সংযোগরক্ষাকারী হরমুজ় প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজের অবাধ যাতায়াতে সম্মতি দিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার তেহরান জানায়, হরমুজ় প্রণালীর উপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি পর্বে দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ ওই জলপথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। এবং তার জন্য দিতে হবে শুল্ক। এর পরেই ট্রাম্প সুর চড়িয়েছেন। তথ্য বলছে, সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১০টি জাহাজ এই পথে পার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন যাতে তারা অর্থনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের উপর শুল্ক আরোপ না করে।
সমাজমাধ্যমে করা এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে ইরান হরমুজ় পরিচালনায় ‘খুব খারাপ কাজ’ করছে। যে জলপথের মাধ্যমে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়, সেখান থেকে জাহাজ চলাচল খুব শিগগিরই স্বাভাবিক হবে বলে দাবি করে ট্রাম্পের মন্তব্য, ‘ইরান থাকুক বা না থাকুক, তেল পরিবহণ চলবেই’। এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘এটা আমাদের সঙ্গে করা চুক্তি নয়। খবর আছে যে, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর অর্থ নিচ্ছে—তাদের এমনটা করা উচিত নয়, আর যদি করে থাকে, তবে এখনই বন্ধ করা উচিত!”
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, শনিবার সংঘর্ষবিরতির শর্ত খুঁজতে ইরান এবং আমেরিকা মুখোমুখি বসতে চলেছে। বৈঠক হবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। সেখানে মার্কিন প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তাঁর সঙ্গে থাকবেন পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা তথা প্রাক্তন উপদেষ্টা জারেড কুশনার। অন্য দিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলে থাকবেন পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। গালিবাফ ইরান সেনার ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রাক্তন আধিকারিক। বৈঠকের প্রথম পর্বে যোগ দেবেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারও। শান্তিবৈঠক উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই কার্যত নিশ্ছিদ্র দুর্গে পরিণত করা হয়েছে ইসলামাবাদকে। শহর ঘিরে ব্যারিকেড তৈরি করেছে পাক সেনা ও রেঞ্জার্স বাহিনী।
পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ন্যাটালি বেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং শান্তিবৈঠকের আলোচ্যসূচি নিয়ে আলোচনা করেন বলে পাক সংবাদমাধ্যমের একাংশ জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে ওয়াশিংটন আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাইস প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন।’’ আমেরিকা চায় ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুদ সমর্পণ করুক। যদিও ইরান তাতে রাজি হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্য দিকে, ইরানের তরফে পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির (তেহরানের নেতৃত্বাধীন জোট ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’-এর শরিক) উপর হামলা বন্ধ করার দাবি জানালেও আমেরিকার মিত্র ইজ়রায়েল ইতিমধ্যেই তা খারিজ করেছে।
ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যার বাস পাকিস্তানে। এই পরিস্থিতিতে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে শাহবাজ় যদি ‘জট’ কাটাতে পারেন, তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইসলামাবাদের গুরুত্ব অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে (ভারতীয় সময়ে) ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়েছে। তবে সেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। লেবাননে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লার উপর একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল। তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, ওই হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কিন্তু আমেরিকার প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে লেবানন সমস্যা পৃথক ভাবে সমাধানের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
‘চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, ঘোষণার অপেক্ষা’! সমঝোতা প্রসঙ্গে দাবি ট্রাম্পের, জানান, খুলবে হরমুজ়! কী মত ইরানের
-
সুযোগ পেলেই চোরাগোপ্তা হামলা! সাবেক পারস্যের হাতে মার খাওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছে ‘নিরীহ’ আরব রাষ্ট্র
-
হরমুজ় প্রণালীতে চলল গুলি! ইরান-আমেরিকার মধ্যে বাড়ল উত্তেজনা, সংঘর্ষবিরতিতে কি ইতি? কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
-
আমেরিকার হৃৎস্পন্দন বন্ধের হুঙ্কার, হরমুজ়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ধ্বংসে ‘আত্মঘাতী তিমি’দের নামাচ্ছে ইরান!
-
ইরানের বন্দরে একের পর এক জাহাজে আগুন! লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা ইজ়রায়েলের, পশ্চিম এশিয়ায় আবার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে