ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে কমল তেলের দাম। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম হল ৯৬ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮,৯০০ টাকা। দিনের শুরুতে এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ১১৪ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০,৬০০ টাকা। অর্থাৎ ট্রাম্পের ঘোষণার পরে এক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে ১৫ শতাংশ। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে আন্তর্জাতিক বাজারে অনেকটাই বেড়েছিল অপরিশোধিত তেলের দাম।
মিষ্টি অপরিশোধিত তেলের মূল্য নির্ধারণের সূচক হল ব্রেন্ট। সারা বিশ্বে যত অপরিশোধিত তেল আমদানি-রফতানি হয়, তার ৮০ শতাংশের মূল্য নির্ধারণের জন্য এই সূচক ব্যবহার করা হয়। এই ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম সোমবার কমেছে অনেকটাই। অন্য দিকে, ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মূল্য কমেছে প্রায় ১৩.৫ শতাংশ। এক ব্যারেল তেলের দাম হয়েছে ৮৫.২৮ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭,৯০০ টাকা। আমেরিকায় তেলের মূল্য নির্ধারণের জন্য এই সূচক ব্যবহার করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার জানান, ইরানের কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগামী পাঁচ দিন হামলা হবে না! তাঁর দাবি, ‘‘খুব ভাল এবং ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হয়েছে।’’ তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ-ও সতর্ক করেছেন, হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ‘সাময়িক’। আলোচনার গতি এবং ফলাফলের উপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। তার পরেই কিছুটা কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের ‘বাধা’ নির্মূল করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। দিন দুয়েক আগে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জানিয়েছিলেন, যদি তারা হরমুজ় প্রণালী খুলে না দেয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। সোমবার সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। তবে তার আগেই বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার উপর ‘সাময়িক বিরতি’র ঘোষণা করলেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে আলোচনার কথা বলেছেন, সে সম্পর্কে ইরানের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আরও পড়ুন:
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলার পরে ইরান হরমুজ় আটকে রাখার কারণে তা পেরিয়ে পূর্ব এশিয়ায় আসতে পারেনি তেল, রান্নার গ্যাস বোঝাই জাহাজ। একই ভাবে পশ্চিমে যেতে পারেনি জাহাজ। তার পরে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ে অপরিশোধিত তেলের। এর ফলে বিভিন্ন দেশে জ্বালানির সঙ্কট তৈরি হয়। ভারতেও এলপিজি, তেল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সোমবার যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লোকসভায় দেশবাসীকে জ্বালানি, সারের জোগান নিয়ে আশ্বস্ত করেন। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক, বক্তৃতার শুরুতেই তা স্বীকার করে নেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ় প্রণালীর গুরুত্ব যে অপরিসীম, সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখা কিংবা পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানো গ্রহণযোগ্য নয়।’’ এই সূত্রেই তিনি আশ্বাসের সুরে জানান, দেশে পেট্রল, ডিজ়েল এবং গ্যাসের জোগান সুনিশ্চিত রাখতে সব ধরনের চেষ্টা করছে কেন্দ্র।