হরমুজ় প্রণালী জুড়ে মাইন পেতে রেখেছে ইরান। আর সেই মাইনই তাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। পাকিস্তানে শান্তি-আলোচনার আগে এমনটাই দাবি করা হল আমেরিকার তরফে। মার্কিন আধিকারিকদের উল্লেখ করে নিউ ইয়র্ক টাইম্স জানিয়েছে, কোথায় কোথায় মাইন পাতা হয়েছিল, এখন আর তা চিহ্নিত করতে পারছে না তেহরান। সেই কারণেই আমেরিকার শর্ত মেনে সব জাহাজের জন্য হরমুজ় খুলে দিতেও পারছে না। শনিবার ইসলামাবাদের বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উঠতে পারে।
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণের পরই হরমুজ় প্রণালীর দখল নিয়েছিল তেহরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী। বিভিন্ন দেশের পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। পরে নির্দিষ্ট কিছু দেশকে ছাড় দেয় ইরান। তবে বলা হয়, আমেরিকা বা ইজ়রায়েলের জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। হরমুজ়ের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না বলেও দাবি করে ইরানের বাহিনী। পশ্চিম এশিয়ার এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে সারা বিশ্বের মোট চাহিদার এক পঞ্চমাংশ খনিজ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে এই প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। সেই হরমুজ়েই মাইন পেতে শত্রু দেশগুলিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। আমেরিকার দাবি, জলে মাইন পাততে এবং তা সরিয়ে নিতে যে কৌশল এবং দক্ষতার প্রয়োজন হয়, ইরানের তা নেই। সেই কারণেই সমস্যা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
রিপোর্টে দাবি, গত মাসে হরমুজ়ে মাইন পাতার জন্য ছোট ছোট নৌকো ব্যবহার করেছিল ইরান। একটি নির্দিষ্ট পথ খোলা রাখা হয়েছিল। সেখান দিয়েই ইরানের অনুমতি সাপেক্ষে আপাতত পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করছে। ইরানের গার্ড বাহিনী হরমুজ়ের নিরাপদ অংশের মানচিত্রও প্রকাশ করেছে। আমেরিকার আধিকারিকদের দাবি, হরমুজ়ে এলোমেলো ভাবে মাইন পাতা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া রেকর্ড করা হয়েছিল কি না, সন্দেহ আছে। যদি রেকর্ড করা হয়েও থাকে, পরবর্তী সময়ে মাইনগুলি চিহ্নিত করা কঠিন। অভিযোগ, এমন ভাবে মাইন পাতা হয়েছিল যে, জলের ধাক্কায় তা পূর্বের অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে। সেগুলি নজরে রাখার আর কোনও ব্যবস্থা রাখেনি ইরান।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, স্থলভাগে মাইন (ল্যান্ড মাইন) পাতা এবং তা চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু জলের মধ্যে মাইন পাততে আলাদা কৌশল প্রয়োজন। জল থেকে মাইন সরানোর সেই বিশেষ কৌশল আমেরিকার বাহিনীরও নেই। মাইন অপসারণের ক্ষমতা সম্পন্ন উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজের উপর তারা ভরসা করে থাকে। ইরান কী করবে, স্পষ্ট নয়।
গত মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানে শনিবার দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা হওয়ার কথা। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ৭০ জনের প্রতিনিধিদল নিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছেও গিয়েছেন। আমেরিকার তরফে বৈঠকে থাকবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স।