Advertisement
E-Paper

পাকিস্তানে পৌঁছে গেল ইরানের ৭০ জনের প্রতিনিধিদল! তবে সমঝোতার আগে আমেরিকাকে মানতে হবে কয়েকটি শর্ত

পাকিস্তানে শান্তি বৈঠকে যোগ দেওয়ার প্রতিনিধিদলে আছেন ৭০ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদেরও রাখা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৩
(বাঁ দিকে) ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ইরানের প্রতিনিধিদল শুক্রবার রাতে পাকিস্তানে পৌঁছে গিয়েছে। দলের নেতৃত্বে আছেন দেশটির বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ। তবে আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা খুব সহজ হবে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞেরা। পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগেই কিছু পূর্বশর্তের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন কালিবাফ। জানিয়েছিলেন, ওই শর্তগুলি না-মানলে কোনও আলোচনাই হবে না।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পাকিস্তানে শান্তি বৈঠকে যোগ দেওয়ার প্রতিনিধিদলে আছেন ৭০ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদেরও রাখা হয়েছে। অনেকের মতে, এখান থেকেই স্পষ্ট যে, ইসলামাবাদে আয়োজিত বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ইরান। ইসালামাবাদ থেকে কালিবাফ জানিয়েছেন, সমঝোতার ক্ষেত্রে তেহরানের সদিচ্ছা রয়েছে। তবে আমেরিকাকে তাঁরা একেবারেই বিশ্বাস করেন না। ওয়াশিংটন যদি ইরানকে তাদের অধিকার দেয়, ‘প্রকৃত চুক্তি’র প্রস্তাব দেয়, তবে চুক্তি করতে তাঁরা প্রস্তুত।

কী কী দাবি করেছে ইরান? কালিবাফ সমাজমাধ্যমে কিছু পূর্বশর্তের কথা জানিয়েছিলেন। ওয়াশিংটন তাতে রাজিও হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এই পূর্বশর্তগুলির মধ্যে অন্যতম হল বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা। এ ছাড়া, লেবাননে ইজ়রায়েলি আগ্রাসন বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতির দাবিও জানিয়েছে তেহরান। কালিবাফের কথায়, এই কথাগুলি না-রাখা পর্যন্ত সমঝোতার কোনও আলোচনা শুরুই হবে না। সূত্রের খবর, ইরানের তরফে আরও শর্ত দেওয়া হয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবের আকারে স্বীকৃতি চেয়েছে তারা। বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সেনা মোতায়েন বা সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে পারবে না আমেরিকা। পাকিস্তানের বৈঠকে এই সমস্ত প্রসঙ্গ উঠতে পারে।

Advertisement

ইরানের দাবি নিয়ে ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের নেতৃত্বে প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের বৈঠকে যোগ দেবেন। ভান্স জানিয়েছেন, তিনি সমঝোতার বিষয়ে আশাবাদী। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা আশাবাদী। তবে ইরান যদি আমাদের সঙ্গে খেলতে চায়, ওরা দেখবে আমাদের প্রতিনিধিদলও খুব একটা সুবিধার নয়।’’ এর মধ্যেই অবশ্য ট্রাম্প এক দফা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তেহরানকে। সম্প্রতি তিনি দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের হাতে সমঝোতার চুক্তি করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। কারণ, এই চুক্তির জন্যেই তাঁদের বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। দু’পক্ষের এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মধ্যেই পাকিস্তানে বৈঠক বসতে চলেছে।

Donald Trump Mojtaba Khamenei Masoud Pezeshkian Pakistan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy