লেখার ধরন, বাক্য গঠন দেখে মনে হবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষই আপনাকে এসএমএসটি পাঠিয়েছে। তাতে অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কোনও একটা সমস্যার উল্লেখ করে একটি লিঙ্ক-ও দেওয়া থাকবে। ফাঁদে পড়ে যদি আপনি ওই লিঙ্কে ক্লিক করেন, মুহূর্তের মধ্যেই গায়েব হয়ে যেতে পারে অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত টাকা।

সাইবার প্রতারকদের পাঠানো এমনই দু’টি এসএমএস-এর ফাঁদে সম্প্রতি কলকাতার বেশ কয়েক জন পড়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁদের কয়েক জনের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর নড়চড়ে বসেছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারাও।

ফোন করে ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলার কৌশল পুরনো হয়ে গিয়েছে। এখন এ বিষয়ে অনেকেই সচেতন। সাইবার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৌশল বদলে এ বার এসএমএস-এর মাধ্যমে জালে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে গ্রাহকদের। এই কাজ যে সাইবার অপরাধীদের, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু কোথা থেকে এই চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে? বিদেশি কোনও নাগরিক জড়িত কি না, তা দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয়  পদক্ষেপ করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: গাড়িতে গুলির টুকরো, দমদমে তরুণের রহস্য মৃত্যু, পিছনে ত্রিকোণ প্রেম?

অন্য দিকে, গ্রাহকেরা সচেতন করতেও উদ্যোগী হয়েছ কলকাতা পুলিশ। কারও কাছে যদি ব্যাঙ্ক থেকে পাঠানো এমন এসএমএস আসে, তা হলে নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কের শাখায় যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। এ ছাড়া কলকাতা পুলিশ একটি মোবাইল নম্বরও চালু করেছে। তা হল— ৮৫৮৫০৬৩১০৪।

গ্রাফিক— শৌভিক দেবনাথ 

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের দু’টি এসএমএস পাঠানো হচ্ছে এসবিআই-এর নামে। একটি এসএমএস-এ বলা হচ্ছে আপনার ইনকাম ট্যাক্স রিফান্ড করা হবে। আপনার অ্যাকাউন্টটি সঠিক তো? আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ইনফর্মেশন আপডেট করুন লিঙ্কের মাধ্যমে। আবার অন্য একটি এসএমএস-এ আপনার এসবিআই অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ডডেন্ট। ভুল সই করার জন্যে। চাল করার জন্যে এসবিআই অনলাইনের মাধ্যমে যাচাই করে নিন। নীচে লিঙ্ক দেওয়া রয়েছে। এসএমএস দেখলে একেবারেই বোঝার উপায় নেই এটি প্রতারকদের পাঠানো। এসবিআই-এর নামে এই ধরনের এসএমএস পাঠানো হলেও, অন্য যে কোনও ব্যাঙ্কের নামে এমন করা হতে পারে। তাই গ্রাহকদের সচেতন করার উপরেই জোর দিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। 

আরও পড়ুন: ‘যেখানে পেতাম মারতাম’! ৫ তারিখ থেকেই তক্কে তক্কে ছিল উৎপল, ব্যাগেই থাকত হাঁসুয়া