অগস্টে বকরি ইদের পরেই বিয়ের দিন ঠিক হয়েছিল জিনাত এবং আলি আকবরের। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় আলির। হবু স্বামীর মৃত্যুর শোক সামলাতে না পেরে আলির মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আত্মহত্যা করলেন জিনাত। তার আগে বন্ধুদের হোয়াটসঅ্যাপ করে জানালেন ‘গুড বাই’।

ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার বন্দর এলাকার একবালপুরে। বছর কুড়ির জিনাতের বাড়ি একবালপুর থানার ভূকৈলাশ রোডে। ১১ বছরের ভাইয়ের সঙ্গে একই ঘরে থাকতেন জিনাত। বুধবার সকালে ভাই ঘুম থেকে উঠে দেখতে পায়, বিছানার উপর সিলিং পাখা থেকে দিদির প্রাণহীন দেহটা ঝুলছে। নিজেরই দোপাট্টার ফাঁস গলায়।

ছেলের চিৎকারে পাশের ঘর থেকে আসেন জিনাতের মা। খবর পেয়ে আসেন এলাকার মানুষ, প্রতিবেশীরাও। খবর যায় একবালপুর থানায়। পুলিশ এসে দেহ নামিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায় এসএসকেএম হাসপাতালে।

আরও পড়ুন: পাটুলিতে বৃদ্ধের দেহ কলাবাগানে, পুলিশের অনুমান ছাদ থেকে ঝাঁপ

আরও পড়ুন: কলকাতা বিমানবন্দরে হাইড্রোলিক সাকশানে মাথা আটকে মৃত্যু? অভিযোগ অস্বীকার কর্তৃপক্ষের

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে আলি আকবরের কথা। গত বছর দুয়েক ধরে জিনাত এবং আলির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক।জিনাতের বন্ধুদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, তাঁদের সঙ্গে বেশ কয়েক বার আলি এবং জিনাত দেখা করেছেন। ফোনে, হোয়াটস্‌অ্যাপে নিয়মিত কথা বার্তা হত জিনাত ও আলির।

কয়েক বছর আগে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর পড়াশোনা বন্ধ করেছিলেন জিনাত। তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে আগেই। কয়েক মাস আগেই পাশের হোসেন শাহ রোডের বাসিন্দা আলি আকবর ওরফে রাহুলের সঙ্গে বিয়ের কথা পাকা হয়। ঠিক হয় আগামী অগস্টে বকরি ইদের পরেই বিয়ে হবে। 

কিন্তু গত রবিবার রাতে বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয় আলি। তাঁকে ভর্তি করা হয় এসএসকেএমে। বুধবার রাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবরটা পৌঁছয় জিনাতের কাছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, বুধবার রাতে আলির এক বন্ধুকে ফোন করে ওই মৃত্যুর খবর সঠিক কি না তা নিশ্চিত হয় জিনাত। বন্ধুদের কাছ থেকে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই অবসাদে ভুগছিলেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে খবর, আলির মৃত্যুর খবর জানার পরই শাহিন নামে এক বান্ধবীকে হোয়াটস্অ্যাপ করেন জিনাত। তাঁকে তিনি লেখেন, ‘‘রাহুলের মৃত্যুর পর আমার বেঁচে থাকার কী মানে? আমিও মরব।” স্থানীয় সূত্রে খবর, বন্ধুরা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অন্য এক বান্ধবীকে রাত ৩টে ৩৯ এবং ৩টে ৪০-এ পর পর দু’টি মেসেজ করেন জিনাত। তাতে লেখা— ‘গুড বাই।’

তদন্তকারীদের অনুমান, আলির মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি জিনাত। সেই অবসাদ থেকেই আত্মহত্যা। মোবাইলের মেসেজের সময় থেকে পুলিশের ধারণা ভোর রাতেই গলায় ফাঁস দিয়েছেন তিনি।

যখন গোটা ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে তখন ময়নাতদন্তের জন্য এসএসকেএমের মর্গে পাশাপাশি অপেক্ষা করছে জিনাত আর আলির দেহ।