কেউ বলছেন, এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ। কারও অভিযোগ, স্থানীয় স্কুলের মানোন্নয়নে তেমন নজর দেওয়া হয়নি। বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে বীরসিংহ গ্রামে এখনও কেন কলেজ হল না, সেই আক্ষেপও করছেন অনেকে।

চলতি বছরেই বিদ্যাসাগরের দু’শো তম জন্মবার্ষিকী সাড়ম্বরে পালনের জন্য তৈরি হয়েছে কমিটি। এলাকার লোকজনের এই কমিটির কাছে প্রত্যাশা অনেক। তাঁদের আশা, সবদিক দেখে কমিটি নিশ্চয় গ্রামের উন্নয়নে উদ্যোগী হবে।  

এলাকার বাসিন্দাদের আক্ষেপ, বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে হলেও বীরসিংহ গ্রাম সে ভাবে সাজানো হয়নি। এলাকায় ঘুরে জানা গেল, বীরসিংহ এসে রাত কাটানোর জন্য গেস্ট হাউস তৈরি হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেটি বেহাল। অভিযোগ, সেখানে রাত কাটানো দূর, দিনের বেলাতেও বিশ্রাম নেওয়ার জন্য ওই গেস্ট হাউসের কথা ভাবা যায় না। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষে কোটি টাকা খরচ করে বাস টার্মিনাস তৈরি হলেও সেখানে বাস ঢোকেনি। বাসস্ট্যান্ডের দেওয়ালে ঘুঁটে দেন এলাকার মহিলারা। রাতে অসামাজিক কাযর্কলাপ হয় বলেও এলাকাবাসীর দাবি। কারিগরি বিদ্যালয়টির অবস্থাও তথৈবচ। স্থায়ী শিক্ষক নেই। প্রচারও নেই। তাই পড়ুয়ারও অভাব রয়েছে।

পরিকাঠামোগত নানা সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দির। জন্মস্থান লাগোয়া এলাকাটি সাজানো হয়নি। গ্রামে পার্ক কিংবা রাস্তাঘাটের হালও তেমন ভাল নয়। বাসের সংখ্যা কম। ভরসা টোটো।

এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, সেই ১৯৯২ সাল থেকে মেলা দেখছি। মেলায় এসেছেন বহু নেতা-আমলা। প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। তবে সে বাবে কাজ কিছুই হয়নি। স্থানীয়দের আবেদন, বিদ্যাসাগরের জন্মস্থানে মেলা হোক। তবে পরিকাঠামো, শিক্ষা- এ সবের দিকে নজর দেওয়া হোক। বিদ্যাসাগরের দু’শো তম জন্মদিনের আগে এই ছবি বদলাতে প্রশাসনের সক্রিয় উদ্যোগ দেখতে চান স্থানীয়দের অনেকেই। তাঁরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, বীরসিংহ এলাকায় মূলত তফসিলি জাতি, উপজাতি মানুষের সংখ্যা বেশি। অনেক বাড়িতেই নেই শৌচালয়। নিরক্ষর লোকের সংখ্যাও কম নয়। ফলে এলাকাবাসীর আর্জি, পরিকাঠামো উন্নত করে সার্বিক সচেতনতায় নজর দেওয়া হোক। তাতেই বিদ্যাসাগরের প্রতি যথার্থ সম্মান জানানো হবে। 

ঘাটালের বিধায়ক শঙ্কর দোলইও মানছেন, “পরিকাঠামোয় খামতি রয়েছে। বীরসিংহ নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী ভাবছেন। দ্রুত মহিলা কলেজ-সহ সার্বিক উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে।” ঘাটালের মহকুমাশাসক পিনাকিরঞ্জন প্রধান বলেন, “বীরসিংহ গ্রামের পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্য সরকার উদ্যোগী। প্রশাসনিক ভাবে সমস্ত তথ্য পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই স্মৃতি মন্দির, গ্রন্থাগারের উন্নয়ন হয়েছে।”