চল্লিশ পেরোলে শুধু শরীরের যত্ন নয়, খেয়াল রাখতে হবে মস্তিষ্কেরও। ওই বয়সে পৌঁছে হরমোনের গোলমাল হওয়া স্বাভাবিক। মনমেজাজ বদলে যাবে মাঝেমধ্যেই। তার উপর রজোনিবৃত্তির ধাক্কাও আছে। সবটা সামলাতে সামলাতে কখন যে স্মৃতির পাতা ধূসর হয়ে আসবে, তা টের পাওয়াও যাবে না। চল্লিশের পরে মহিলাদের শরীরে অনেক বদল আসে। বদল আসে মনেও। এই সময়টাতে ভুলে যাওয়া বা 'ব্রেন ফগ'-এর মতো সমস্যাও হতে থাকে, যা ভবিষ্যতে স্মৃতিনাশ বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই এই বয়সে পৌঁছে শরীরের যত্ন নিতে যা যা জরুরি, তার মধ্যে একটি হল ‘ব্রেন ডায়েট’। খাওয়াদাওয়ার এমন এক পদ্ধতি, যা ভাল রাখবে শরীর এবং চাঙ্গা করবে স্মৃতিশক্তিকেও।
বয়স চল্লিশের কোঠা পেরোলে মহিলাদের শরীরের অন্যন্ত গুরত্বপূর্ণ হরমোন ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমতে শুরু করে যার সরাসরি প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাস অংশে। এই অংশটিই আবার স্মৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে মনোযোগ কমে যাওয়া বা মেজাজ খিটখিটে হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে 'ব্রেন ডায়েট' মেনে চললে এ সব সমস্যা তেমন ভাবে ভোগাবে না।
কী এই ‘ব্রেন ডায়েট’?
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে খাওয়াদাওয়ার এক বিশেষ ধরনের কথা বলছেন গবেষকেরা। ‘জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে লেখা হয়েছে, ব্রেন ডায়েট মানে হল মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতে পারে, এমন কিছু খাবার। এই ধরনের ডায়েট মধ্যবয়সি মহিলাদের জন্যই বেশি জরুরি। কী কী থাকবে ডায়েটে? ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে, এমন খাবার রাখতেই হবে, যেমন চর্বিযুক্ত মাছ (ইলিশ, পমফ্রেটের মতো মাছ), তিসির বীজ, আখরোট-কাঠবাদাম ইত্যাদি।
আরও পড়ুন:
আবার বেরি জাতীয় ফল খেতে হবে। এ দেশে ব্লুবেরি বা স্ট্রবেরি তেমন সহজলভ্য নয়। তাই কালোজাম বা বেদানা খাওয়া যেতে পারে। এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে, যা মস্তিষ্ককে বুড়িয়ে যেতে দেয় না এবং স্মৃতিশক্তি প্রখর করে।
পালংশাক, সবুজ সব্জি ও শাকপাতা, ব্রকোলিতে থাকে ভিটামিন-কে, লুটেন এবং ফোলেট। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত সবুজ শাকসব্জি খেলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে এবং হরমোনের গোলমাল কম হয়।
এই সময় ব্রেন ডায়েটের পাশাপাশি ফাইটো-ইস্ট্রোজেন সমৃদ্ধ খাবার, যেমন পনির, সয়াবিন, তিলও খেতে হবে। এগুলি হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং রজোনিবৃত্তির সময়কালে 'হট ফ্ল্যাশ' বা শরীরের তাপমাত্রার হঠাৎ বদলকে রুখে দিতে পারে।
পাতে কী থাকবে?
সকালে খালি পেটে এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জলে লেবর রস মিশিয়ে খেতে পারেন। অথবা মেথি-মৌরি ভেজানো ডিটক্স পানীয় দিয়ে দিন শুরু করুন। প্রাতরাশে রাখতে পারেন ওট্সের চিলা, ডালিয়ার খিচুড়ি, কিনোয়ার স্যালাড বা ডিম-সব্জি দিয়ে তৈরি অমলেট।
দুপুরে ভাতের পরিমাণ কমিয়ে সব্জির পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। রোজের পাতে পালংশাক বা সব রকম সব্জি মেশানো তরকারি রাখতেই হবে। প্রোটিন হিসেবে ছোট মাছ বা সামুদ্রিক মাছ (ইলিশ, পাবদা, পমফ্রেট) রাখা যেতে পারে। রান্নায় সর্ষের তেলের বদলে মাঝে মাঝে অলিভ অয়েল বা তিলের তেল ব্যবহার করতে পারেন। শেষ পাতে দই রাখতে হবে।
ভাজাভুজি বা বিস্কুটের বদলে বিকেলের খাবারে একমুঠো কাঠবাদাম ও আখরোট মিশিয়ে খান। সঙ্গে চিনি ছাড়া গ্রিন টি বা ভেষজ চা। গ্রিন-টির অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট মানসিক চাপ কমাতে পারে।
রাতের খাবার হবে হালকা। রুটির সঙ্গে ডাল ও এক বাটি সব্জি। রাতে কার্বোহাইড্রেট খেতে না চাইলে সব্জির স্যালাড ও স্যুপ খেতে পারেন। সঙ্গে গ্রিল্ড ফিশ বা গ্রিল্ড চিকেনও চলবে। ঘুমোনোর আগে এক গ্লাস গরম দুধে এক চিমটে হলুদ মিশিয়ে খেতে পারেন, যা মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাবে।