প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সরিয়ে রেখে পাকিস্তানের শিল্পপতিদের সঙ্গে রুদ্ধ-দ্বার বৈঠক করলেন পাক সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া। সেই আলোচনায় উঠে এল দেশের আর্থিক ঘাটতি, দুর্নীতির সমস্যা, প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নি কমে আসার মতো বিষয়। পাকিস্তানের মতো দেশে, যেখানে বারবার সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ওই বৈঠক ঘিরে তুমুল জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। কূটনীতিকদের ভিতরে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি নীরব সামরিক অভ্যুত্থানের পথে হাঁটতে চলেছে পাকিস্তান? 

পাকিস্তানের ইতিহাস বলছে, সেখানে সামরিক বাহিনী অনেক সময়েই সরকারের চেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছে। তা ছাড়া, জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়ে ইমরান এখন নিজঘরেই বিরোধের মুখে। এই পরিস্থিতিতে সে দেশের অর্থনীতির বেহাল দশা নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। 

করাচি ও রাওয়ালপিন্ডির সামরিক দফতরে এ বছরে এমন তিনটি বৈঠক ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে বলে একটি সূত্রে দাবি। সূত্রটি জানিয়েছে, বৈঠকে বাজওয়া শিল্প মহলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে প্রশ্ন করেছেন, কী ভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায় এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা যায়। বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি দ্রুত কার্যকর করতে নির্দেশও পৌঁছেছে সরকারি শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে। 

এই বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্তব্য করতে চাননি সেনা মুখপাত্র আসিফ গফুর। যদিও গত কাল পাক সেনাবাহিনী এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বুধবার বাজওয়া শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু শিল্পপতি ও আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বিবৃতিতে বাজওয়া বলেছেন, ‘‘অর্থনীতির সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।’’

বেহাল অর্থনীতির প্রভাব পড়েছে পাক সেনাবাহিনীতে। এক দশকের মধ্যে এই প্রথম ২০২০-র আর্থিক বর্ষে প্রতিরক্ষা খাতে কোনও বৃদ্ধিই হয়নি। সামরিক প্রধানের ভূমিকাকে পাকিস্তানের শিল্পপতি এবং আর্থিক উপদেষ্টারা স্বাগত জানিয়েছেন 

বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের অনেকেরই দাবি, ব্যবসায়ীরা ইমরানের দলকে ততটা যোগ্য মনে করছেন না। তবে অনেকের মতে, সেনার গুরুত্ব বেড়ে গেলে পাকিস্তানে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। 

বাজওয়ার এই বৈঠককে অবশ্য ততটা গুরুত্ব দিতে চাইছে না পাক অর্থ মন্ত্রক। মন্ত্রকের মুখপাত্র ওমর হামিদ খান বলেছেন, ‘‘অর্থনীতি নিয়ে সেনাপ্রধানের ধারণা থাকতেই পারে। তবে আমাদের মনে হচ্ছে না, এ ক্ষেত্রে কোনও ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ ঘটেছে। ওরা ওদের মতো কাজ করছে, সরকার সরকারের মতো।’’ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এর আগে প্রকাশ্যে বলেছেন, সেনার সঙ্গে তাঁর সরকারের কাজ করতে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না।’’ তিনিই ৫৮ বছর বয়সি বাজওয়াকে গত অগস্টে আরও তিন বছরের জন্য পদে বহাল রেখেছেন। বাজওয়া প্রাথমিক ভাবে দায়িত্বের মেয়াদবৃদ্ধিতে আগ্রহী ছিলেন না। তবে শাসক দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা নাকি ইমরানকে বোঝান, বাজওয়াকে রেখে দেওয়া কেন জরুরি— জানিয়েছেন সেনা মুখপাত্র আসিফ গফুর।