আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনের গোপন ডেরা খুঁজে বার করতে আমেরিকাকে সাহায্য করেছিল পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের এমন দাবিকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। দু’দিন আগে মার্কিন সফরে গিয়েছেন ইমরান। সেখানেই সোমবার এক সাক্ষাত্কারে এমন দাবি করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

ইমরানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে চিকিত্সকের জন্য লাদেনের খোঁজ পেয়েছিল আমেরিকা, সেই শাকিল আফ্রিদিকে কি পাকিস্তান মুক্তি দেবে?  চিকিত্সককে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন ইমরান। শুধু বলেছেন, ওই চিকিত্সক চরবৃত্তি করেছেন। এর পর আইএসআই-এর প্রসঙ্গ উঠতেই ইমরান লাদেনের প্রসঙ্গ টেনে নিজেদের কৃতিত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করেন। বলেন, “লাদেনের সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিল পাক গোয়েন্দা সংস্থাই। এ ব্যাপারে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।”

লাদেন হত্যার আগে বার বারই পাকিস্তান দাবি করেছিল আল কায়দা নেতা সম্পর্কে তারা কিছু জানে না। শুধু তাই নয়, লাদেন যে সে দেশে আছে সে কথাও অস্বীকার করেছিল তত্কালীন পাক সরকার। প্রশ্ন উঠছে, তা হলে হঠাত্ এখন কেন এ কথা বলছেন ইমরান? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে পাকিস্তান। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করতে বার বার আমেরিকার চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে লাদেনের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে ইমরান এর মধ্যে দিয়ে  এই বার্তাও দিতে চেয়েছেন যে, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে তাঁরা প্রথম থেকেই কড়া পদক্ষেপ করছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইএসআই-এর কৃতিত্ব গেয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা করলেন ঠিকই, কিন্তু পরোক্ষে নিজের দেশকেই বিপদের মুখে ঠেললেন ইমরান।

এক দিকে, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে চাইছে পাকিস্তান। কিন্তু সেই আমেরিকায় বসেই আইএসআই-এর কৃতিত্বকে তুলে ধরতে সিআইএ-র ভূমিকাকে খাটো পাকিস্তানের অস্বস্তি আরও বাড়ালেন বলে মত বিশেষজ্ঞদের। দু’দেশের সম্পর্কের মধ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: মধ্যস্থতা বিতর্কে উত্তাল সংসদ, মোদী এমন অনুরোধ করেননি ট্রাম্পকে, বিবৃতি কেন্দ্রের

আরও পড়ুন: অন্ধ্রপ্রদেশে এ বার বেসরকারি চাকরির ৭৫ শতাংশই ভূমিপুত্রদের জন্য