গত নভেম্বরের ঘটনা। দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি লিগে কিছু সময়ের জন্য সোয়ানে স্পার্টান্স দলের হয়ে খেলতে গিয়েছিলেন অইন মর্গ্যান। আর তার পরেই রাতারাতি পাল্টে গিয়েছিল তাঁর ক্রিকেটদর্শন।

আর সদ্য বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড অধিনায়কের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে ফেলার নেপথ্যের কারিগর ছিলেন এ বি ডিভিলিয়ার্স। সেই সময়ে স্পার্টান দলের হয়েই খেলছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন তারকা। তখনই একান্তে দুই সতীর্থের কথাবার্তা হয়েছিল, যার কেন্দ্রে ছিল বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডের এক সংবাদপত্রে সেই গোপন কাহিনি ফাঁস করেছেন ফ্যাফ ডুপ্লেসিদের প্রাক্তন সতীর্থ। এবি বলেছেন, ‘‘একদিন আমরা দু’জনে গল্‌ফ খেলতে গিয়েছিলাম। খেলার ফাঁকেই উঠে আসে ক্রিকেটের প্রসঙ্গ। বিশেষ করে, যে-হেতু ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ, তাই মর্গ্যান বেশ চাপে ছিল। আমি অস্বস্তি কাটিয়ে দিয়েছিলাম।’’

কী সেই পরামর্শ? এবি বলেছেন, ‘‘মূলত আমাদের কথাবার্তা শুরু হয় নেতৃত্বের চাপ নিয়ে। বিশ্বকাপের আগে সেই চাপটা আরও যেন বেশি করে অনুভব করছিল মর্গ্যান। আমি তখন ওকে নিজের অধিনায়কত্বের সময়ের বেশ কিছু গল্প বলেছিলাম। ওকে বলেছিলাম, এই চাপটা স্বাভাবিক। দেখতে হবে, তুমি কী ভাবে তা সামলে উঠতে পারছ। মর্গ্যান আমার বক্তব্যের নির্যাস যে ধরতে পেরেছিল, সেটা তো এখন গোটা বিশ্ব জেনে গিয়েছে।’’ এবি-র আরও সংযোজন, ‘‘আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, ওর এই অভাবনীয় সাফল্যের সঙ্গে আমিও যুক্ত ছিলাম।’’

গত রবিবার মর্গ্যান লর্ডসের বাইশ গজে যখন কাপের যুদ্ধ চালাচ্ছেন, সেই সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজের বাড়িতে বসে এবি টিভির রিমোট ঘুরিয়ে পালা করে দেখছিলেন টেনিস এবং ক্রিকেট। তিনি বলেছেন, ‘‘রজার ফেডেরার আমার প্রিয় তারকা। ওর উইম্বলডন ফাইনালটা কোনও ভাবেই মিস করতে চাইছিলাম না।’’ কিন্তু তারই মধ্যে ইংল্যান্ডের ২৪১ রানে ইনিংস শেষ হওয়ার খবর আতঙ্ক ধরিয়ে দেয় তাঁর মনে। এবি বলেছেন, ‘‘নিমেষে রিমোট ঘুরিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচে ঢুকে পড়ি। শেষ কয়েক ওভারে ম্যাচের উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে, আমি স্ত্রীকে বলেই ফেলি এখান থেকে ম্যাচ বার করা খুব কঠিন হয়ে যাবে।’’ এবি জানিয়েছেন, লর্ডসের রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল ম্যাচের পরে কেন উইলিয়ামসনের মুখ দেখে তাঁর মনে পড়ে গিয়েছিল চার বছর আগের এক ঘটনা। সেটাও ছিল বিশ্বকাপ। তবে ম্যাচটা ফাইনালের পরিবর্তে ছিল সেমিফাইনাল। তাঁর নেতৃত্বেই পাঁচ রানে নিউজ়িল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার।